খেলাধুলা ডেস্ক: শামীম হোসাইন / দিগন্ত বাংলা নিউজ
হেক্সা-মিশন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পা রাখল নেইমারের ব্রাজিল
ফুটবল বিশ্বের তীর্থস্থান হিসেবে পরিচিত ব্রাজিলের জন্য বিশ্বকাপ মানেই এক আবেগ, এক স্বপ্নের নাম। সেই স্বপ্নের পিছু ছুটে আবারো ‘হেক্সা’ জয়ের নতুন মিশন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পা রাখল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন সেলেসাওরা। নতুন প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তির হাত ধরে এক নতুন দিগন্তের সন্ধানে নিউ জার্সিতে অবতরণ করেছেন নেইমাররা। দীর্ঘ প্রতিক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিশ্ব ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট আবারো নিজেদের দখলে নিতে মরিয়া ব্রাজিল।
আনচেলত্তি যুগে নতুন স্বপ্নের সূচনা
ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলে দীর্ঘ ও বর্ণিল সাফল্যের পর কার্লো আনচেলত্তির ব্রাজিলের দায়িত্ব নেওয়া ছিল বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম আলোচনার বিষয়। ব্রাজিলের ডাগআউটে এটিই তার প্রথম কোনো বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট। টেকনিক্যাল ও ট্যাকটিক্যাল দিক থেকে আনচেলত্তির অভিজ্ঞতা ব্রাজিল দলকে দিয়েছে এক অনন্য ভারসাম্য। নিউ জার্সিতে অবতরণের পর তিনি গণমাধ্যমকে জানান, “বিশ্বকাপ মানেই শক্তির লড়াই। এখানে প্রতিটি দলই নিজেদের সেরাটা দিতে প্রস্তুত। তবে ব্রাজিল কোনো বাড়তি চাপ নিচ্ছে না, বরং ইতিবাচক মানসিকতা ও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার ওপর ভিত্তি করে আমরা মাঠে নামছি।”
২৬ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ স্কোয়াড
দলের শক্তির জায়গাটি এখন পূর্ণতা পেয়েছে। উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনাল শেষে জাতীয় দলের ক্যাম্পে যোগ দিয়েছেন দলের প্রধান স্তম্ভ মার্কুইনহস, গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েস এবং গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেলি। এখন কোচ কার্লো আনচেলত্তির হাতে রয়েছে পূর্ণ ২৬ সদস্যের স্কোয়াড। অভিজ্ঞতার সাথে তরুণ প্রতিভার এই অনন্য সমন্বয় ব্রাজিলকে টুর্নামেন্টের অন্যতম দাবিদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। নেইমারের নেতৃত্ব ও অভিজ্ঞতার পাশাপাশি ভিনিসিউস জুনিয়র ও রদ্রিগোদের মতো তরুণদের পারফরম্যান্সের ওপর নজর থাকবে সারা বিশ্বের কোটি ফুটবল প্রেমীর।
প্রস্তুতি ও কলম্বিয়া পার্ক ট্রেনিং সেন্টার
টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই নিজেদের ঝালাই করে নিতে কোনো খামতি রাখছে না ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন (CBF)। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের আগে দলটি নিউইয়র্ক রেড বুলস-এর নিজস্ব ট্রেনিং গ্রাউন্ড হিসেবে পরিচিত ‘কলম্বিয়া পার্ক ট্রেনিং সেন্টার’-এ অনুশীলন করবে। এখানকার উন্নত সুযোগ-সুবিধা এবং আধুনিক সরঞ্জাম খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও কৌশলে উন্নতির সহায়ক হবে বলে মনে করছেন দলের কোচিং স্টাফরা। এছাড়া টুর্নামেন্টের মূল মঞ্চে নামার আগে মিশরের বিপক্ষে একটি হাই-ভোল্টেজ প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্রাজিল, যা তাদের শক্তির জায়গাগুলো যাচাই করতে সাহায্য করবে।
আরও পড়ুন: নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব নাকচ করলেন প্রধানমন্ত্রী
গ্রুপ ‘সি’ এবং ব্রাজিলের বিশ্বকাপ অভিযান
আগামী ১৩ জুন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ অভিযান। গ্রুপ ‘সি’ তে সেলেসাওদের প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকছে মরক্কো, হাইতি ও স্কটল্যান্ড। কাগজ-কলমে সহজ মনে হলেও আধুনিক ফুটবলে কোনো প্রতিপক্ষকেই ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। ব্রাজিলের ফুটবল দর্শনের মূল ভিত্তিই হলো আক্রমণাত্মক ফুটবল, যা তারা এই গ্রুপ পর্বের প্রতিটি ম্যাচেই ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করবে। সমর্থকদের প্রত্যাশার পাহাড় মাথায় নিয়ে ব্রাজিল কতদূর এগোতে পারে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
কেন হেক্সা জয় এবার প্রয়োজন?
ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসে ২০০২ সালের পর থেকে হেক্সা জয়ের গল্পটি কেবলই আক্ষেপের। বারবার খুব কাছ থেকে শিরোপা হাতছাড়া হওয়ার বেদনা কাটিয়ে উঠতে এই দলটি মুখিয়ে আছে। কার্লো আনচেলত্তির কৌশলে ব্রাজিল কি পারবে তাদের সেই বহু প্রতীক্ষিত ষষ্ঠ বিশ্বকাপ শিরোপা ঘরে তুলতে? উত্তর মিলবে আগামী কদিনেই। তবে মাঠের লড়াই শুরুর আগেই দলটির যে আত্মবিশ্বাস দেখা যাচ্ছে, তা সমর্থকদের মনে আশার আলো জাগাচ্ছে।
উপসংহার
ফুটবল শুধু একটি খেলা নয়, ব্রাজিলের জন্য এটি একটি শিল্প। নেইমার, ভিনিসিউস আর আনচেলত্তির সমন্বয়ে গড়া এই দলটি এখন নতুন ইতিহাসের অপেক্ষায়। হেক্সা-মিশন সফল করতে ব্রাজিল প্রস্তুত, এখন কেবল মাঠের লড়াইয়ের চূড়ান্ত বাঁশির অপেক্ষা।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।