উল্লাপাড়ায় পারিবারিক কলহের জেরে গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে যুবকের মৃত্যু

উল্লাপাড়ায় পারিবারিক কলহের জেরে গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে যুবকের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদন / শাহজাদপুর, সিরাজগঞ্জ / দিগন্ত বাংলা নিউজ

উত্তরবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী ও জনবহুল জনপদ সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া উপজেলা এলাকায় পারিবারিক কলহের জেরে এক মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক আত্মহত্যার ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। তুচ্ছ বিষয় নিয়ে সৃষ্ট পারিবারিক মনমালিন্য ও দীর্ঘস্থায়ী দ্বন্দ্বের জেরে ক্ষুব্ধ হয়ে এক তরুণ যুবক গ্যাস ট্যাবলেট নামক অত্যন্ত বিষাক্ত পদার্থ সেবন করে নিজের জীবন বিসর্জন দিয়েছেন। প্রাত্যহিক জীবনের নানা হতাশা এবং পারিবারিক সংকটের বশবর্তী হয়ে মানুষের এ ধরনের চরম সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সমাজ ব্যবস্থার ওপর এক গভীর কালো ছায়া ফেলেছে। শান্ত ও জনবহুল এই জনপদে ঘটে যাওয়া এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং এলাকায় চরম চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের উপার্জনক্ষম একজন যুবকের এমন আকস্মিক প্রয়াণে তার স্বজনদের কান্না ও আহাজারিতে এলাকার বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন: সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজের ভর্তি ফরমের নমুনা ছবিতে সিগারেট খাওয়া ব্যক্তির ছবি নিয়ে বিতর্ক

ঘটনার বিবরণী ও স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত বিস্তারিত তথ্যানুযায়ী, গত শনিবার কুয়াশাচ্ছন্ন বা স্বাভাবিক দিনে সংঘটিত এই ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন উপজেলার সদর ইউনিয়নের অধীনস্থ বজরাপুর গ্রামের নিবাসী মৃত ব্যক্তির সন্তান সাকিব হোসেন। বয়স হয়েছিল ছাব্বিশ বছর। পেশাগত দায়িত্ব পালনের উদ্দেশ্যে গত শনিবার সকালে নিজ বাড়ি থেকে বের হয়ে কাজের সন্ধানে যান সাকিব। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় কিংবা বৃষ্টির কারণে সেই দিন তিনি যথাসময়ে কাজ পরিচালনা করতে পারেননি। কোনো কাজ না পেয়ে একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে তিনি নিজ বাড়িতে ফিরে আসেন। বাড়িতে ফিরে আসার পরপরই পরিবারের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন বিষয় এবং ব্যক্তিগত নানা টানাপোড়েনকে কেন্দ্র করে তার স্ত্রী ও শাশুড়ির সঙ্গে একচোট তীব্র কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। পারিবারিক এই ঝগড়াঝাঁটি ও বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে তা চরম আকার ধারণ করে এবং স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী সেখানে মারধরের ঘটনাও সংঘটিত হয়।

কথা-কাটাকাটি ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির চরম পর্যায়ে চরম ক্ষোভ ও মানসিক যন্ত্রণার বশবর্তী হয়ে সাকিব হোসেন অত্যন্ত ক্ষতিকর ও বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ তথা গ্যাস ট্যাবলেট পান করে ফেলেন। গ্যাস ট্যাবলেট সেবন করার কিছুক্ষণের মধ্যেই তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটতে শুরু করে এবং তিনি মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। বাড়ির লোকজন ও আশপাশের প্রতিবেশীরা যখন বুঝতে পারেন যে তিনি বিষপান করেছেন, তখন মুহূর্তের মধ্যে তাদের মাঝে হাড়হিম করা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিবারের সদস্যরা চরম উৎকণ্ঠা ও দ্রুততার সঙ্গে তাকে উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় একটি চিকিৎসালয়ে বা হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু সেখানে তার শারীরিক অবস্থার কোনো উন্নতি না হওয়ায় চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য স্থানান্তরিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: শাহজাদপুরে স্যানিটারি ল্যান্ডফিল্ড এলাকায় জেলা প্রশাসকের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

স্থানীয় চিকিৎসালয় থেকে অবস্থার দ্রুত অবনতির কথা বিবেচনা করে পরবর্তীতে গুরুতর অসুস্থ সাকিব হোসেনকে সুদূর বগুড়া জেলার শতাব্দীপ্রাচীন ও সুপরিচিত শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রেখে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হয়। কিন্তু সমস্ত চিকিৎসা প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে গত শনিবার বিকেলে ওই হাসপাতালের চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। চিকিৎসকদের শত চেষ্টার পরও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি এবং বিষক্রিয়া তার পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়েছিল। মর্মান্তিক এই মৃত্যুর খবর দ্রুত তার নিজ গ্রাম বজরাপুরে পৌঁছালে পরিবারে শোকের মাতম শুরু হয় এবং প্রতিবেশীরা গভীর সমবেদনা জানাতে তার বাড়িতে ভিড় জমান।

এই আকস্মিক ও রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনার বিষয়ে সংবাদ মাধ্যম ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নিকট বিস্তারিত তুলে ধরে উল্লাপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মেহেদী হাসান অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার সঙ্গে গণমাধ্যমকে জানান যে, বিষপানে আত্মহত্যার ঘটনা শুনেছেন। তবে নিহতের মরদেহ এখনো বাড়িতে পৌঁছায়নি। বিস্তারিত জেনে ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বলা যাবে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর এবং পরিবারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে কিংবা তদন্তের ফলাফল হাতে আসলে মৃত্যুর প্রকৃত পেছনের রহস্য উন্মোচন করা সম্ভব হবে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন যে, পারিবারিক বিরোধ নিরসনে পারস্পরিক সহনশীলতা ও কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত জরুরি, যাতে আর কোনো তরতাজা প্রাণ এভাবে অঝোরে ঝরে না যায়।

সূত্র: স্থানীয় প্রতিনিধি ও পুলিশ প্রশাসন।

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন