প্রতিবেদন: আব্দুস ছাত্তার (শামীম) / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ
চট্টগ্রামের উপকূলীয় শিল্পাঞ্চল সীতাকুণ্ডে রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দলীয় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় প্রকাশ্য দিবালোকে মারণাস্ত্র উঁচিয়ে ত্রাস সৃষ্টি করা তিন অস্ত্রধারীকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশ ও যৌথ অভিযানের সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম, চাঁদপুর এবং সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন দুর্গম স্থানে দীর্ঘ অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়। গত সোমবার (০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রাতে পরিচালিত অভিযানে আটক হওয়া ব্যক্তিরা হলেন মো. সাদেক আলী (২৮), কামরুল হাসান (৪৩) এবং মো. হানিফ (৩৪)। তবে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হলেও সংঘাতের দিন প্রকাশ্যে প্রদর্শিত মূল প্রাণঘাতী আগ্নেয়াস্ত্রসমূহ উদ্ধার না হওয়া নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
আরও পড়ুন: শাহজালালে ৪০ মিনিটে লাগেজ না পেলে জরিমানার হুঁশিয়ারি মন্ত্রীর
পুলিশের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, সহিংসতার পর থেকেই আসামিরা নিজেদের গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে ছিল। তবে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার রাতে একযোগে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযুক্ত মো. সাদেক আলীকে চট্টগ্রামের মীরসরাই এলাকা থেকে, কামরুল হাসানকে চাঁদপুর জেলা থেকে এবং মো. হানিফকে সীতাকুণ্ডের সলিমপুর ইউনিয়নের জঙ্গল সলিমপুর ছিন্নমূল পাহাড়ি এলাকা থেকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় আসামিদের কাছে থাকা গোপন স্থান থেকে ১টি দেশি একনলা কাটা বন্দুক, ১১টি ধারালো ছুরি, ৩টি কিরিচ, ১টি দা এবং ১৫টি লাঠি উদ্ধার করে পুলিশ।
তিন চিহ্নিত অস্ত্রধারী ধরা পড়লেও ঘটনার মূল উদ্বেগের বিষয় এখনো অধরা রয়ে গেছে। স্থানীয় অধিবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সংঘাতের দিনে প্রকাশ্যে তাণ্ডব চালানো অস্ত্রধারীদের হাতে যেসব ভয়াবহ আগ্নেয়াস্ত্র দেখা গিয়েছিল, সোমবার উদ্ধার হওয়া দেশীয় অস্ত্রের সাথে সেগুলোর কোনো মিল নেই। অর্থাৎ ওই দিনের সেই মূল মারণাস্ত্রগুলো এখনো পুলিশের নাগালের বাইরে রয়ে গেছে। ঘটনার বিবরণ দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত আলোকচিত্র ও ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়ার পরই তাঁদের আটক করা হয়।
আরও পড়ুন: সিরাজগঞ্জের নাসির-টিক্কা হত্যা নিয়ে চ্যানেল এসের সংবাদের বিরুদ্ধে স্বজনদের সংবাদ সম্মেলন
প্রকাশিত ছবি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ঘটনার দিন মো. সাদেক আলী ও সিরাজুল ইসলাম নামের দুই ব্যক্তি হাতে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্যে মহড়া দিচ্ছিলেন। এদের মধ্যে সাদেক গ্রেপ্তার হলেও অপর অস্ত্রধারী সিরাজুল ইসলাম এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে পলাতক। তাঁকে আইনের আওতায় আনতে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া সংগৃহীত ছবি পরীক্ষা করে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে যে কামরুল হাসানের হাতে একটি শুটার গান এবং মো. হানিফের হাতে একটি পিস্তল ছিল। ঘটনার সময় হানিফের সাথে একটি ব্যাগ ছিল, যার ভেতরে আরও একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র ছিল বলে প্রবল সন্দেহ পুলিশের।
সীতাকুণ্ডে প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে মহড়া দেওয়ার ঘটনাটি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাকে চরম হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। সীতাকুণ্ড থানা পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হচ্ছে। আদালতের মাধ্যমে তাঁদের রিমান্ডে এনে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে সংঘর্ষের দিন ব্যবহৃত সেই নির্দিষ্ট পিস্তল, শুটার গান এবং রহস্যময় ব্যাগে থাকা মূল আগ্নেয়াস্ত্রগুলোর সন্ধান পাওয়া যায়।
সূত্র: সীতাকুণ্ড থানা পুলিশ ও স্থানীয় সংবাদ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।