তানোর প্রতিনিধি / রাজশাহী / দিগন্ত বাংলা নিউজ
রাজশাহীর তানোর উপজেলাসহ বরেন্দ্র অঞ্চলের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন আগাম শীতকালীন শাকসবজি চাষের এক নতুন উন্মাদনা ও নীরব বিপ্লব লক্ষ করা যাচ্ছে। কেউ জমিতে নতুন চারা রোপণ করছেন, কেউ আগাছা পরিষ্কার করছেন, আবার কেউ পরম যত্নে গাছের পরিচর্যা চালিয়ে যাচ্ছেন। শীতের আগমনী বার্তার আগেই আগাম জাতের সবজি বাজারে তোলার সম্ভাবনাকে সামনে রেখে কৃষকরা নতুন স্বপ্ন বুনছেন। অনুকূল আবহাওয়া ও সঠিক ব্যবস্থাপনায় ভালো ফলন ও চড়া দাম পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন তারা।
তানোরের পাশাপাশি সীমান্তসংলগ্ন মোহনপুর উপজেলার পিয়ারপুর, ভিমনগর ও পালশা গ্রামের মাঠগুলো সবুজ ফসলে ভরে উঠতে শুরু করেছে। এসব জমিতে ফুলকপি, বাঁধাকপি, লাউ, শিম, ঝিঙে, করলা, পটল, বেগুন এবং কাঁচামরিচসহ নানা পুষ্টিসমৃদ্ধ সবজি আবাদে নিজেদের শ্রম দিচ্ছেন কৃষকরা। মোহনপুর উপজেলার ঘাষিগ্রামের উদীয়মান কৃষক আলী হোসেন পড়াশোনা শেষ করে গতানুগতিক চাকরির পেছনে না ছুটে কৃষিকাজ বেছে নিয়েছেন। তিনি নিজের পাঁচ বিঘা জমিতে নানা ধরনের আগাম শীতকালীন সবজি চাষ করেছেন। আলী হোসেন জানান, তার এই পাঁচ বিঘা জমিতে সবজি আবাদ করতে প্রায় তিন লাখ টাকা খরচ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়ায় দুই থেকে তিন লাখ টাকা লাভের আশা করছেন তিনি।
শুধু আলী হোসেন নন, লাভের স্বপ্ন দেখছেন বরেন্দ্র অঞ্চলের অন্য কৃষকরাও। গোদাগাড়ীর দেওপাড়া ইউনিয়নের কদমশহর এলাকার কৃষক মোহাম্মদ আমিন চার বিঘা জমিতে লাউ, বেগুন, ঝিঙে ও শিম চাষ করেছেন। তার উৎপাদনে মোট ব্যয় হয়েছে এক লাখ ছাব্বিশ হাজার সাতশো টাকা। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এই জমি থেকে তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা আয় হবে বলে আশা করেন তিনি। কৃষক মোহাম্মদ আমিন জানান, স্থানীয় কৃষি বিভাগের প্রশিক্ষণ ও মাঠপর্যায়ের পরামর্শ তাদের উৎপাদনে সহায়তা করছে। রোগবালাই দেখা দিলে কর্মকর্তাদের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ায় ফসল রক্ষা সহজ হচ্ছে এবং সার পেতেও কোনো সমস্যা হচ্ছে না।
রাজশাহীর মাঠজুড়ে বর্তমানে এমন কর্মব্যস্ততা ও সম্ভাবনার চিত্র বিরাজ করছে। কোথাও নতুন জমি তৈরি হচ্ছে, কোথাও চলছে চারা রোপণ, আবার কোথাও গাছের পরিচর্যা। কিছু আগাম সবজি ইতিমধ্যে বাজারেও উঠতে শুরু করেছে। তবে অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে কোথাও চারার গোড়ায় পচন এবং পাতার পোকার আক্রমণসহ নানা রোগবালাইয়ের ঝুঁকি রয়েছে। তা সত্ত্বেও কৃষকদের মনে কোনো হতাশা নেই। কৃষকদের এই আশাকে শক্তিশালী করতে মাঠপর্যায়ে কাজ করছে কৃষি বিভাগ। মোহনপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কামরুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ২২৬ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ধরনের আগাম শাক-সবজি উৎপাদিত হচ্ছে। কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন করে রোগবালাই শনাক্তকরণ ও জৈবসার ব্যবহারে উৎসাহিত করছেন।
এদিকে রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোস্তফা কামাল হোসেন জানান, রাজশাহী জেলায় এবার শীতকালীন সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে। এরই মধ্যে প্রায় তিন হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে চাষাবাদ শেষ হয়েছে। বাকি জমিতেও চলছে প্রস্তুতি ও পরিচর্যার কাজ। মাঠ প্রশাসনের এই সর্বাত্মক সহযোগিতায় বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এস.এইচ
আরও পড়ুন: গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের মৃত্যু মামলা: বাদীপক্ষের সঙ্গে আপস ও জামিন শুনানি



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।