শাহজাদপুরে ভেজাল ভোজ্যতেল তৈরির কারখানায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও সিলগালা

শাহজাদপুরে ভেজাল ভোজ্যতেল তৈরির কারখানায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও সিলগালা

নিজস্ব প্রতিবেদন / শাহজাদপুর, সিরাজগঞ্জ / দিগন্ত বাংলা নিউজ

জনসাধারণের সুস্বাস্থ্য ও জীবনযাত্রা নিয়ে ছিনিমিনি খেলা এবং ভেজাল খাদ্যপণ্য উৎপাদনের মতো মারাত্মক অপরাধ দমনে দেশজুড়ে প্রশাসনের চলমান কঠোর নজরদারির অংশ হিসেবে সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলায় একটি গোপন কারখানায় আকস্মিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। পচা ও দুর্গন্ধযুক্ত তেলের গাধ, ক্ষতিকারক রাসায়নিক এবং অত্যন্ত নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের সুযোগ নিয়ে গোপনে ভেজাল ভোজ্যতেল প্রস্তুত করার অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে আর্থিক জরিমানা ও সিলগালা করা হয়েছে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রশাসনের এই সময়োপযোগী ও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে স্থানীয় সচেতন মহলে স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং অসাধু চক্রের মাঝে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে।

আরও পড়ুন: শাহজাদপুরে আলোকবর্তিকার বৃক্ষরোপণ ও কৃতি শিক্ষার্থী-সাংবাদিকদের সংবর্ধনা

গত শনিবার দুপুরের দিকে শাহজাদপুর উপজেলার অন্তর্গত গঙ্গাপ্রসাদ এলাকায় এই বিশেষ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। ভেজাল বিরোধী এই ঝটিকা অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি ও বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদুল ইসলাম। আভিযানিক দলের সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এই অভিযানে আইনগত সহায়তা প্রদান করতে শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামসহ পুলিশের একটি চৌকস দল সক্রিয়ভাবে উপস্থিত ছিল। দীর্ঘ দিন ধরে চলা এই অবৈধ কর্মকাণ্ডের সত্যতা যাচাই করে ভ্রাম্যমাণ আদালত ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী অপরাধী প্রতিষ্ঠানকে নগদ পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা করেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে কারখানাটি সিলগালা করে দেন।

আরও পড়ুন: শাহজাদপুরে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ

প্রশাসনের কাছে প্রাপ্ত গোপন তথ্যে জানা যায় যে, দীর্ঘদিন ধরে গঙ্গা প্রসাদ গ্রামের ইদ্রিস মৃধার সন্তান রকিম মৃধা বগুড়া নগরবাড়ী মহাসড়কের পাশে একটি ঘর তুলে কারখানা স্থাপন করে পচা দুর্গন্ধযুক্ত ও পোকামাকড় মৃত ব্যাঙ মিশ্রিত গাধের সাথে কেমিক্যাল মিশিয়ে অত্যন্ত নোংরা পরিবেশে ভোজ্য তৈল উৎপাদন এবং প্রক্রিয়া জাত করে আসছিল। সম্প্রতি এই গুরুতর বিষয়টি দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচার হওয়ার পর প্রশাসনের দৃষ্টিগোচর হয়। এই ঘটনার নেপথ্য তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায় যে, অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রভাবশালী একটি শ্রমিক সংগঠনের নাম ভাঙিয়ে অবৈধ কার্যক্রম টিকিয়ে রাখার অপচেষ্টা চালিয়েছিল।

তবে এই জালিয়াতির বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার পর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে দেশের অন্যতম বৃহত্তম শ্রমিক সংগঠন উত্তরবঙ্গ ট্যাঙ্ক লরি শ্রমিক ইউনিয়ন। সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, অভিযুক্ত রকিম মৃধা তাদের সংগঠনের কেউ নন এবং তার সঙ্গে সংগঠনের কোনো সম্পর্ক নেই। পরবর্তীতে স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নের মুখে পড়ে অভিযুক্ত রকিম মৃধা স্বীকার করেন যে, তিনি উত্তরবঙ্গ ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়ন এর সদস্য নন। আকস্মিক সাংবাদিকদের জেরায় ভয় থেকে বাচার জন্য তিনি ওই সংগঠনের নাম ব্যবহার করেছিলেন।

অভিযান শেষে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার ভূমি ফরিদুল ইসলাম সংবাদ মাধ্যমকে বিস্তারিত জানিয়ে বলেন যে, গঙ্গা প্রসাদ এলাকার বগুড়া নগরবাড়ি মহাসড়কের পাশে একটি ঘর তুলে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে ভোজ্য তৈল উৎপাদন এবং প্রক্রিয়াজাত করে আসছে বলে অভিযোগ পাওয়ার পর ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় এবং কারখানা মালিকের স্বীকারোক্তি পাওয়ায় পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সাথে কারখানাটি সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে প্রশাসন দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।

সূত্র: উপজেলা প্রশাসন ও ভ্রাম্যমাণ আদালত, শাহজাদপুর, সিরাজগঞ্জ।

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন