চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি / চুয়াডাঙ্গা / দিগন্ত বাংলা নিউজ
পারিবারিক কলহ এবং দাম্পত্য কোন্দলের জেরে নৃশংসতার এক লোমহর্ষক ঘটনা সংঘটিত হয়েছে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার একটি জনবহুল আবাসিক মহল্লায়। তুচ্ছ কোনো বিষয় নিয়ে স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যকার দীর্ঘদিনের বা তাৎক্ষণিক বিরোধের চরম পরিণতি হিসেবে ধারালো দেশীয় অস্ত্রের এলোপাতাড়ি কোপে মারাত্মকভাবে ক্ষতবিক্ষত হয়েছেন এক গৃহবধূ। রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে ঘটা এই বর্বর হামলায় এলাকায় চরম চাঞ্চল্য ও থমথমে পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। আকস্মিক এমন পৈশাচিক সহিংসতায় হতবাক হয়ে গেছেন স্থানীয় প্রতিবেশীরাও, যারা দ্রুত এগিয়ে এসে ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।
আরও পড়ুন: ফরিদপুর মেডিকেলে ট্রলি না পেয়ে কোলে অক্সিজেন নিয়ে ছোটাছুটি, পথেই শিশুর মৃত্যু
প্রাপ্ত তথ্য এবং স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১২টা ১০ মিনিটের দিকে চুয়াডাঙ্গা পৌর শহরের হকপাড়া এলাকার নিজ বাসভবনে এই মর্মান্তিক হামলার ঘটনাটি ঘটে। হামলায় গুরুতরভাবে আহত হওয়া ওই নারীর নাম সেলিনা খাতুন (৩৮), যিনি পেশায় গৃহবধূ এবং চুয়াডাঙ্গা শহরের হকপাড়া নিবাসী ইকবাল হোসেনের স্ত্রী। পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় বা মতপার্থক্যের জের ধরেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের সূত্রপাত হয়েছিল বলে প্রাথমিক তথ্যে আভাস মিলেছে। সেই বিরোধের জেরে ক্ষিপ্ত হয়ে স্বামী ইকবাল হোসেন দেশীয় ধারালো অস্ত্র হাতে স্ত্রীর ওপর চড়াও হন এবং শরীরের বিভিন্ন সংবেদনশীল স্থানে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাকে গুরুতর জখম করেন।
হামলার শব্দ ও ভুক্তভোগীর আর্তচিৎকারে আশেপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলের দিকে ছুটে আসেন এবং রক্তাক্ত অবস্থায় সেলিনা খাতুনকে উদ্ধার করেন। ততক্ষণে তার শরীর থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হতে শুরু করে এবং তিনি প্রায় অচেতন হয়ে পড়েন। স্থানীয় বাসিন্দারা তাৎক্ষণিকভাবে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। তবে এই নির্মম পারিবারিক সহিংসতার সুনির্দিষ্ট ও প্রকৃত নেপথ্য কারণ কী ছিল, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
আরও পড়ুন: দেশে ২০ জেলায় সমন্বিত মেডিকেল অক্সিজেন প্রকল্প হাতে নিচ্ছে সরকার: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
আহত গৃহবধূর শারীরিক অবস্থা অবনতি হওয়ার প্রেক্ষাপট এবং চিকিৎসা বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নাজমুস সাকিব সংবাদমাধ্যম রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে জানান, “ওই নারীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গভীর ক্ষত হয়েছে। তাঁর প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রামেক) রেফার করা হয়েছে।” চিকিৎসকদের মতে, তার আঘাত অত্যন্ত গুরুতর হওয়ায় সময়মতো উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা না গেলে বড় ধরনের ঝুঁকি থেকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে নারী নির্যাতনের এই বর্বরোচিত ঘটনার পর থেকে স্থানীয় এলাকায় আইনশৃঙ্খলার সার্বিক পরিস্থিতি ও নারীর নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত স্বামী কর্তৃক নিজ স্ত্রীকে এমন নির্মমভাবে কোপানোর পর উদ্ভূত পরিস্থিতি সম্পর্কে আইনগত পদক্ষেপের বিষয়ে জানতে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের পরিদর্শক মো. মনিরুজ্জামানের সরকারি মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তিনি ফোন রিসিভ না করায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য বা বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল ও এলাকাবাসী অবিলম্বে হামলাকারী স্বামীকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এস.এইচ
আরও পড়ুন: মনোহরী দোকানের আড়ালে মাদক ব্যবসা: শাহজাদপুরে ১৫ পিস ইয়াবাসহ এক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।