প্রতিবেদন: আব্দুস ছাত্তার (শামীম) / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ
সীমান্ত সুরক্ষা ও জাতীয় সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রাখতে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় সচেতন জনতা। দিনাজপুরের বিরামপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) একতরফা ও সম্পূর্ণ অবৈধ পুশইন চেষ্টা দারুণভাবে ব্যর্থ করে দেওয়া হয়েছে। রোববার দিবাগত গভীর রাতে ভারতীয় ভূখণ্ড থেকে বহু সংখ্যক ভারতীয় নাগরিককে জোরপূর্বক বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঠেলে দেওয়ার জঘন্য অপচেষ্টা চালায় বিএসএফ। তবে বিজিবির দূরদর্শী ও প্রখর সতর্ক টহল দল এবং স্থানীয় অধিবাসীদের সাহসিকতাপূর্ণ সুদৃঢ় প্রতিরোধের মুখে তারা নিজেদের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে পিছু হটতে বাধ্য হয়। উক্ত ঘটনার পর সীমান্ত এলাকায় থমথমে অবস্থা তৈরি হলেও যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি টহল ও বাড়তি সতর্কতা বহুগুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহত সাতক্ষীরার প্রবাসীর মরদেহ পৌনে চার মাস পর দেশে প্রত্যাবর্তন
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় অধিবাসীদের বরাতে জানা গেছে, রোববার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে উপজেলার কাটলা ইউনিয়নের সীমান্তঘেঁষা দাউদপুর সীমান্ত এলাকার মেইন পিলার ২৮৯/৪৬-এস সংলগ্ন এলাকায় হঠাৎ অস্বাভাবিক মানুষের চলাফেরা দেখতে পাওয়া যায়। রাত ও নির্জনতার সুযোগ নিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা ওপারে জিরো পয়েন্টের কাঁটাতারের নির্দিষ্ট গেট খুলে দিয়ে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন ভারতীয় নাগরিককে বেআইনিভাবে বাংলাদেশের সীমান্তে ঠেলে দেওয়ার পাঁয়তারা করে। তবে সীমান্তের জিরো লাইনের কাছে বসবাসকারী এক সচেতন স্থানীয় যুবক বিএসএফের এই অনৈতিক তৎপরতা তাৎক্ষণিকভাবে ধরে ফেলেন। যুবকের আকস্মিক দূরদর্শিতায় বিএসএফের গোপন পরিকল্পনা সেখানেই মুখ থুবড়ে পড়ে।
বিএসএফের এই অপতৎপরতা টের পেয়ে ওই যুবক কালবিলম্ব না করে চিৎকার করে আশপাশের সমগ্র গ্রামবাসীদের ডেকে তোলেন এবং অবিলম্বে নিকটস্থ বিজিবি ক্যাম্পে তথ্য পৌঁছে দেন। যুবকের আহ্বানে দাউদপুর বিজিবি ক্যাম্পের টহল দল দ্রুত গতিতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। একই সাথে মুহূর্তের মধ্যে খবর পেয়ে আশপাশের গ্রামের শত শত মানুষ লাঠিসোঁটা ও দেশীয় প্রতিরোধ সামগ্রী নিয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সীমান্তে সমবেত হন। সীমান্ত প্রাঙ্গণে বিজিবি সদস্য এবং স্থানীয় অধিবাসীদের এই অভূতপূর্ব ও শক্তিশালী যৌথ প্রতিরোধ প্রাচীর দেখে ওপার সীমান্ত থেকে বিএসএফ সদস্যরা চরম বিভ্রান্ত ও তটস্থ হয়ে পড়ে।
আরও পড়ুন: একই মসজিদের ইমাম ও মোয়াজ্জিন এবার ইউপি নির্বাচনে জনপ্রতিনিধি হওয়ার দৌড়ে
বাংলাদেশি সীমানায় জনতা ও বিজিবির ইস্পাতকঠিন কঠোর অবস্থান দেখে পুশইনের চেষ্টা ধোপে টিকবে না বুঝতে পেরে ব্যাকফুটে চলে যায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষীরা। তোপের মুখে পড়ে বিএসএফ সদস্যরা বাধ্য হয়ে পুশইনের শিকার হওয়া ওই ২৫ থেকে ৩০ জন ভারতীয় নাগরিককে পুনরায় নিজেদের সীমানায় ফিরিয়ে নিয়ে যায়। বিজিবি ও গ্রামবাসীর এমন সাহসী ভূমিকার কারণে বড় ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকানো সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন এলাকাটির বাসিন্দা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। তবে সীমান্ত এলাকায় প্রতিনিয়ত বিএসএফের আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গ ও বেআইনি তৎপরতায় স্থানীয় গ্রামবাসীর মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
বর্তমানে দাউদপুর সীমান্তে যেকোনো নতুন ধরনের উসকানি এড়াতে বিজিবির নজরদারি বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে। সীমান্ত চৌকিগুলোতে বাড়তি জওয়ান মোতায়েন করে নিয়মিত টহলের পাশাপাশি দিনরাত নিবিড় পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করা হচ্ছে। এছাড়া বিজিবির পক্ষ থেকে সীমান্তবাসীকে যেকোনো সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড লক্ষ্য করলে অবিলম্বে অবহিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক রীতিনীতি বজায় রেখে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিজিবির এই দ্রুত পদক্ষেপ এবং সাধারণ মানুষের প্রশংসনীয় জনসচেতনতা দেশজুড়ে ব্যাপক প্রসংশা কুড়াচ্ছে।
নিউজ এর সূত্র: বিজিবি ও স্থানীয় গ্রামবাসী, কাটলা ইউনিয়ন, বিরামপুর, দিনাজপুর।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।