সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে বৃক্ষ মেলার উদ্বোধন বিলম্বিত হওয়ায় চরম বিপাকে নার্সারি ব্যবসায়ীরা

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে বৃক্ষ মেলার উদ্বোধন বিলম্বিত হওয়ায় চরম বিপাকে নার্সারি ব্যবসায়ীরা

কালিগঞ্জ প্রতিনিধি / সাতক্ষীরা / দিগন্ত বাংলা নিউজ

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং সাধারণ মানুষের মাঝে বৃক্ষরোপণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরতে দেশজুড়ে বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত নানা মেলার আয়োজন করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার ঐতিহাসিক বিষ্ণুপুর এলাকার ঐতিহ্যবাহী চাঁচাই ফুটবল মাঠে এবছরও জমজমাট একটি বৃক্ষ মেলার আয়োজন করা হয়েছে। কিন্তু মেলার মূল আকর্ষণ ও কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন না হওয়ায় গভীর অনিশ্চয়তা ও চরম বিপাকে পড়েছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত নার্সারি মালিক ও ব্যবসায়ীরা। গত শুক্রবারের সকাল পেরিয়ে যাওয়ার পরও উদ্বোধনের কোনো সুনির্দিষ্ট দেখা না মেলায় চরম হতাশা ব্যক্ত করেছেন তারা।

আরও পড়ুন: শাহজাদপুরে নানা আয়োজনে ‘জাতীয় উৎপাদনশীলতা দিবস-২০২৬’ উদযাপিত

সরেজমিন অনুসন্ধানে চাঁচাই ফুটবল মাঠে গিয়ে দেখা যায় যে, মাঠের চারপাশজুড়ে বিভিন্ন নার্সারি থেকে অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে নিয়ে আসা ফলদ, বনজ, ঔষধি এবং নানা ধরনের শৌখিন গাছের বিপুল পরিমাণ চারা দিয়ে দৃষ্টিনন্দন স্টলগুলো সাজিয়ে রাখা হয়েছে। ব্যবসায়ীরা স্ব স্ব স্টলে উপস্থিত থেকে ক্রেতাদের অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছেন। অথচ মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন সম্পন্ন না হওয়ায় এবং সাধারণ ক্রেতাদের অবাধ কেনাবেচার সুযোগ তৈরি না হওয়ায় তারা কাঙ্ক্ষিত ব্যবসা পরিচালনা থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত হচ্ছেন। দীর্ঘ সময় ধরে মাঠে ফেলে রাখা এসব কচি চারা গাছের গুণগত মান নষ্ট হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির প্রবল আশঙ্কায় দিন কাটছে তাদের।

মেলায় অংশ নেওয়া একাধিক নার্সারি ব্যবসায়ী অত্যন্ত ক্ষোভ ও উদ্বেগের সঙ্গে জানান যে, মেলার পূর্বনির্ধারিত শিডিউল অনুযায়ী যথাসময়ে উদ্বোধন হবে এবং বেচাকেনাও শুরু হয়ে যাবে—এমন আশাবাদী প্রত্যাশা নিয়েই তারা আগেভাগে বিপুল বিনিয়োগ করে বিভিন্ন প্রজাতির হাজার হাজার চারা নিয়ে মাঠে হাজির হয়েছেন। সুদূরদূরান্ত থেকে চারা পরিবহন খরচ, শ্রমিকদের মুজুরি প্রদান এবং দৃষ্টিনন্দন স্টল প্রস্তুত করার পেছনে ইতোমধ্যে তাদের পকেট থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়ে গেছে। কিন্তু মেলার উদ্বোধনী কার্যক্রমে অনাকাঙ্ক্ষিত এই বিলম্বের কারণে তাদের পুরো ব্যবসায়িক পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

আরও পড়ুন: শাহজাদপুরে মহাসড়কে অভিযান: ইউপি সদস্যসহ তিনজন গ্রেপ্তার, তিন বোতল মদ উদ্ধার

স্থানীয় অভিজ্ঞ ব্যবসায়ীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মেলার কার্যক্রম শুরু হতে যদি আরও বেশি বিলম্ব ঘটে, তবে সাধারণ ক্রেতাদের উপস্থিতির হার মারাত্মকভাবে কমে যেতে পারে। তাছাড়া খোলা আকাশের নিচে দীর্ঘদিন ধরে এভাবে পড়ে থাকলে গাছের শিকড় শুকিয়ে ও পাতা ঝরে গিয়ে চারার আসল গুণগত মান চিরতরে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এতে করে অনেক ক্ষুদ্র ও মাঝারি নার্সারি মালিকের পুঁজি হারিয়ে লক্ষাধিক টাকা পর্যন্ত আর্থিক লোকসানের সম্মুখীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অপরদিকে স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও এলাকাবাসীর মতে, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং বনায়নকে উৎসাহিত করার জন্য এ ধরনের মেলার গুরুত্ব অপরিহার্য। দ্রুত মেলাটি চালু হলে সাধারণ ক্রেতারা উপকৃত হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসায়ীরাও তাদের লোকসান কাটিয়ে উঠতে পারবেন।

সার্বিক এই পরিস্থিতিতে চরম বিপাকে পড়া নার্সারি ব্যবসায়ীরা সংশ্লিষ্ট স্থানীয় প্রশাসন ও আয়োজক কমিটির দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের জোরালো দাবি, অবিলম্বে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করে চারাবিক্রি ও প্রদর্শনীর কার্যক্রম শুরু করা হোক। এর ফলে একদিকে যেমন মেলার মূল উদ্দেশ্য ও তাৎপর্য সফলভাবে বাস্তবায়িত হবে, অন্যদিকে সম্ভাব্য মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির হাত থেকেও রক্ষা পাবেন খেটে খাওয়া নার্সারি ব্যবসায়ীরা।

এস.এইচ

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন