তাড়াশ প্রতিনিধি / সিরাজগঞ্জ / দিগন্ত বাংলা নিউজ
দেশের ভূমি অফিসগুলোতে জনসেবা সহজীকরণের লক্ষে সরকারের নানা উদ্যোগ ও নির্দেশনা থাকলেও মাঠপর্যায়ে সেগুলোর সঠিক বাস্তবায়নে নানা জটিলতা ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ প্রায়শই সামনে আসে। এর একটি বাস্তব চিত্র ফুটিয়ে তুলেছে সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ উপজেলা ভূমি অফিস। সরকারি বিভিন্ন সেবা গ্রহণ করতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত নানান ধরনের হয়রানি এবং অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের শিকার হতে হচ্ছে। নামজারি, খাজনা পরিশোধ ও ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন জরুরি কাগজপত্র উত্তোলনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবাগুলো পেতে গিয়ে একশ্রেণির মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালচক্রের খপ্পরে পড়ে সাধারণ সেবাগ্রহীতারা মারাত্মক অর্থনৈতিক ও মানসিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র ও মাঠপর্যায়ের ভুক্তভোগী মানুষের অভিযোগ থেকে জানা যায় যে, তাড়াশ উপজেলা ভূমি অফিস চত্বরে নিয়মিতভাবেই একটি সক্রিয় দালালচক্রের আনাগোনা লক্ষ্য করা যায়। সাধারণ মানুষ যখন জমির নানা জটিল কাজ বা দাপ্তরিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে আসেন, তখন অফিসের নিয়মকানুন ও দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া সম্পর্কে তাদের অজ্ঞতার সুযোগ নেয় এই চক্রটি। খুব দ্রুত ও সহজে কাজ করে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে তারা নিরীহ মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে অতিরিক্ত হাজার হাজার টাকা। অফিস প্রাঙ্গণে দালাল ও প্রকৃত সেবাগ্রহীতাদের অবয়ব একাকার হয়ে থাকায় অনেক সময় সাধারণ মানুষের পক্ষে বহিরাগত এই চক্রটিকে চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী সেবাগ্রহীতা অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে জানান যে, সরকারি বিভিন্ন সেবার জন্য নির্দিষ্ট সরকারি ফি কত এবং কোন প্রক্রিয়ায় তা পরিশোধ করতে হয়, সে সম্পর্কে অধিকাংশগ্রামের মানুষের স্পষ্ট কোনো ধারণা থাকে না। এই অজ্ঞতা ও অসহায়ত্বকে পুঁজি করে স্থানীয় দালালরা নানা কৌশলে তাদের ফাঁদে ফেলে। অফিসের বিভিন্ন টেবিলে কাজ পাইয়ে দেওয়ার নাম করে বাড়তি অর্থ দাবি করা হয় এবং টাকা না দিলে ফাইল আটকে রাখার মতো হয়রানির শিকার হতে হয়। দালালদের এমন বেপরোয়া দৌরাত্ম্যের কারণে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষ সর্বস্বান্ত হচ্ছেন, অন্যদিকে সরকারি ভূমি সেবামূলক কার্যক্রমের সামগ্রিক ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।
আরও পড়ুন: শাহজাদপুরে পিতার লাঠির আঘাতে ৯ মাসের শিশু কন্যার মর্মান্তিক মৃত্যু, পলাতক বাবা
স্থানীয় সচেতন মহল ও ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর মতে, এ ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের নেপথ্যে অফিসের কোনো অসাধু চক্রের যোগসাজশ রয়েছে কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। ভূমি অফিস প্রাঙ্গণে নাগরিক সেবা সহজতর করার জন্য সরকার নির্ধারিত ফি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার নিয়ম এবং সেবা প্রাপ্তির পূর্ণাঙ্গ প্রক্রিয়া বড় সাইনবোর্ডে প্রকাশ্যে প্রদর্শন করা হলে দালালদের দৌরাত্ম্য অনেকাংশেই কমিয়ে আনা সম্ভব হতো। পাশাপাশি অফিস চত্বরে নিয়মিত ও কঠোর প্রশাসনিক নজরদারি জোরদার করা এবং তাৎক্ষণিক অভিযোগ জানানোর একটি কার্যকর হটলাইন বা বক্স ব্যবস্থা চালুর জোরালো দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে যোগাযোগ করা হলে তাড়াশ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সাইফুল ইসলাম সাইফ সংবাদমাধ্যমকে স্পষ্ট ভাষায় জানান, “দালালদের সঠিক তথ্য থাকলে আমাদেরকে দেন। প্রয়োজনে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” সাধারণ মানুষের প্রাণের প্রত্যাশা হলো, দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তি ও দালালরাজ থেকে মুক্তি পেয়ে ভূমি সংক্রান্ত সকল সরকারি সেবা সম্পূর্ণ হয়রানিমুক্ত ও স্বচ্ছ হোক। দালালচক্রের বিরুদ্ধে প্রশাসন আরও কঠোর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে এবং সরকারি সেবার ওপর জনগণের আস্থা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে বিশ্বাস সংশ্লিষ্টদের।
এস.এইচ
আরও পড়ুন: দিনমজুরের অভাবের সংসার জয় করে বিসিএস প্রশাসন ক্যাডার হলেন সিরাজগঞ্জের রনি

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।