সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে অবৈধভাবে সার গুদামজাতের অভিযোগে জামায়াত নেতাসহ জরিমানা ও সার জব্দ

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে অবৈধভাবে সার গুদামজাতের অভিযোগে জামায়াত নেতাসহ জরিমানা ও সার জব্দ

কামারখন্দ প্রতিনিধি / সিরাজগঞ্জ / দিগন্ত বাংলা নিউজ

সিরাজগঞ্জ জেলার কামারখন্দ উপজেলায় সরকারি আইন অমান্য করে অবৈধ পন্থায় ও নিয়মবহির্ভূতভাবে সার গুদামজাত এবং কৃত্রিম সংকট তৈরির অপচেষ্টার অভিযোগে এক স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকে অর্থদণ্ড প্রদান করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তির অবৈধভাবে মজুদকৃত গুদাম থেকে বিপুল পরিমাণ ইউরিয়া সার জব্দ করা হয়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় সাধারণ কৃষকদের মাঝে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং কৃষি উপকরণের অবৈধ মজুদ রোধে প্রশাসনের এমন তাৎক্ষণিক ও কঠোর পদক্ষেপকে সচেতন মহল অত্যন্ত যুগোপযোগী বলে প্রশংসা করেছেন।

প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত বিস্তারিত বিবরণে জানা যায় যে, গত বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে সিরাজগঞ্জ জেলার কামারখন্দ উপজেলার ভদ্রঘাট ইউনিয়নের অধীন ছোট ধোপাকান্দি গ্রামে এই বিশেষ অভিযানটি পরিচালিত হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত ও অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম মো. মনিরুল ইসলাম (৪৫)। তিনি ছোট ধোপাকান্দি গ্রামের মৃত আব্দুর রশিদের পুত্র এবং কামারখন্দ উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির-২ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। স্থানীয় কৃষকদের সার প্রাপ্তিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি এবং অবৈধভাবে সার মজুদের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।

ঘটনার নেপথ্যের প্রেক্ষাপট সম্পর্কে জানা যায় যে, বৃহস্পতিবার রাতে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার মাধ্যমে প্রায় কুড়ি থেকে পঁচিশ বস্তা সার অত্যন্ত গোপনীয়তায় একটি স্থানীয় গুদামে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। বিষয়টি স্থানীয় এলাকাবাসীর নজরে আসলে তাদের মনে তীব্র সন্দেহের উদ্রেক হয় এবং তারা তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করেন। সাধারণ মানুষের দেওয়া সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সার্বিক দিকনির্দেশনায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুন দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং সেখানে একটি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।

অভিযান চলাকালীন পরিচালিত তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬-এর ১২ ধারার বিধান অনুযায়ী নিয়মবহির্ভূতভাবে ও অননুমোদিত পন্থায় সার মজুদের অপরাধে অভিযুক্ত মনিরুল ইসলামকে নগদ ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া তার অবৈধ গুদাম তল্লাশি করে সেখান থেকে মোট ১৮ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ করে সরকারি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। জনস্বার্থে এবং কৃষকদের স্বার্থ সুরক্ষায় এ ধরনের অবৈধ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

উক্ত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও অভিযানকালে প্রশাসনের অন্যান্য দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গও উপস্থিত ছিলেন। এ সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ফরিদ হোসাইন এবং কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাশমত আলীসহ একদল পুলিশ সদস্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেন। কৃষিজমি ও সারের সঠিক সরবরাহ নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনের এমন নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর আইনি পদক্ষেপ অত্যন্ত ফলপ্রসূ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এস.এইচ

আরও পড়ুন: ফরিদপুরে সন্তানকে ফাঁসে ঝুলিয়ে হত্যার চেষ্টার ভিডিও ভাইরাল, মা আটক ও দুই শিশু হেফাজতে

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন