চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় জমি দখল ও ঘরবাড়ি থেকে উচ্ছেদের অভিযোগ, অসহায় পরিবারের আকুতি

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় জমি দখল ও ঘরবাড়ি থেকে উচ্ছেদের অভিযোগ, অসহায় পরিবারের আকুতি

আলমডাংগা প্রতিনিধি / চুয়াডাঙ্গা / দিগন্ত বাংলা নিউজ

চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার রুইতনপুর গ্রামে জমি দখল, জোরপূর্বক ঘরবাড়ি থেকে উচ্ছেদ, নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার লুটপাট এবং গবাদিপশু ছিনিয়ে নেওয়ার অত্যন্ত গুরুতর ও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকার এক অসহায় ও দরিদ্র নারীর ওপর চালানো এই বর্বরোচিত কর্মকাণ্ডের প্রতিকার চেয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনো ধরনের সুরাহা মিলছে না বলে ভুক্তভোগী পরিবারটি অভিযোগ করেছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী ওই নারীর নাম উমিয়া খাতুন। তিনি রুইতনপুর গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা। অভিযোগের মূল কেন্দ্রে রয়েছেন একই গ্রামের মৃত ইয়াসিন শেখের সুযোগ্য পুত্র হিসেবে পরিচিত প্রভাবশালী ব্যক্তি আজিজুল হক ও তার অনুসারী সহযোগীরা। ভুক্তভোগী উমিয়া খাতুনের দীর্ঘদিনের অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি বহু বছর পূর্বে অভিযুক্ত আজিজুল হকের কাছ থেকে আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নির্দিষ্ট মূল্যে একটি জমি ক্রয় করেছিলেন। কিন্তু জমি ক্রয়ের পর থেকেই সেই জমির প্রকৃত দখল বুঝে পাওয়া নিয়ে বিক্রেতার সঙ্গে এক দীর্ঘস্থায়ী বিরোধের সূত্রপাত ঘটে। আর এই বিরোধকে কেন্দ্র করে তাকে বিভিন্ন সময় নানা ধরনের মিথ্যা মামলা, হামলা এবং প্রাণনাশের প্রকাশ্য হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলে তিনি জানান।

পরিস্থিতি একপর্যায়ে চরম আকার ধারণ করলে স্থানীয়ভাবে মাপজোক ও সালিশি আপসের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির একটি উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে যে, সমঝোতা বা মাপজোখের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরও ভুক্তভোগী নারী তার ক্রয়কৃত জমির দখল বুঝে পাননি। উল্টো প্রভাবশালী চক্রটি আরও বেশি আগ্রাসী হয়ে ওঠে। সাম্প্রতিক সময়ে উমিয়া খাতুনের প্রতিবন্ধী স্বামী ও কোমলমতি সন্তানদের ওপরও শারীরিক হামলার ঘটনা ঘটানো হয়েছে। এমনকি তার বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে নগদ অর্থ এবং মূল্যবান স্বর্ণালংকার জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই বিষয়ে ন্যায়বিচার পাওয়ার আশায় তিনি বাধ্য হয়ে স্থানীয় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে জানিয়েছেন।

ঘরবাড়ি ও নিজেদের স্থাবর সম্পত্তি হারানোর আশঙ্কায় চরম উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন ভুক্তভোগী পরিবারটি। এ বিষয়ে বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে ভুক্তভোগী উমিয়া খাতুন সংবাদমাধ্যমকে সুনির্দিষ্ট ভাষায় বলেন, “থানা থেকে পুলিশ ও আমিন গিয়ে জমি মেপে সবকিছু ঠিক করে দেওয়ার পরও আজিজুল ও তাঁর সহযোগীরা ওই জমি দখল করে রেখেছে। আমার দুটি ছাগলও নিয়ে গেছে। আমার ছেলেদেরও মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছে। বিষয়টি পুলিশকে জানিয়েও কোনো সহযোগিতা পাইনি।” এছাড়া তার বসতঘরের ভেতরে থাকা প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ও জীবিকা নির্বাহের একমাত্র সেলাই মেশিনটি অবরুদ্ধ রয়েছে বলেও জানান তিনি।

নিজের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে কান্নাজড়িত কণ্ঠে উমিয়া খাতুন আরও বলেন, “আমি গরিব মানুষ, তাঁদের সঙ্গে পেরে উঠব না। ভিক্ষা করে খাই। আমার স্বামী ও সন্তানরাও প্রতিবন্ধী। এ অবস্থায় আমি অসহায় হয়ে পড়েছি। আমি আমার জমি ও ঘর ফিরে পেতে চাই।” অন্যদিকে সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত আজিজুল হক। তিনি নিজের পক্ষে সাফাই গেয়ে জানান যে, তিনি পেশাগত কারণে ঢাকায় বসবাস করেন এবং এসব ঘটনার সঙ্গে তার দূরতম কোনো সম্পৃক্ততা বা সংশ্লিষ্টতা নেই।

এই স্পর্শকাতর ও আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর মতো গুরুতর বিষয়ে সুনির্দিষ্ট বক্তব্য নেওয়ার উদ্দেশ্যে আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ রকিবুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। যে কারণে এ বিষয়ে থানা পুলিশের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য বা মন্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। স্থানীয় সচেতন মহল ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের দাবি, অবিলম্বে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করুক এবং অসহায় পরিবারটির জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে তাদের প্রকৃত অধিকার ফিরিয়ে দিক।

এস.এইচ

আরও পড়ুন: রাজশাহীর বরেন্দ্র অঞ্চলে আগাম সবজি চাষে কৃষকদের নতুন স্বপ্ন, লক্ষ্য ১৫ হাজার হেক্টর

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন