শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে এবার এআই প্রযুক্তির পরিকল্পনা ডিএনসিসির

শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে এবার এআই প্রযুক্তির পরিকল্পনা ডিএনসিসির

জাতীয় ডেস্ক: শামীম হোসাইন / দিগন্ত বাংলা নিউজ

বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে পরিবেশ সুরক্ষায় এক নতুন উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। রাজধানীর গুলশানে আয়োজিত এক সচেতনতামূলক সমাবেশে ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, বর্তমান সময়ের চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (Artificial Intelligence) প্রযুক্তির ব্যবহারের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এই ঘোষণাটি রাজধানী ঢাকার পরিবেশগত বিপর্যয় রোধে একটি মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তির ছোঁয়া: ঢাকা শহরের অন্যতম প্রধান সমস্যা হলো অত্যধিক শব্দদূষণ, যা জনস্বাস্থ্যের ওপর গভীর প্রভাব ফেলছে। ডিএনসিসি প্রশাসক জানান, ট্রাফিক সিগন্যাল নিয়ন্ত্রণে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ইতিমধ্যেই অভূতপূর্ব সাফল্য পেয়েছে। এই সফলতার ধারাবাহিকতায় এখন শব্দদূষণকেও একটি নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থার আওতায় নিয়ে আসার সময় এসেছে। তিনি জানান, সেন্সরভিত্তিক এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে, যা নির্ধারিত মাত্রার বেশি শব্দ উৎপন্নকারী যানবাহন বা উৎস শনাক্ত করতে সক্ষম হবে।

আরও পড়ুন: লেবাননে ইসরাইলি হামলার তীব্র নিন্দা ও পাল্টা হুঁশিয়ারি ইরানের

লেবাননে ইসরাইলি হামলার তীব্র নিন্দা ও পাল্টা হুঁশিয়ারি ইরানের

মানসিকতার পরিবর্তনই বড় শক্তি: প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান তার বক্তব্যে নাগরিক সচেতনতার ওপর সর্বোচ্চ জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, “যদি আমাদের মাইন্ডসেট বা মানসিকতা এমন থাকে যে আমরা পরিবেশ নিয়ে সচেতন হবই, তবেই যেকোনো কঠিন কাজ বাস্তবায়ন করা সম্ভব।” তিনি উল্লেখ করেন যে, ডিএনসিসি একা এই দায়িত্ব পালন করতে পারবে না। যারা পরিবেশ নিয়ে কাজ করেন, এমন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও সাধারণ নাগরিককেও এই কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে হবে। একদিনে সব পরিবর্তন সম্ভব নয়, তবে ধাপে ধাপে একটি শব্দদূষণমুক্ত শহর উপহার দেওয়াই লক্ষ্য।

হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় কঠোর বার্তা: সমাবেশে ডিএনসিসি প্রশাসক একটি বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি জানান, এখন থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকাকে সম্পূর্ণরূপে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রিত এলাকা হিসেবে কঠোরভাবে পরিচালনা করা হবে। কোনো ব্যক্তিগত বা বাণিজ্যিক যানবাহন যদি এই নিয়মের লঙ্ঘন করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বিমানবন্দর এলাকার পরিবেশগত মান বজায় রাখতে এটি একটি সাহসী পদক্ষেপ।

প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন ও স্মার্ট ঢাকা: ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের সাফল্যের কথা উল্লেখ করে প্রশাসক জানান, এটি কেবল ট্রাফিক জ্যাম কমাতেই সাহায্য করছে না, বরং যানবাহনের অযথা হর্ন ও ইঞ্জিন শব্দ কমাতেও সহায়তা করছে। শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে এআইয়ের প্রয়োগ করা হলে তা অটোমেটেড মনিটরিং নিশ্চিত করবে, যার ফলে মাঠ পর্যায়ে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ বা পরিবেশ কর্মীদের ওপর চাপ কমবে।

পরিবেশ দিবস ও জনসম্পৃক্ততা: বিশ্ব পরিবেশ দিবস কেবল একটি দিন পালন করার বিষয় নয়, এটি একটি অঙ্গীকারের নাম। ডিএনসিসি প্রশাসক সকল স্তরের মানুষকে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমরা সবাই মিলে যদি শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে কাজ করি, তবে ঢাকা শহর হবে বসবাসযোগ্য এবং পরিবেশবান্ধব।”

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও উপসংহার: শব্দদূষণ প্রতিরোধে ডিএনসিসির এই এআই ব্যবহারের পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন হলে তা দক্ষিণ এশিয়ার শহরগুলোর মধ্যে ঢাকা শহরকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে। দিগন্ত বাংলা নিউজ মনে করে, প্রযুক্তির সঠিক প্রয়োগ এবং জনগণের সম্মিলিত সচেতনতাই পারে একটি সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করতে। আমরা আশা করব, এই পরিকল্পনার দ্রুত বাস্তবায়ন এবং এর সুফল যেন দ্রুতই রাজধানীবাসী ভোগ করতে পারে।

 

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন