মস্কো সফরে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের অপেক্ষায় ঢাকা ও মস্কো।

মস্কো সফরে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের অপেক্ষায় ঢাকা ও মস্কো।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: শামীম হোসাইন / দিগন্ত বাংলা নিউজ

বিশ্বের বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের আসন্ন রাশিয়া সফর। আগামী ৭ জুন থেকে ৯ জুন পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য এই তিন দিনের সফরটি দুই দেশের মধ্যকার কৌশলগত অংশীদারিত্বকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপট: বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি সবসময়ই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। রাশিয়ার সাথে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। বর্তমান পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতিতে, যেখানে বড় শক্তিগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আস্থাহীনতা বিদ্যমান, সেখানে রাশিয়ার সাথে বাংলাদেশের এই উচ্চপর্যায়ের আলোচনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এই সফরে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির সফরসঙ্গী হিসেবে থাকছেন, যা এই সফরের গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

আরও পড়ুন: পল্লবীতে ফ্লাটে নারীর অর্ধগলিত ম/রা দেহ রহস্যের জালে এলাকা

পল্লবীতে ফ্লাটে নারীর অর্ধগলিত ম/রা দেহ রহস্যের জালে এলাকা

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি নিরাপত্তা: বাংলাদেশের ইতিহাসের বৃহত্তম অবকাঠামো প্রকল্প ‘রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র’ নির্মাণ ও পরিচালনা প্রক্রিয়ায় রাশিয়ার কারিগরি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা দেশের বিদ্যুৎ খাতের মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করছে। এই প্রকল্পে কোনো ধরনের বিলম্ব এড়ানো এবং কারিগরি সক্ষমতা বৃদ্ধিই হবে আলোচনার অন্যতম প্রধান এজেন্ডা। এছাড়া, ইউক্রেন যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে জ্বালানি বাজারে যে অস্থিতিশীলতা দেখা দিয়েছে, তা মোকাবিলায় রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল ও গ্যাস আমদানির সুযোগ-সুবিধাগুলো নিয়ে দুই দেশ বিশেষ আলোচনায় বসবে।

নিষেধাজ্ঞাজনিত চ্যালেঞ্জ ও অর্থনৈতিক কূটনীতি: বর্তমানে আন্তর্জাতিক রাজনীতির একটি বড় আলোচনার বিষয় হলো বিভিন্ন দেশের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে বিশ্ববাণিজ্যে যে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে, তা মোকাবিলায় দুই দেশ কীভাবে একে অপরকে সহযোগিতা করতে পারে, সেই কৌশল নির্ণয় করা এখন সময়ের দাবি। আগামী ৮ জুন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সাথে ড. খলিলুর রহমানের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এই বিষয়গুলো প্রাধান্য পাবে বলে কূটনৈতিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা: পারমাণবিক শক্তি ছাড়াও, দুই দেশের মধ্যে কৃষি ও খাদ্যপণ্য রপ্তানির ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য রাশিয়ার বাজার অত্যন্ত আকর্ষণীয়। এই সফরে দুই দেশের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের মধ্যে আলোচনার পথ সুগম করা এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর বিষয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট: জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের আসন্ন অধিবেশনসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক ফোরামে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে বাংলাদেশ ও রাশিয়া একে অপরের অবস্থানকে কীভাবে সমর্থন জানাতে পারে, তা নিয়েও দীর্ঘমেয়াদী আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে দুই দেশই তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

উপসংহার: পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই মস্কো সফর কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং বর্তমান বৈশ্বিক সংকটে বাংলাদেশের ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির বহিঃপ্রকাশ। এই সফর সফল হলে তা দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, জ্বালানি নিশ্চয়তা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় বড় ধরনের অবদান রাখবে। দেশবাসীসহ আন্তর্জাতিক মহল এই সফরের ফলাফলের দিকে গভীর দৃষ্টি রেখে অপেক্ষা করছে।

 

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন