মানিকগঞ্জে ঘরের দরজা ভেঙে স্বামী-স্ত্রী ও কন্যাসন্তানের মরদেহ উদ্ধার

মানিকগঞ্জে ঘরের দরজা ভেঙে স্বামী-স্ত্রী ও কন্যাসন্তানের মরদেহ উদ্ধার
ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদন / শাহজাদপুর, সিরাজগঞ্জ / দিগন্ত বাংলা নিউজ

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার একটি শান্ত জনপদে এক মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনার সংবাদ পাওয়া গেছে। স্থানীয় একটি আবাসিক ঘরের ভেতর থেকে দরজা ভেঙে একই পরিবারের তিনজন সদস্যের নিথর দেহ উদ্ধার করেছে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। প্রাথমিক তদন্ত ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা পর্যালোচনা করে পুলিশের পক্ষ থেকে সন্দেহ প্রকাশ করা হচ্ছে যে, নিজ স্ত্রী ও ছোট কন্যাসন্তানকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর পারিবারিক হতাশা বা অন্য কোনো সংকটের বশবর্তী হয়ে ওই গৃহকর্তা নিজেও আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন। শান্ত এই জনপদে সংঘটিত এমন একটি লোমহর্ষক ও রহস্যজনক মৃত্যুর সংবাদ চাউর হওয়া মাত্রই পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

আরও পড়ুন: সিরাজগঞ্জে লংমার্চে অংশগ্রহণকারী জামায়াত নেতার ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা

পুলিশ ও স্থানীয় এলাকাবাসীর কাছ থেকে প্রাপ্ত বিস্তারিত তথ্যানুযায়ী, গত শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দে দুপুরের দিকে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের অধীনস্থ জান্নাকান্দি ঘোনাপাড়া এলাকার একটি বসতবাড়ি থেকে এই তিনটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন জান্নাকান্দি গ্রামের বাসিন্দা আকরাম হোসেন, তাঁর স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা এবং তাদের কোলজুড়ে থাকা মাত্র দেড় বছর বয়সী অবুঝ কন্যাসন্তান আলিজা আক্তার। মর্মান্তিক এই ঘটনার পেছনের প্রকৃত রহস্য উন্মোচন করতে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিবিড় অনুসন্ধান ও ছায়া তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

ঘটনার সূত্রপাত সম্পর্কে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান যে, পূর্বের দিন শুক্রবার রাতে খাবার শেষে স্বামী, স্ত্রী ও সন্তান একসঙ্গে নিজ ঘরে ঘুমাতে যান। কিন্তু স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় পরদিন শনিবার দুপুর গড়িয়ে গেলেও তাদের ঘরের বন্ধ দরজা কোনোভাবেই খুলছিল না এবং ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যাচ্ছিল না। বিষয়টি নিয়ে বাড়ির অন্যান্য সদস্য ও নিকটাত্মীয়দের মনে তীব্র সন্দেহের দানা বাঁধে। একপর্যায়ে আকরাম হোসেনের প্রবীণা জননী ঘরের দরজার সুক্ষ্ম ফাঁক দিয়ে উঁকি দিয়ে দেখতে পান যে, তাঁর ছেলে ঘরের ভেতরের ছাদের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে। এই লোমহর্ষক দৃশ্য দেখে তিনি আঁতকে ওঠেন এবং তাঁর আত্মচিৎকারে মুহূর্তের মধ্যে আশপাশের বাড়িঘর থেকে শত শত মানুষ ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।

আরও পড়ুন: উল্লাপাড়ায় নারী উন্নয়নে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াসমিন

স্থানীয় উৎসুক জনতা ও প্রতিবেশীরা একত্রিত হয়ে দরজা ভেঙে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করার পর এক ভয়ানক দৃশ্যের মুখোমুখি হন। তারা দেখতে পান যে, গৃহকর্তা আকরাম হোসেন ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলছেন এবং মেঝেতে পড়ে রয়েছে তাঁর স্ত্রী প্রিয়াঙ্কার নিথর মরদেহ। এছাড়া পাশেই খাট ও বিছানার ওপর অবুঝ শিশু আলিজা আক্তারের মরদেহ নিথর অবস্থায় পড়ে ছিল। এই করুণ দৃশ্য দেখে উপস্থিত সকলের চোখ ভিজিয়ে আসে। পরবর্তীতে দ্রুত স্থানীয় থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করা হলে পুলিশ প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে এসে উপস্থিত হয় এবং তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে আইনানুগ প্রক্রিয়া শুরু করে।

স্থানীয়দের বরা্ত দিয়ে জানা যায় যে, নিহত আকরাম হোসেন দীর্ঘদিন প্রবাসে জীবন কাটিয়ে সম্প্রতি দেশে ফিরেছিলেন। তবে জীবিকা ও পারিবারিক ব্যবস্থাপনার এই পর্বে পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে তাঁর সুনির্দিষ্ট কোনো বড় ধরনের বিরোধ বা মনমালিন্য ছিল কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এই মর্মান্তিক বিষয়ে সংবাদ মাধ্যমকে বিস্তারিত জানিয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন বলেন, ঘটনাস্থল থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত করা হচ্ছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন হাতে আসলে মৃত্যুর আসল কারণ আরও পরিষ্কারভাবে জানা সম্ভব হবে এবং দোষীদের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সূত্র: পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্র।

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন