নিজস্ব প্রতিবেদন / শাহজাদপুর, সিরাজগঞ্জ / দিগন্ত বাংলা নিউজ
সিরাজগঞ্জ জেলা শহরের কোল ঘেঁষে বয়ে যাওয়া প্রমত্তা যমুনা নদীর বুক থেকে আনুমানিক বারো বছর বয়সী এক অজ্ঞাতনামা কিশোরের অর্ধগলিত ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকাল সাড়ে দশটার দিকে সিরাজগঞ্জ পৌর শহরের পরিচিত বিনোদন ও শহররক্ষা বাঁধ এলাকা ক্রসবার-৩ সংলগ্ন যমুনা নদীর অববাহিকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নদীর পানিতে এক অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরের নিথর দেহ ভেসে ওঠার দৃশ্য স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীদের মাঝে গভীর ভীতি ও শোকের সঞ্চার করে। ঘটনার পর থেকেই পুরো শহরজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। তবে মরদেহ উদ্ধারের পর বেশ কয়েক ঘণ্টা অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত দুর্ভাগা ওই কিশোরের নাম, ঠিকানা কিংবা কোনো স্বজনের সন্ধান মেলেনি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল আনুমানিক নয়টার দিকে সিরাজগঞ্জ শহরের ক্রসবার-৩ বাঁধ এলাকায় স্থানীয় লোকজন যমুনা নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে দ্রুত পুলিশকে খবর দেন। নদীর পানিতে মরদেহ ভেসে থাকতে দেখে উপস্থিত মানুষের মাঝে তাৎক্ষণিক উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে সিরাজগঞ্জ সদর থানার অধীনস্থ ২ নম্বর পুলিশ ফাঁড়ি ও নৌ পুলিশের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উপস্থিত হন। পুলিশ সদস্যরা স্থানীয়দের সহযোগিতায় নদী থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে তীরে নিয়ে আসেন এবং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির প্রাথমিক কাজ সম্পন্ন করেন।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে ফেরার পথে কাভার্ডভ্যান-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে নিহত ৪
মরদেহের শারীরিক অবস্থা এবং পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে সিরাজগঞ্জ ২ নম্বর পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. কাউসার বলেন, “মরদেহটি দেখে ধারণা করা হচ্ছে, দুই থেকে তিন দিন আগে ওই কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। তার পরনে পায়জামা ছিল এবং মুখে পচন ধরেছে। প্রাথমিকভাবে তাকে মাদ্রাসার ছাত্র বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, নদীর পানিতে দীর্ঘক্ষণ নিমজ্জিত থাকায় কিশোরের মুখে পচন ধরেছে এবং অবয়ব কিছুটা বিকৃত হয়েছে। নিহতের পরনে কেবল সাদা পায়জামা থাকায় ধারণা করা হচ্ছে সে হয়তো স্থানীয় কোনো মাদ্রাসার শিক্ষার্থী।
আরও পড়ুন: কাজিপুরে পাচারকালে ৪৮ বস্তা সার জব্দ, ৩ ভ্যানচালককে জরিমানা
ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতার জন্য সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ উদঘাটন প্রসঙ্গে এএসআই মো. কাউসার আরও জানান, “নিহত কিশোরের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।” পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে স্পষ্ট হবে এটি দুর্ঘটনাজনিত পানিতে ডুবে মৃত্যু, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য বা অপরাধের ঘটনা রয়েছে।
অজ্ঞাতপরিচয় কিশোরের পরিচয় শনাক্ত করতে সিরাজগঞ্জ সদর থানা ও নৌ পুলিশ তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। জেলার অন্যান্য থানা এবং আশপাশের এলাকায় নিখোঁজ সংক্রান্ত তথ্যাদি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোনো পরিবার বা মাদ্রাসা থেকে কোনো কিশোর শিক্ষার্থী নিখোঁজ হয়ে থাকলে অবিলম্বে সিরাজগঞ্জ সদর থানা অথবা নিকটস্থ পুলিশ ফাঁড়িতে যোগাযোগ করার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে। সাধারণ মানুষের তথ্য সহযোগিতায় দ্রুত কিশোরের পরিচয় উন্মোচিত হবে বলে আশা করছে পুলিশ।
সূত্র: সিরাজগঞ্জ সদর থানা ও ২ নম্বর পুলিশ ফাঁড়ি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।