নিজস্ব প্রতিবেদন / শাহজাদপুর, সিরাজগঞ্জ / দিগন্ত বাংলা নিউজ
পরিবেশ সংরক্ষণ, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার পাশাপাশি সমাজ গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালনকারী গণমাধ্যমকর্মীদের কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলায় এক বর্ণাঢ্য ও অনুপ্রেরণামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী ও শিক্ষামূলক সংগঠন আলোকবর্তিকার উদ্যোগে আয়োজিত এই মহতি অনুষ্ঠানে প্রধান আকর্ষণ হিসেবে ছিল বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান এবং স্থানীয় সাংবাদিকদের মাঝে সম্মাননা স্মারক বা ক্রেস্ট বিতরণ। প্রাত্যহিক প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে সমাজসেবামূলক কাজে উদ্বুদ্ধ করার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ স্থানীয় সচেতন মহলে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে এবং উপস্থিত সকলের মাঝে গভীর উৎসাহের সৃষ্টি করেছে। সমাজের প্রতিটি স্তরে ইতিবাচক পরিবর্তনের বার্তা ছড়িয়ে দিতে এই ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে বলে সুধীজন অভিমত প্রকাশ করেছেন।
আরও পড়ুন: কামারখন্দে শারদীয় দুর্গোৎসবের নিরাপত্তা নিয়ে পুলিশ প্রশাসনের মতবিনিময় সভা
নির্ধারিত সময়সূচী অনুযায়ী গত ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দে শনিবার সকালে সিরাজগঞ্জ জেলার ঐতিহ্যবাহী শাহজাদপুর সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় চত্বরে এই আনন্দঘন অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়। শিক্ষামূলক সংগঠন আলোকবর্তিকার উদ্যোক্তা ও সুযোগ্য কর্ণধার, এবং উক্ত বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সুমনা আক্তার শিমুর আন্তরিক উদ্যোগে ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের মূল পর্বে সংগঠনের নিবেদিতপ্রাণ সদস্যবৃন্দ এবং বিদ্যালয়ের কচি-কাঁচা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিভিন্ন গাছের চারা রোপণ করা হয়, যা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এক অনন্য অবদান রাখবে বলে উপস্থিত সকলে আশা প্রকাশ করেন। প্রকৃতির কাছাকাছি থেকে শিক্ষার্থীদের গাছ লাগানোর এই শিক্ষা তাদের মধ্যে পরিবেশের প্রতি যত্নবান হওয়ার মানসিকতা তৈরি করবে।
আরও পড়ুন: সাঁথিয়ায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে আব্দুল মজিদের ঘরবাড়ি পুড়ে ভস্মীভূত
আলোকবর্তিকার এই বর্ণাঢ্য বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা এবং সাংবাদিক সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে সদয় সম্মতি জ্ঞাপন করেছিলেন শাহজাদপুর উপজেলার অত্যন্ত গতিশীল ও প্রাজ্ঞ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবরিনা শারমিন। তবে প্রজাতন্ত্রের জরুরি প্রশাসনিক কর্মব্যস্ততা ও দাপ্তরিক অপরিহার্য ব্যস্ততার কারণে তিনি সশরীরে উপস্থিত থাকতে না পারায় আয়োজক কমিটি ও উপস্থিত সুধীজন অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে তাঁর ব্যস্ততাকে মূল্যায়ন করেছেন। প্রধান অতিথির এই অনুপস্থিতি একান্তই প্রশাসনিক ও রাষ্ট্রীয় ব্যস্ততাজনিত কারণে হওয়ায় তাঁর প্রতি গভীর সম্মান প্রদর্শন করা হয়েছে এবং তাঁর সর্বাঙ্গীন সাফল্য কামনা করা হয়েছে। প্রধান অতিথির অনুপস্থিতেও অনুষ্ঠানটির প্রাণচাঞ্চল্য ও মহত্ত্ব বিন্দুমাত্র ম্লান হয়নি, বরং আমন্ত্রিত অন্যান্য বিশিষ্ট অতিথিদের মর্যাদাপূর্ণ উপস্থিতিতে পুরো আয়োজন এক সার্থক রূপ লাভ করেছে। বিশেষ অতিথি হিসেবে অত্যন্ত উৎসাহ ও উদ্দীপনা নিয়ে অনুষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিত থেকে পুরো আয়োজনকে মহিমান্বিত করেন শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মো. সাইফুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার ভূমি ফরিদুল ইসলাম, শাহজাদপুর সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সম্মানিত সাবেক প্রধান শিক্ষক এস এম সাইফুল ইসলাম, শাহজাদপুর সরকারি মডেল পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শামীমা নাহার, শাহজাদপুরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আলহাজ্ব মো. দুলাল হোসেন, শাহজাদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি এম এ জাফর লিটন এবং শাহজাদপুর সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি রাজিব আহমেদ রাসেলসহ আলোকবর্তিকার সকল আলোকছটারা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানের অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও গুরুত্বপূর্ণ একটি পর্বে আলোকবর্তিকার সভাপতি জনাব সুমনা আক্তার শিমু নিজ হাতে কৃতি শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্রেস্ট প্রদান করেন এবং তাদের সাফল্যকে সাধুবাদ জানান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি সাইফুল ইসলাম অত্যন্ত অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন, আলোকবর্তিকার মাধ্যমে সমাজের অবহেলিত জনগোষ্ঠীকে নিয়ে কাজ করার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা যে নৈতিকতা সম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে উঠছে তা ভবিষ্যতে বাস্তব জীবনেও প্র্যাকটিস করবে। পুলিশ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ এই কর্মকর্তার এমন সুচিন্তিত ও সময়োপযোগী বক্তব্য উপস্থিত শিক্ষার্থী ও তরুণ স্বেচ্ছাসেবকদের মনে গভীর রেখাপাত করে এবং তাদের নৈতিকভাবে আরও দৃঢ় হওয়ার অনুপ্রেরণা জোগায়। সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই মানসিকতা তরুণদের আগামী দিনে দেশের একজন যোগ্য ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে অনন্য ভূমিকা পালন করবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
শিক্ষার্থীদের নৈতিক উন্নয়ন ও সামাজিক দায়বদ্ধতার দিকটি তুলে ধরে সংগঠনটির কর্ণধার ও সহকারী শিক্ষক সুমনা আক্তার শিমু অত্যন্ত চমৎকার একটি বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করেন যে, শিক্ষার পাশাপাশি আলোকবর্তিকা'র সদস্যরা নৈতিক ভাবে সমৃদ্ধ হবে এবং সামাজিক কাজে নিজেদের সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে উন্নত মানসিকতা নিয়ে গড়ে উঠবে। তাঁর এই দূরদর্শী প্রত্যাশা বাস্তবায়নে সংগঠনটি আগামী দিনগুলোতেও নিয়মিতভাবে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক ও শিক্ষাবান্ধব কার্যক্রম পরিচালনা করবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। পরিশেষে আমন্ত্রিত অতিথিদের উপস্থিতি এবং সকলের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি এক সার্থক মিলনমেলায় রূপ নেয় এবং সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত সফলভাবে সমাপ্ত হয়। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন যে, এ ধরনের মহতি উদ্যোগ দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে এবং একটি সুন্দর সমাজ বিনির্মাণে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
সূত্র: আলোকবর্তিকা সংগঠন ও নিজস্ব প্রতিনিধি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।