নিজস্ব প্রতিবেদন / শাহজাদপুর, সিরাজগঞ্জ / দিগন্ত বাংলা নিউজ
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা অত্যন্ত আনন্দঘন, উৎসবমুখর, শান্তিপূর্ণ ও সম্পূর্ণ নিরাপদ পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে সিরাজগঞ্জ জেলার কামারখন্দ উপজেলায় এক বিশেষ প্রস্তুতিমূলক ও গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশের প্রতিটি অঞ্চলের মতো কামারখন্দ উপজেলার প্রতিটি পূজা মণ্ডপে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়ানো এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সুদৃঢ় করার সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে এই সভাটির আয়োজন করা হয়। স্থানীয় প্রশাসন ও পূজা উদযাপন কমিটির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই সভাটি স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে এবং সংশ্লিষ্ট সকলের মাঝে আশার সঞ্চার করেছে। উৎসবমুখর পরিবেশে উৎসব সম্পন্ন করতে পুলিশ প্রশাসনের তৎপরতা ও স্থানীয় সুধীজনের অংশগ্রহণ এই আয়োজনকে আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।
আরও পড়ুন: শাহজাদপুরে স্বাক্ষর জালিয়াতি করে অবৈধ বালু বিক্রির চেষ্টা, থানায় মামলা দায়ের
গত শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দে বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে কামারখন্দ থানা কার্যালয়ের গোলঘরে এই মতবিনিময় সভাটি অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে অনুষ্ঠিত হয়। কামারখন্দ থানার সম্মানিত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি হাসমত আলীর সভাপতিত্বে ও পরিচালনায় আয়োজিত এই সভায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত পূজা উদযাপন কমিটির সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন স্তরের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। সভায় মূলত আসন্ন দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে পূজা মণ্ডপগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা, এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা এবং পূজা উদযাপনকালে সম্ভাব্য যেকোনো ধরনের ছোটখাটো সমস্যা বা বিশৃঙ্খলা দ্রুত নিরসন করার বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। প্রশাসন ও স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি চমৎকার উৎসব উপহার দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয় এই সভায়।
মতবিনিময় সভায় হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে কামারখন্দ উপজেলা হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি শ্রী শম্ভুনাথ দাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন। তাঁর বক্তব্যে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, পূজা মণ্ডপের নিরাপত্তার জন্য সবাইকে স্বেচ্ছাসেবী নিয়ে নিরাপত্তা কমিটি গঠন করতে হবে। যাতে পূজা চলাকালে নিরাপত্তায় কোনো ধরনের সমস্যা না হয়। এছাড়া আজানের সময় কোনো ধরনের সাউন্ড, ঢোল-তবলা বাজানো যাবে না এবং কোনো ডিজে পার্টি করা যাবে না। যেকোনো সমস্যা হলে দ্রুত সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। তাঁর এই সুচিন্তিত ও সময়োপযোগী বক্তব্য উপস্থিত সকলের মাঝে দারুণ প্রশংসিত হয় এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি ও শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখার ক্ষেত্রে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।
আরও পড়ুন: বেলকুচিতে ১১ দলীয় জোটের লং মার্চ সফল করতে প্রশাসনকে জামায়াতের স্মারকলিপি
উপস্থিত সাধারণ মানুষ ও পূজা কমিটির নেতৃবৃন্দের উদ্দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অবস্থান ও দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি হাসমত আলী অত্যন্ত জোরালো ভাষায় বলেন, পূজা উদযাপনকে ঘিরে যেকোনো সমস্যা হলে সঙ্গে সঙ্গে তাকে জানাতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের সদস্যরা সব সময় পূজা কমিটির পাশে থাকবে। কোনো সমস্যা হলে তার সঙ্গে যেকোনো সময় যোগাযোগ করার জন্য তিনি আহ্বান জানান। তাঁর এই আশ্বস্তবাণী ও সহযোগিতামূলক মনোভাব পূজা কমিটির নেতৃবৃন্দকে দারুণভাবে উৎসাহিত করেছে এবং উৎসবের দিনগুলোতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার সুযোগ থাকবে না বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। পুলিশের পক্ষ থেকে প্রতিটি মণ্ডপে বিশেষ টহল দল নিয়োজিত রাখার কথাও জানানো হয়।
উক্ত গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থেকে তাদের মূল্যবান মতামত ও পরামর্শ প্রদান করেন। সভায় অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন ভদ্রঘাট ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মির্জা আব্দুস সামাদ, কামারখন্দ উপজেলা হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি শ্রী শম্ভুনাথ দাস, খোকন পাল এবং কামারখন্দের চার ইউনিয়নের পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। সকলের সম্মিলিত উপস্থিতিতে সভাটি একটি সফল মিলনমেলায় রূপ নেয়। পরিশেষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন বজায় রেখে অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গাপূজা সম্পন্ন করার দৃঢ় অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
সূত্র: কামারখন্দ থানা প্রশাসন ও পূজা উদযাপন কমিটি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।