শাহজালালে ৪০ মিনিটে লাগেজ না পেলে জরিমানার হুঁশিয়ারি মন্ত্রীর

শাহজালালে ৪০ মিনিটে লাগেজ না পেলে জরিমানার হুঁশিয়ারি মন্ত্রীর
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেদন: আব্দুস ছাত্তার (শামীম) / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নবনির্মিত তৃতীয় টার্মিনালে ফ্লাইট অবতরনের সর্বোচ্চ ১৫ থেকে ৪০ মিনিটের মধ্যেই যাতে যাত্রীরা ব্যাগেজ হাতে পান, সে বিষয়ে কড়া নির্দেশনা দিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লাগেজ দিতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে জরিমানা করার ক্ষমতা থাকবে সিভিল এভিয়েশনের। মঙ্গলবার (০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকালে তৃতীয় টার্মিনাল সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা জানান।

বিমানবন্দর যাত্রীসেবার গুণগত মান বাড়াতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন পর্যটনমন্ত্রী। তিনি বলেন, রেমিট্যান্স যোদ্ধা প্রবাসী ও সাধারণ যাত্রীদের দীর্ঘদিন ধরে বিমানবন্দরে লাগেজ পাওয়ার জন্য যে প্রহর গুনতে হতো, নতুন টার্মিনালে সেই ভোগান্তি আর থাকবে না। লাগেজ খালাসের ব্যাপ্তি ও জরিমানার এই সুনির্দিষ্ট শর্তাবলী ইতোমধ্যে দায়িত্বপ্রাপ্ত জাপানি কনসোর্টিয়াম ও সুমিতমো করপোরেশনকে দাপ্তরিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়সীমার লঙ্ঘন হলে জরিমানার বিধান কার্যকর করার মাধ্যমে সেবার গতি নিশ্চিত করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আরও পড়ুন: শেখ হাসিনাকে ফেরাতে সরকার অনড়, ভারতের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভের প্রকাশ

দেশীয় এভিয়েশন খাতের সুসংবাদ হিসেবে এই টার্মিনাল চালুর তারিখ ঘোষণা করে মন্ত্রী জানান, আগামী ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসের শুভলগ্নে সীমিত পরিসরে তৃতীয় টার্মিনালে বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালন কার্যক্রম চালুর পূর্ণ পরিকল্পনা রয়েছে। এই লক্ষ্য অর্জনে বর্তমানে অত্যাধুনিক স্ক্যানার বসানো, কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স বুথ প্রস্তুতকরণ এবং দ্রুত ইমিগ্রেশন সুবিধা নিশ্চিতকরণের কাজ দ্রুততার সাথে সমন্বয় করা হচ্ছে। সরকারি বিভিন্ন সংস্থার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বিজয়ের মাসেই যাত্রী সাধারণের জন্য টার্মিনালের দ্বার উন্মোচন করা সম্ভব হবে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আরও জানান, ১৬ ডিসেম্বরের উদ্বোধনী লক্ষ্যমাত্রাকে সামনে রেখে জাপানি কনসোর্টিয়ামের সাথে চুক্তি সম্পাদন ও আলোচনা প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে পুরোদমে শুরু হয়েছে। আংশিক চালুর পর আগামী ৫ থেকে ৬ মাসের মধ্যে ধাপে ধাপে পুরো টার্মিনালে পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু করার আশা প্রকাশ করা হচ্ছে। সম্পূর্ণ কার্যক্রম চালু হলে ঢাকার এই বিমানবন্দরটি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতেও বিশেষ অবদান রাখবে।

আরও পড়ুন: উপজেলা নির্বাচনে ইসির নতুন আচরণবিধি জারি: পোস্টার ও শোডাউন নিষিদ্ধ

পরিদর্শনকালে বিমানবন্দরের সার্বিক প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও নিরাপত্তা প্রস্তুতি পর্যালোচনা করা হয়। মন্ত্রী উল্লেখ করেন, নতুন এই টার্মিনালে থাকবে সর্বাধুনিক আন্তর্জাতিক সুবিধাদি, যার ফলে বাংলাদেশের ভ্রমণকারীরা উন্নত বিশ্বের সমকক্ষ সেবা উপভোগ করতে পারবেন। প্রবাসী যাত্রীদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুততম সময়ে সেবা প্রদান নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

সার্বিকভাবে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে লাগেজ হস্তান্তরের বাধ্যবাধকতা ও বিলম্বের দায়ে জরিমানার নির্দেশনার পর সর্বস্তরের যাত্রীদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। টার্মিনালটির পূর্ণাঙ্গ পরিচালন শুরু হলে ঢাকা শাহজালাল বিমানবন্দর এভিয়েশন খাতে এক ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্র: বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়।

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন