নিজস্ব প্রতিবেদন / শাহজাদপুর, সিরাজগঞ্জ / দিগন্ত বাংলা নিউজ
সাধারণ মানুষের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতকরণ এবং ভেজাল ও মানহীন খাদ্যপণ্য উৎপাদনের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দেশজুড়ে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও অভিযান অত্যন্ত সফলভাবে অব্যাহত রয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় পাবনা জেলার ফরিদপুর উপজেলার ডেমরা এলাকায় একটি অসাধু প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড আরোপ করেছে। দীর্ঘদিন ধরে কোনো ধরনের বৈধ লাইসেন্স বা অনুমোদন ছাড়াই অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে ভেজাল ক্রিম ও ছানা প্রস্তুত এবং বাজারজাত করার সুনির্দিষ্ট অপরাধে এই কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ এই ধরনের ভেজাল খাদ্যের কারবার রোধে প্রশাসনের এই সময়োপযোগী ও কঠোর পদক্ষেপে স্থানীয় সচেতন মহলে স্বস্তির আবহ তৈরি হয়েছে এবং অপরাধী চক্রের মাঝে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
আরও পড়ুন: উল্লাপাড়ায় নারী উন্নয়নে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াসমিন
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ ও প্রশাসনিক সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গত ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ রোজ বুধবার পাবনা জেলার ফরিদপুর উপজেলার ডেমরা এলাকায় এই বিশেষ ঝটিকা অভিযানটি পরিচালিত হয়। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে পরিচালিত এই মোবাইল কোর্ট বা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার দায়িত্বে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে নিয়োজিত ছিলেন ফরিদপুর উপজেলার সম্মানিত সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদা সুলতানা। আভিযানিক দলটি ডেমরা এলাকার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটিতে হঠাৎ প্রবেশ করে তল্লাশি চালিয়ে দেখতে পায় যে, কোনো প্রকার সরকারি অনুমোদন বা বৈধ বিএসটিআইয়ের লাইসেন্স ছাড়াই সেখানে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে ক্রিম সংরক্ষণ ও পাইকারি মূল্যে বিক্রি করা হচ্ছিল। কেবল তাই নয়, মানুষের প্রাত্যহিক খাদ্য তালিকার অত্যন্ত পরিচিত ও পুষ্টিকর উপাদান ক্রিম ও ছানা সম্পূর্ণ অস্বাস্থ্যকর, নকল ও ভেজাল রাসায়নিক উপায়ে তৈরি করে তা অবাধে বাজারজাত করা হচ্ছিল, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম উদ্বেগের বিষয় হিসেবে দেখা দিয়েছে।
আরও পড়ুন: পাবনার ফরিদপুরে ১৩ বছরের ভ্যানচালক সাকিব হত্যা মামলায় দুই আসামি আদালতে
ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে এবং অপরাধের সত্যতা প্রমাণে বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা প্রদান করেন। উক্ত অভিযানে অন্যান্যের মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও পেশাদার ভূমিকা পালন করেন ফরিদপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের অভিজ্ঞ ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মো. আলহাজ উদ্দিন এবং ডেমরা ইউনিয়ন পরিষদের সুযোগ্য চেয়ারম্যান মো. জুয়েল রানা। এছাড়া বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই), উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কারিগরি টিম এবং ফরিদপুর থানা পুলিশের একটি চৌকস দল পুরো অভিযান জুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও নিরাপত্তা বিধানে সার্বিক সহায়তা প্রদান করে। সবার সম্মিলিত উপস্থিতিতে অপরাধের সুনির্দিষ্ট ও অকাট্য প্রমাণ পাওয়ায় আইন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক এবং যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
আইন লঙ্ঘন এবং ভেজাল পণ্য উৎপাদনের এই গুরুতর অপরাধে বিএসটিআই আইন, ২০১৮-এর ১৫(১) ধারার সুনির্দিষ্ট বিধান অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানটিকে নগদ দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদা সুলতানা এই আদেশ প্রদান করেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি না করার জন্য অত্যন্ত কঠোরভাবে সতর্ক করেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, সাধারণ জনগণের জীবন নিয়ে যারা খেলা করে এবং ভেজাল খাদ্যপণ্য বিক্রি করে অবৈধভাবে মুনাফা অর্জন করতে চায়, তাদের কোনো অবস্থাতেই ছাড় দেওয়া হবে না। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং খাদ্যদ্রব্যে ভেজাল ও দূষণ প্রতিরোধে এ ধরনের বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে বলে প্রশাসনের তরফ থেকে দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করা হয়েছে।
সূত্র: উপজেলা প্রশাসন ও ভ্রাম্যমাণ আদালত, ফরিদপুর, পাবনা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।