ফেনী প্রতিনিধি / ফেনী / দিগন্ত বাংলা নিউজ
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উৎসব সম্পূর্ণ নিরাপদ ও শান্তিশৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে অত্যন্ত কঠোর ও সুস্পষ্ট বার্তা প্রদান করা হয়েছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় এই ধর্মীয় উৎসব চলাকালীন যেকোনো ধরনের অনৈতিক কার্যক্রম বা বিশৃঙ্খলা রোধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছে প্রশাসন। বিশেষ করে পূজার আনন্দকে ম্লান করতে কেউ যাতে মাদক সেবন বা উচ্ছৃঙ্খল আচরণে লিপ্ত হতে না পারে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক অবস্থান নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রস্তুতিমূলক সভায় এই কঠোর অবস্থানের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরা হয়।
আরও পড়ুন: রায়গঞ্জে ৯৩টি পূজামণ্ডপে চালের ডিও ও এমপির নগদ সহায়তা বিতরণ
গত মঙ্গলবার বিকেলে ফেনী জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে শারদীয় দুর্গাপূজা উদ্যাপন উপলক্ষে একটি বিশেষ প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। ফেনীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবউল করিমের সভাপতিত্বে আয়োজিত ওই সভায় জেলার বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানগণ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা ও পূজা উদ্যাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভায় পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার নানা দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এ সময় প্রধান বক্তা ও বিশেষ অতিথিদের বক্তব্যে পূজার পবিত্রতা রক্ষা এবং যেকোনো অপ্রিয় পরিস্থিতি কঠোরভাবে দমনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
সভায় সীমান্তবর্তী জেলা হিসেবে ফেনীর ভৌগোলিক অবস্থানগত ঝুঁকি এবং মাদকের সহজলভ্যতার বিষয়টি তুলে ধরে কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন ফেনী জেলা পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার। পূজাকে কেন্দ্র করে কেউ যাতে আইন লঙ্ঘন না করে, সে বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, ‘ফেনী সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় এখানে মদ পাওয়া তুলনামূলক সহজলভ্য। তবে পূজার পবিত্রতা বা শান্তিশৃঙ্খলা নষ্ট করে কেউ যদি মদ খেয়ে নাচানাচি বা মাতলামি করে, তবে তাকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। পুলিশ তাকে ঘাড়ে ধরে নিয়ে আসবে। আমাদের নিয়োজিত মেডিকেল টিমের কাছে নিয়ে গিয়ে পেট ওয়াশ করানো হবে এবং তাৎক্ষণিক যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ পুলিশ সুপারের এই কঠোর বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
আরও পড়ুন: শাহজাদপুরে যুবদলের দুই নেতার পদ স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের দাবি তৃণমূল নেতাকর্মীদের
পুলিশ সুপার জানান, গুটিকয়েক ব্যক্তির দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের কারণে পুরো পরিবেশ নষ্ট হয় এবং অন্যরাও বিশৃঙ্খলায় জড়ানোর সুযোগ পায়। তাই এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রারম্ভেই কঠোর হাতে দমন করা হবে। শহরকেন্দ্রিক গুরুত্বপূর্ণ মণ্ডপের পাশাপাশি প্রতিটি মণ্ডপে বিশেষ নজরদারি বজায় রাখা হবে। চট্টগ্রাম বিভাগের মধ্যে ফেনীর বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সন্তোষজনক উল্লেখ করে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, যেকোনো পরিচয়ের বিশৃঙ্খলাকারীদের বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ আল আমিন সরকার, জেলা পরিষদের প্রশাসক এম এ খালেক, বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসিবুল ইসলাম ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফাতিমা সুলতানা।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ফেনী জেলার ছয়টি উপজেলায় এবার মোট ১৫৩টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যা গতবারের তুলনায় তিনটি বেশি। এর মধ্যে ফেনী সদরে ৬৫টি, ফুলগাজীতে ৩৪টি, সোনাগাজীতে ২৩টি, দাগনভূঞায় ১৯টি, পরশুরামে ৭টি এবং ছাগলনাইয়ায় ৫টি মণ্ডপে পূজা উদযাপিত হবে। মণ্ডপগুলোর নিরাপত্তায় পুলিশ, আনসার ও বিজিবির যৌথ টহলের পাশাপাশি নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক নিয়োজিত থাকবে এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় কন্ট্রোল রুম খোলা রাখা হয়েছে। পুলিশের এমন কঠোর ও সময়োপযোগী পদক্ষেপে উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় পূজা কমিটির নেতারা।
এস.এইচ
আরও পড়ুন: প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন ও সিস্টেম মাইগ্রেশন: ৬ দিন দেশের ১৯ ব্যাংকের কার্ড ও এটিএম সেবা বন্ধ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।