বেড়া প্রতিনিধি / পাবনা / দিগন্ত বাংলা নিউজ
গ্রামীণ পর্যায়ে খেলাধুলা যুবসমাজকে আনন্দ দেওয়ার পাশাপাশি অনেক সময় তুচ্ছ বিষয় কেন্দ্র করে মারাত্মক সামাজিক সংঘাতে রূপ নেওয়ার নজির রয়েছে। এমনি এক অনভিপ্রেত ও সহিংস ঘটনার সাক্ষী হলো পাবনা জেলার বেড়া পৌর এলাকা। স্থানীয় একটি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফলাফল নির্ধারণকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে দুই মহল্লার বাসিন্দাদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ফলে অর্ধশতাধিক মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন। পাশাপাশি বেশ কিছু দোকানপাট ও বসতবাড়িতে ভাঙচুর, লুটপাট এবং অগ্নিসংযোগের মতো ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ পাওয়া গেছে, যা স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
আরও পড়ুন: ব্রাহ্মণপাড়ায় চার হাজার পিস ইয়াবাসহ নারী মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গত রবিবার সন্ধ্যায় বেড়া পৌর এলাকার নাজিম বাজার সংলগ্ন এলাকায় এই মারাত্মক সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এর আগে বেড়া বিবি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে স্থানীয় ওয়ার্ডভিত্তিক একটি ফুটবল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। টুর্নামেন্টের নির্ধারিত খেলায় ২ নম্বর ওয়ার্ড এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যকার ম্যাচটি নির্ধারিত সময়ে এক এক গোলে ড্র হয়। খেলার ফলাফল মীমাংসার জন্য পরবর্তীতে পেনাল্টি শুটআউটের উদ্যোগ নেওয়া হলে দুই দলের সমর্থকদের মাঝে চরম বাকবিতণ্ডা ও বিরোধের সৃষ্টি হয়।
এই সামান্য বিরোধ মুহূর্তের মধ্যে তীব্র আকার ধারণ করে এবং ২ নম্বর ওয়ার্ডের সরদারপাড়া ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বনগ্রাম মহল্লার বাসিন্দারা লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। সন্ধ্যা সাতটা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত চলা এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ আশপাশের জনবহুল এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া চলে। উন্মত্ত জনতা অন্তত পনেরটি দোকান এবং বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট করে। এমনকি কয়েকটি দোকানে সুকৌশলে অগ্নিসংযোগ করা হলে এলাকায় আগুন ও ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে।
আরও পড়ুন: মোদি সরকারের পতন অনিবার্য, দাবি রাহুল গান্ধীর: উত্তাল ভারতের রাজনীতি
সংঘর্ষের এই ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আকস্মিক এই হামলায় রক্তাক্ত জখম হওয়া অনেককেই তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করে বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ স্থানীয় বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার ভয়াবহতা বুঝতে পেরে স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে। খবর পাওয়া মাত্রই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুনাল্ট চাকমা তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে নেতৃত্ব দেন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বেড়া মডেল থানা পুলিশের পাশাপাশি সাঁথিয়া ও সুজানগর থানার পুলিশ দল, পাবনা পুলিশ লাইনস এবং এসআরবি সদস্যরা যৌথভাবে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করেন। পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বেশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি এবং কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করতে হয়। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ে বেড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নয়ন কুমার সরকার গণমাধ্যমকে বলেন, ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের বিরোধ থেকেই মূলত এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে। পুলিশ ও এসআরবি সদস্যদের হস্তক্ষেপে বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকায় যাতে নতুন করে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা বা উত্তেজনা সৃষ্টি না হয়, সে জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুনাল্ট চাকমা গণমাধ্যমকে জানান যে, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছেন। বর্তমানে এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে পরবর্তীতে যদি কেউ ফের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ও প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।
এস.এইচ
আরও পড়ুন: আন্দোলন শুরুর আগেই মোদি পরাজয় মেনে নিয়েছেন: অভিজিৎ দীপকে

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।