নিজস্ব প্রতিবেদন / শাহজাদপুর, সিরাজগঞ্জ / দিগন্ত বাংলা নিউজ
সিরাজগঞ্জ জেলার ঐতিহ্যবাহী জনপদ শাহজাদপুর উপজেলায় আধুনিক চিকিৎসা শিক্ষা প্রসারের অংশ হিসেবে খুব শীঘ্রই একটি মানসম্মত নার্সিং কলেজ এবং একটি ডেন্টাল কলেজ প্রতিষ্ঠার জোরালো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। দেশের বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা শিক্ষার মানোন্নয়নের পাশাপাশি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় উন্নত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে এই যুগান্তকারী পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। কেবল অবকাঠামোগত উন্নয়ন বা বড় বড় অট্টালিকা নির্মাণ করলেই একটি জাতির সামগ্রিক মানসিক ও সামাজিক রূপান্তর সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, রাষ্ট্র রাস্তাঘাট বা নান্দনিক স্থাপনা তৈরি করতে পারলেও মানুষের সুপ্ত মন-মানসিকতা ও নৈতিক চরিত্র সরাসরি বদলে দিতে পারে না। সমাজে যদি সততা, নীতিবোধ এবং ন্যায়পরায়ণতার সঠিক চর্চা অব্যাহত না থাকে, তবে অতীতের মতো যেকোনো সময় ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি ঘটার আশঙ্কা থেকেই যায়।
আরও পড়ুন: সিরাজগঞ্জ পুলিশ লাইন্সে জেলা পুলিশের সাপ্তাহিক মাস্টার প্যারেড অনুষ্ঠিত
গত মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচাস্থ কনফারেন্স হলে ঢাকাস্থ শাহজাদপুর উপজেলা কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ অভিমত ব্যক্ত করেন। রাজধানীতে বসবাসরত শাহজাদপুরবাসীর স্বনামধন্য এই সংগঠনটি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিশিষ্ট চক্ষু ও জনস্বাস্থ্যবিদ এবং সরকারের বর্তমান স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিতকে উষ্ণ নাগরিক সংবর্ধনা প্রদান করে। উক্ত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শাহজাদপুর থেকে আসা এবং রাজধানীতে কর্মরত বিভিন্ন স্তরের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী তাঁর সুদীর্ঘ রাজনৈতিক দর্শন, সমাজ সংস্কারের সুদূরপ্রসারী প্রয়োজনীয়তা এবং শাহজাদপুর অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদী প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নের এক সুনির্দিষ্ট ও সুদূরপ্রসারী রূপরেখা উপস্থিত সুধীজনের সামনে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তুলে ধরেন।
আরও পড়ুন: খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে ৮৬১ রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা
বর্তমান রাজনৈতিক সংস্কৃতির আমূল পরিবর্তনের ডাক দিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত তাঁর বক্তৃতায় অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট ভাষায় বলেন, "যে সমাজ দুর্নীতিবাজকে সফল মনে করে সম্মান দেয় এবং সৎ মানুষকে বোকা বা অকর্মণ্য ভাবে সেই সমাজে দুর্নীতিবাজই জন্ম নেবে। সন্তানকে আমরা কী উপদেশ দিচ্ছি তার চেয়ে বড় বিষয় তারা সমাজ ও পরিবারে কী দেখছে। আমাদের মন-মানসিকতায় যদি ন্যায় ও অন্যায়ের পার্থক্য স্পষ্ট না হয় তবে বারবার সমাজে সুবিধাবাদী ও ফ্যাসিবাদী মানসিকতারই জয়জয়কার হবে।" তাঁর এই গভীর সমাজসচেতনতামূলক বক্তব্য উপস্থিত দর্শকদের মাঝে ব্যাপক দাগ কাটে এবং সামাজিক মূল্যবোধ পুনরুদ্ধারের তাগিদ সৃষ্টি করে। নৈতিক অবক্ষয় রোধে পরিবার ও সমাজ ব্যবস্থার সংস্কার যে অত্যন্ত জরুরি, সে বিষয়টি তার বক্তব্যে স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।
নিজের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক অবস্থান ও আদর্শের কথা তুলে ধরে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে আরও বলেন, "রাজনীতিতে আমার কোনো ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়া নেই, আমৃত্যু রাজনীতি আঁকড়ে থাকার ইচ্ছাও নেই। আমি মারামারি, মাদক ব্যবসা বা চাঁদাবাজির রাজনীতি শিখিনি; পেশাগত জীবনে শিখেছি হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা। মানুষ মরণশীল, কিন্তু একটি সৎ ও জনকল্যাণমুখী প্রতিষ্ঠান যুগ যুগ ধরে মানুষকে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সেবা দিয়ে বাঁচিয়ে রাখে।" শাহজাদপুর অঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি জানান যে, ওই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসাসেবার মান বহুগুণ বৃদ্ধি করার পাশাপাশি পূর্বাঞ্চলের সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য একটি নতুন ও বড় হাসপাতাল স্থাপনের কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়া তরুণ সমাজকে অবক্ষয় ও অপরাধ থেকে রক্ষা করতে প্রতিটি ইউনিয়নে মানসম্মত খেলার মাঠ, আধুনিক সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠা এবং এই জনপদের ঐতিহ্যবাহী তাঁত ও দুগ্ধশিল্পকে বিশ্বমানের করে তোলার জোরালো পরিকল্পনার কথা তিনি সকলের সামনে ঘোষণা করেন।
ঢাকায় কর্মসংস্থান বা অন্যান্য কাজে নিয়োজিত বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গুণীজন, বুদ্ধিজীবী ও সরকারি কর্মকর্তাদের নিজ এলাকার সার্বিক উন্নয়নে এগিয়ে আসার উদাত্ত আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি উপস্থিত সকলের উদ্দেশে জানান যে, সাধারণ মানুষের কল্যাণের স্বার্থে দল, মত কিংবা রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে যেকোনো ছোট বা বড় উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে তিনি সবসময় তাদের পাশে থাকবেন এবং সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করবেন। এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি শাহজাদপুরের মানুষের মাঝে এক নতুন আশার সঞ্চার করেছে এবং এলাকার সামগ্রিক অগ্রগতির পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে অংশগ্রহণকারীরা অভিমত প্রকাশ করেন।
সূত্র: নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ও প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।