শাহজাদপুরে র‍্যাবের অভিযান: ১৩৮ বোতল ফেনসিডিলসহ আটক ১

শাহজাদপুরে র‍্যাবের অভিযান: ১৩৮ বোতল ফেনসিডিলসহ আটক ১

মাদকের বিরুদ্ধে র‍্যাবের বড় সাফল্য: শাহজাদপুরে বিপুল পরিমাণ ফেনসিডিলসহ কারবারি গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক, দিগন্ত বাংলা নিউজ

​সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলায় মাদকের নীল দংশন থেকে যুবসমাজকে রক্ষা করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা আরও জোরদার হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় র‍্যাব-১২ এর একটি চৌকস দল বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ফেনসিডিলসহ এক চিহ্নিত মাদক কারবারিকে হাতেনাতে গ্রেফতার করেছে। রোববার (১১ মে, ২০২৬) রাতে শাহজাদপুর পৌর এলাকার রূপপুর নতুনপাড়ায় এই সফল অভিযান পরিচালিত হয়।

​অভিযানের বিস্তারিত ও নেতৃত্ব

​র‍্যাব-১২ সদর কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শাহজাদপুর পৌর এলাকায় মাদকের একটি বড় চালান হাতবদল হচ্ছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতে র‍্যাবের একটি বিশেষ দল অভিযানে নামে। রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে রূপপুর নতুনপাড়া এলাকায় এই ঝটিকা অভিযান চালানো হয়।

​অভিযানে নেতৃত্ব দেন র‍্যাব-১২ এর ডিএডি মোহাম্মদ শফিকামাল। তার সাথে আভিযানিক দলে আরও উপস্থিত ছিলেন এসআই সাব্বির আরাফাত জনি, সার্জেন্ট মো. খোরশেদ আলম, ল্যান্স নায়েক জিয়াউর রহমান এবং সিপাহী মো. রাশেদুল হক। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই সম্মিলিত ও পরিকল্পিত তৎপরতায় মাদক কারবারিরা পালানোর কোনো সুযোগ পায়নি।

​গ্রেফতারকৃতের পরিচয় ও উদ্ধারকৃত মাদক

​অভিযান চলাকালে র‍্যাব সদস্যরা রূপপুর নতুনপাড়া এলাকার মৃত হাজী শুকুর আলীর ছেলে মো. আকছেদ আলী (৫২)-কে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করেন। পরবর্তীতে তাকে তল্লাশি করে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা ১৩৮ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত এই মাদকদ্রব্যের বাজারমূল্য লক্ষাধিক টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে। গ্রেফতারের পর আটক আসামিকে উদ্ধারকৃত মালামালসহ দ্রুত শাহজাদপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়।

​জিজ্ঞাসাবাদে মাদক কারবারির স্বীকারোক্তি

​প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক আকছেদ আলী তার অপরাধ স্বীকার করেছেন। তিনি র‍্যাবকে জানান, দীর্ঘদিন ধরে তিনি দেশের উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে অবৈধ মাদক সংগ্রহ করে আসছিলেন। এসব মাদকদ্রব্য বিশেষ কৌশলে শাহজাদপুরসহ সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় খুচরা ও পাইকারি সরবরাহ করতেন তিনি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে তিনি বিভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন পথ ব্যবহার করতেন বলে জানা গেছে।

​থানা পুলিশের বক্তব্য ও আইনি প্রক্রিয়া

​এ বিষয়ে শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, র‍্যাব-১২ কর্তৃক হস্তান্তর করা মাদক ও আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত ১৩৮ বোতল ফেনসিডিল আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে জব্দ তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। আজ সোমবার আটক আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

​ওসি আরও উল্লেখ করেন যে, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে শাহজাদপুর থানা পুলিশ ও র‍্যাব সম্মিলিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এ ধরণের অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।

আরও পড়ুন: ড. ইউনূসের সঙ্গে সাদিক কায়েমের সাক্ষাৎ: বিয়ের দাওয়াতের পাশাপাশি গুরুত্ব পেল ‘জুলাই বিপ্লব’

ড. ইউনূসের সঙ্গে সাদিক কায়েমের সাক্ষাৎ: বিয়ের দাওয়াতের পাশাপাশি গুরুত্ব পেল ‘জুলাই বিপ্লব’

এই সংবাদটি কেন গুরুত্বপূর্ণ?

​১. স্থানীয় নিরাপত্তা: শাহজাদপুরের সচেতন নাগরিকরা তাদের এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা সম্পর্কে জানতে আগ্রহী। এই নিউজটি স্থানীয় পাঠকদের মধ্যে আপনার পোর্টালের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াবে।

২. মাদকের প্রভাব: মাদক আমাদের সমাজের একটি ক্যানসার। এ ধরণের খবর প্রচারের মাধ্যমে মাদক কারবারিদের মধ্যে ভীতি সঞ্চার হয় এবং সাধারণ মানুষ সচেতন হয়।

৩. প্রফেশনাল সাংবাদিকতা: সংবাদের প্রতিটি স্তরে কর্মকর্তাদের নাম ও পদবি উল্লেখ করা হয়েছে, যা আপনার নিউজের বিশ্বাসযোগ্যতা ও বস্তুনিষ্ঠতা নিশ্চিত করে।

​উপসংহার

​মাদকের মরণ নেশা থেকে সমাজকে বাঁচাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই ধরণের অভিযান অত্যন্ত প্রশংসনীয়। শাহজাদপুরের মতো একটি জনবহুল এলাকায় ১৩৮ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার হওয়া এটিই প্রমাণ করে যে, মাদক কারবারিরা এখনো সক্রিয়। তবে র‍্যাব ও পুলিশের কঠোর অবস্থান সাধারণ মানুষের মনে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।

​'দিগন্ত বাংলা নিউজ' সর্বদা শাহজাদপুরসহ সারা দেশের অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশে থেকে সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অপরাধমুক্ত শাহজাদপুর গড়তে আমাদের নিউজগুলো শেয়ার করে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করুন।

​তথ্যসূত্র: র‍্যাব-১২ প্রেস রিলিজ এবং শাহজাদপুর থানা পুলিশ।

 

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন