ঢাকা প্রতিনিধি / ঢাকা / দিগন্ত বাংলা নিউজ
দেশের শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা জোরদার করার লক্ষ্যে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি বা ইপিআইয়ের সার্বিক কার্যক্রমের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজধানী ঢাকার সচিবালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দেশের স্বাস্থ্যখাতের নীতিনির্ধারক ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিভিন্ন স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধিরা এক টেবিলে মিলিত হন। টিকাদান কার্যক্রমে অর্জিত পূর্ববর্তী সাফল্যগুলোর মূল্যায়ন এবং মাঠপর্যায়ে বিদ্যমান বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই সভার আয়োজন করা হয়, যা দেশের সামগ্রিক জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
আরও পড়ুন: ভিআইপি লাউঞ্জ অপব্যবহার ও কর্মস্থল ত্যাগের অভিযোগে অতিরিক্ত ডিআইজি টুটুল চক্রবর্তী বরখাস্ত
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সচিবালয়স্থ সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ ও ফলপ্রসূ পর্যালোচনা সভার সভাপতিত্ব করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মানিত প্রতিমন্ত্রী ডা. এম. এ. মুহিত এমপি। দেশের স্বাস্থ্যখাতের গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং টিকাদান কার্যক্রমের পরিধি আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্যে আয়োজিত এই বৈঠকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা সশরীরে উপস্থিত থেকে নিজেদের মতামত ও প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন।
এই পর্যালোচনা সভায় শুধু দেশীয় নীতিনির্ধারকরাই নন, বরং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা ডব্লিউএইচও, আন্তর্জাতিক শিশু তহবিল বা ইউনিসেফ, গ্যাভী, এবং ইউএসসিডিসি-এর মতো বিশ্বখ্যাত ও প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক সহযোগী সংস্থার উর্ধ্বতন প্রতিনিধি এবং জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। সরকারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক এই অংশীজনদের উপস্থিতি টিকাদান কার্যক্রমের স্বচ্ছতা, গুণগত মান এবং আধুনিক প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী মেলবন্ধন তৈরি করেছে বলে সভায় মত প্রকাশ করা হয়।
আরও পড়ুন: আন্দোলন শুরুর আগেই মোদি পরাজয় মেনে নিয়েছেন: অভিজিৎ দীপকে
সভার মূল আলোচ্য বিষয়বস্তুর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল বর্তমান সময়ে ইপিআই কর্মসূচির সামগ্রিক অগ্রগতি পর্যালোচনা, মাঠপর্যায়ে ভ্যাকসিন সরবরাহ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং দেশের প্রতিটি প্রান্তের শিশুদের শতভাগ টিকাদানের আওতায় নিয়ে আসার সুনির্দিষ্ট কৌশল নির্ধারণ। বিশেষ করে জন্মলগ্ন থেকে নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত শিশুদের জীবন রক্ষাকারী বিভিন্ন টিকার প্রাপ্যতা শতভাগ নিশ্চিত করা এবং কোনো শিশুই যেন টিকাদান কর্মসূচির বাইরে না থাকে, সে বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়। পাশাপাশি টিকাদান কেন্দ্রগুলোর ব্যবস্থাপনা আরও জনবান্ধব ও কার্যকর করার ওপরও বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে বক্তারা ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন যে, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার মূল ভিত্তি হলো একটি শক্তিশালী ও সুসংহত প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থা। আর এই ব্যবস্থার সবচেয়ে সফল হাতিয়ার হলো সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি। সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহযোগী সংস্থাগুলোর সম্মিলিত ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই কেবল এই কর্মসূচিকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম. এ. মুহিত সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করার আহ্বান জানান।
পরিশেষে, এই উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা সভার মাধ্যমে গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ এবং তা বাস্তবায়নের রূপরেখা দেশের ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্যখাতে একটি সুদূরপ্রসারী ও ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। দেশের প্রতিটি শিশু যেন আধুনিক ও মানসম্মত টিকাদান সুবিধার সুফল ভোগ করতে পারে এবং একটি সুস্থ-সবল জাতি গঠনে এই কর্মসূচি যেন যুগান্তকারী ভূমিকা রাখতে পারে, সে লক্ষ্যেই সরকার ও সহযোগী সংস্থাগুলো একযোগে কাজ করে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।
এস.এইচ
আরও পড়ুন: শাহজাদপুরে ড. এম এ মতিন স্মৃতি পানসি নৌকা বাইচের ফাইনাল অনুষ্ঠিত, চ্যাম্পিয়ন বন্যা কান্দি

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।