নিজস্ব প্রতিবেদন / শাহজাদপুর, সিরাজগঞ্জ / দিগন্ত বাংলা নিউজ
সিরাজগঞ্জ জেলার ঐতিহ্যবাহী ও জনবহুল উল্লাপাড়া উপজেলায় নারী সমাজের সার্বিক বিকাশ, আর্থসামাজিক অগ্রগতি এবং প্রাত্যহিক জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে এক অনন্য ও অত্যন্ত অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াসমিন। নিজের পেশাগত ও দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনে অতুলনীয় নিষ্ঠা, অকৃত্রিম সততা, অদম্য পরিশ্রম এবং অসাধারণ কর্মদক্ষতার উজ্জ্বল ছাপ রেখে তিনি আজ স্থানীয় সাধারণ মানুষের হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে নিয়েছেন। প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিখাদ জনকল্যাণমূলক মানসিকতা নিয়ে তিনি যেভাবে প্রান্তিক নারীদের কল্যাণে নিজেকে সম্পূর্ণ সঁপে দিয়েছেন, তা সত্যিই সর্বমহলে গভীর প্রশংসার দাবি রাখে। তাঁর সুদূরপ্রসারী চিন্তাচেতনা এবং সময়োপযোগী পদক্ষেপে উল্লাপাড়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলের অবহেলিত নারীদের জীবনধারায় ইতিবাচক পরিবর্তন দৃশ্যমান।
আরও পড়ুন: শাহজাদপুরে নার্সিং ও ডেন্টাল কলেজ স্থাপনের ঘোষণা স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর
গ্রামীণ জনপদের তৃণমূল পর্যায় থেকে শুরু করে সমাজগঠনের প্রতিটি স্তরে শিকড় গেড়ে থাকা নানা সামাজিক অসংগতি দূর করার ক্ষেত্রে তিনি শুরু থেকেই অত্যন্ত বলিষ্ঠ ও সাহসী ভূমিকা পালন করে আসছেন। সমাজে অভিশাপ স্বরূপ জেঁকে বসা বাল্যবিয়ে রোধ করা, নারী ও শিশুর প্রতি সংঘটিত যেকোনো ধরনের নির্যাতন কঠোরহস্তে প্রতিরোধ করা, যৌতুক প্রথার বিরুদ্ধে তীব্র জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্বাবলম্বী নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে তিনি অনন্য ভূমিকা পালন করছেন। স্থানীয় নারীরা যাতে পরিবারের ওপর অর্থনৈতিকভাবে নির্ভরশীল না থেকে নিজেদের পায়ে নিজে দাঁড়াতে পারেন, সেজন্য তাঁর কার্যালয় থেকে সেলাই প্রশিক্ষণ, হস্তশিল্পসহ বিভিন্ন ধরনের আধুনিক পেশাগত প্রশিক্ষণের চমৎকার আয়োজন করা হচ্ছে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র ঋণের স্বচ্ছ ও সুষম বণ্টন নিশ্চিত করার মাধ্যমে তিনি অসংখ্য নারীর কর্মসংস্থানের পথ উন্মুক্ত করে দিয়েছেন।
আরও পড়ুন: জুলাই হত্যা মামলা: ওবায়দুল কাদেরসহ অন্যদের মৃত্যুদণ্ড ট্রাইব্যুনালের
দাপ্তরিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার পাশাপাশি সরকারি বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধাগুলো প্রকৃত ও উপযুক্ত সুবিধাভোগীদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা বজায় রাখছেন। তাঁর সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা ও সুচারু সমন্বয়কের দূরদর্শী ভূমিকার কারণে সরকার প্রদত্ত ভিজিডি কর্মসূচি, মাতৃত্বকালীন ভাতা এবং অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা কোনো ধরনের মধ্যস্বত্বভোগী বা হয়রানি ছাড়াই সরাসরি প্রাপকদের নিকট পৌঁছে যাচ্ছে। তাঁর এই কর্মতপরতার ফলে সাধারণ সেবাগ্রহীতারা দপ্তর থেকে অত্যন্ত দ্রুততম সময়ে সম্পূর্ণ ঝামেলাহীনভাবে কাঙ্ক্ষিত সেবা লাভ করে চরম সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় সচেতন ও বুদ্ধিজীবী মহল মনে করেন যে, সরকারি সেবা অত্যন্ত সততা ও নিষ্ঠার সাথে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে নিলুফা ইয়াসমিনের এই কর্মস্পৃহা অন্যদের জন্যও অনুকরণীয়।
নিজের কাজের স্বীকৃতি ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে বলতে গিয়ে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াসমিন অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে নিজের মতামত ব্যক্ত করেছেন। তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেছেন, “নারী সমাজকে সুশিক্ষিত ও স্বাবলম্বী করে তোলাই আমার প্রধান লক্ষ্য। সরকারের গৃহীত বিভিন্ন উন্নয়নমূলক পদক্ষেপের সুফল যেন উল্লাপাড়ার প্রতিটি অসহায় নারী পান,সেজন্য আমি ও আমার দল নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি।” তাঁর এই বক্তব্যে নারী জাগরণ ও তাঁদের অধিকার সুরক্ষার প্রতি তাঁর গভীর দায়বদ্ধতা এবং আন্তরিকতার বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। তিনি গভীর আশাবাদ ব্যক্ত করে আরও জানান যে, সকলের সম্মিলিত আন্তরিক প্রচেষ্টার মাধ্যমেই অদূর ভবিষ্যতে উল্লাপাড়া উপজেলাকে নারী উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নে একটি রোল মডেল হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
সূত্র: স্থানীয় প্রশাসন ও প্রাপ্ত তথ্য।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।