নয়ডা বিমানবন্দরে রাশিয়ার সামরিক বিমানের অবতরণ, ভারতে পুতিনের আগমনের প্রস্তুতি

নয়ডা বিমানবন্দরে রাশিয়ার সামরিক বিমানের অবতরণ, ভারতে পুতিনের আগমনের প্রস্তুতি
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেদন: আব্দুস ছাত্তার (শামীম) / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ

দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এক কূটনৈতিক ও সামরিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ভারতের উত্তর প্রদেশের নবনির্মিত নয়ডা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রথমবারের মতো অবতরণ করেছে পরাশক্তি রাশিয়ার তিনটি বিশালাকার সামরিক বিমান। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে যে, চলতি সপ্তাহের মঙ্গলবার প্রত্যুষে বিমানগুলো কঠোর গোপনীয়তা ও উচ্চ নিরাপত্তাবলয়ের মধ্য দিয়ে নয়ডার মাটি স্পর্শ করে। অবতরণকারী এই বহরের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল রাশিয়ার সুবিশাল রণকৌশলগত ও ভারি রসদ পরিবহনে সক্ষম সামরিক পরিবহন বিমান আইএল-৭৬। নবনির্মিত এই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটিতে কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের সামরিক বিমানের অবতরণের ঘটনা এটিই সর্বপ্রথম, যা বৈশ্বিক সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক কৌতূহল ও ব্যাপক আলোচনার সঞ্চার করেছে।

আরও পড়ুন: শাহজাদপুরে ডেঙ্গু ও মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও র‍্যালি

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের সুনির্দিষ্ট বিশ্লেষণ অনুযায়ী, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের আসন্ন বহুল আলোচিত ভারত সফরের সার্বিক প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা বলয় নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যেই মস্কোর এই বিশেষ সামরিক অগ্রবর্তী দল দিল্লি অঞ্চলে পৌঁছেছে। বিশ্ব পরাশক্তি রাশিয়ার সর্বোচ্চ নেতার নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে নিয়োজিত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, বিশেষ সামরিক প্রকৌশলী, যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ এবং আধুনিক সরঞ্জামাদি বহন করতেই এই তিনটি বিমান দিল্লিতে আগমন করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুতিনের যে কোনো রাষ্ট্রীয় বা আন্তর্জাতিক সফরের প্রাক্কালে এমন সামরিক অগ্রবর্তী দল আগাম সফর করে স্থানীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সম্ভাব্য রুট ও কূটনৈতিক যোগাযোগের খুঁটিনাটি দিক নিবিড়ভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে থাকে। নয়ডা বিমানবন্দরের নতুন রানওয়ে ও কারিগরি সুবিধাকে ব্যবহার করে এই অবতরণকে বিমানবন্দরটির কৌশলগত সক্ষমতার একটি সফল পরীক্ষামূলক প্রমাণ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: তৃণমূলে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে নতুন উদ্যোগ, জানালেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

কূটনৈতিক সূত্রে জানা যায়, ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক জোট ব্রিকসের বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলন অত্যন্ত জমকালোভাবে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই মহাগুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক সম্মেলনে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ছাড়াও চীন, ব্রাজিল ও দক্ষিণ আফ্রিকাসহ সদস্যভুক্ত বিভিন্ন রাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের সশরীরে অংশ নেওয়ার সুনির্দিষ্ট শিডিউল চূড়ান্ত রয়েছে। বর্তমান আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে যখন পশ্চিমা বিশ্বের সাথে রাশিয়ার নানা ধরনের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক টানাপোড়েন অব্যাহত রয়েছে, তখন ভারতে পুতিনের এই সম্ভাব্য উপস্থিতি পুরো বিশ্বের কূটনৈতিক অঙ্গনে এক বিরাট ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব বহন করছে। এই সম্মেলনকে নির্বিঘ্ন ও সর্বোচ্চ নিরাপদ রাখতে ভারত সরকার ও সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থাগুলো ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

নয়ডা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রাশিয়ার এই পরিবহন বিমানগুলোর সফল অবতরণ কেবল একটি আন্তর্জাতিক সফরের প্রস্তুতিই নয়, বরং ভারত ও রাশিয়ার মধ্যকার দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক, সামরিক ও কৌশলগত মৈত্রী সম্পর্কের এক অবিচল বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা। ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনকে ঘিরে সদস্য দেশগুলোর পারস্পরিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, বিকল্প মুদ্রা ব্যবস্থা এবং বৈশ্বিক নানা সংকট নিয়ে বিস্তারিত দ্বিপাক্ষিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নয়ডায় অবতরণ করা এই বিশেষ রুশ সামরিক বহর সম্মেলন শেষ হওয়া পর্যন্ত প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সহায়তা ও সমন্বয়ের কাজ অব্যাহত রাখবে বলে সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।

সর্বোপরি, পুতিনের সম্ভাব্য আগমনকে সামনে রেখে নয়াদিল্লি ও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলজুড়ে কয়েক স্তরের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক তদারকি করা হচ্ছে এবং ভারতীয় বিমানবাহিনী ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে। নয়ডা বিমানবন্দরে রুশ সামরিক বিমানের এমন নির্বিঘ্ন অবতরণ আন্তর্জাতিক মহলে বার্তা দিচ্ছে যে, ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনকে সফল করতে সকল প্রকার লজিস্টিক ও কূটনৈতিক প্রস্তুতি এখন একেবারে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

সূত্র: আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা ও টাইমস নাউ।

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন