হংকংয়ের আলোচিত মডেল অ্যাবি চোই হত্যা মামলার বিচার শুরু: নেপথ্যে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ

হংকংয়ের আলোচিত মডেল অ্যাবি চোই হত্যা মামলার বিচার শুরু: নেপথ্যে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক / দিগন্ত বাংলা নিউজ

বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী হংকংয়ের খ্যাতিমান মডেল ও সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার অ্যাবি চোই হত্যাকাণ্ডের বহুল প্রতীক্ষিত বিচারিক কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। গত বুধবার স্থানীয় বিচারিক আদালত হংকং হাইকোর্টে এই চাঞ্চল্যকর মামলার প্রথম দিনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও নৃশংস হিসেবে আলোচিত এই হত্যা মামলার বিচারকে কেন্দ্র করে হংকংয়ের বিচার অঙ্গন এবং সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক কৌতূহল ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘ তদন্ত প্রক্রিয়া, আলামত সংগ্রহ ও আইনি প্রস্তুতি শেষে শুরু হওয়া এই বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে পৈশাচিক এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য রহস্য সম্পূর্ণভাবে উন্মোচিত হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও পড়ুন: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে বৃক্ষ মেলার উদ্বোধন বিলম্বিত হওয়ায় চরম বিপাকে নার্সারি ব্যবসায়ীরা

আদালতে মামলার উদ্বোধনী শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিরা বা প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করা কিছু তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রসিকিউশনের জোরালো দাবি অনুযায়ী, নিহত ২৮ বছর বয়সী তরুণী মডেল অ্যাবি চোইকে অত্যন্ত সুপরিকল্পিত ও ঠান্ডা মাথায় হত্যা করা হয়েছিল। এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ হিসেবে আসামিদের সঙ্গে সম্পত্তির বিরোধ এবং লোভের বিষয়টি সামনে নিয়ে আসা হয়েছে। নিহত তরুণীর সাবেক শ্বশুরবাড়ির লোকজন পারিবারিক সম্পত্তি এবং একটি বিলাসবহুল আবাসন বা ফ্ল্যাটের মালিকানা নিয়ে তৈরি হওয়া দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্বের জের ধরেই এই চরম ও নৃশংস পথ বেছে নিয়েছিল বলে রাষ্ট্রপক্ষ আদালতের সামনে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উত্থাপন করেছে।

এই চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলায় কাঠগড়ায় অভিযুক্ত তিন প্রধান ব্যক্তি আদালতে নিজেদের নির্দোষ বলে দাবি করেছেন। অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছেন নিহত মডেলের সাবেক শ্বশুর কাও কুয়াং, সাবেক স্বামী অ্যালেক্স কুয়াং এবং সাবেক দেবর অ্যান্থনি কুয়াং। মামলার শুনানিতে প্রসিকিউশন পক্ষ বিশদ বিবরণ দিয়ে জানায় যে, অ্যাবি চোইয়ের ব্যক্তিগত মালিকানাধীন একটি অত্যন্ত মূল্যবান বিলাসবহুল ফ্ল্যাট বিক্রি করার উদ্যোগ নেওয়াকে কেন্দ্র করে মূলত এই বিরোধের সূত্রপাত ঘটেছিল। আনুমানিক ২০২২ সালের দিকে প্রায় ৭ কোটি ২০ লাখ হংকং ডলার মূল্যের সেই বিলাসবহুল ফ্ল্যাটটি বিক্রির সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিলেন অ্যাবি, আর এই আবাসন সম্পত্তির মালিকানা সংক্রান্ত তীব্র বিরোধের জেরে পরবর্তীতে তাকে পৃথিবী থেকে চিরطرف সরিয়ে দেওয়ার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা করা হয়।

আরও পড়ুন: সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে অবৈধভাবে সার গুদামজাতের অভিযোগে জামায়াত নেতাসহ জরিমানা ও সার জব্দ

মামলার তদন্ত সূত্রে আরও জানা যায় যে, ২০২৩ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি হঠাৎ করেই রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যান জনপ্রিয় মডেল অ্যাবি চোই। তার নিখোঁজ হওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দেশজুড়ে ব্যাপক তল্লাশি ও নিবিড় তদন্ত শুরু করে। দীর্ঘ তিন দিন পর তাই পো এলাকার একটি ভাড়া নেওয়া গোপন ফ্ল্যাটের ভেতর থেকে পুলিশ অত্যন্ত বিভীষিকাময় ও পৈশাচিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়। ওই ফ্ল্যাটের ভেতর থেকে তরুণীর দেহের বিভিন্ন খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করা হয়, যা দেখে পুরো হংকংজুড়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম হয়েছিল। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি মাংস কাটার যন্ত্র, একটি শক্তিশালী বৈদ্যুতিক করাত এবং বেশ কিছু রক্তমাখা পোশাক জব্দ করে। এছাড়া অত্যন্ত নৃশংসভাবে রান্নাঘরের একটি পাত্রে বিভিন্ন সবজির সঙ্গে নিহতের মাথার খুলি এবং ফ্রিজের ভেতর থেকে তার দুটি পা উদ্ধার করা হয়েছিল।

রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিরা আদালতের সামনে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেছেন যে, পৈশাচিক এই হত্যাকাণ্ডে কাঠগড়ায় দাঁড়ানো তিন আসামির প্রত্যেকেই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিল। অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় সংঘটিত এই অপরাধের পূর্ণাঙ্গ বিচার সম্পন্ন করতে দীর্ঘ সময় প্রয়োজন হতে পারে। আদালতের প্রাক্কলন অনুযায়ী, আগামী আট সপ্তাহ ধরে একটানা এই চাঞ্চল্যকর মামলার বিচারিক কার্যক্রম, সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক চলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুরো বিচার প্রক্রিয়া শেষে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে এবং অপরাধীরা তাদের যথাযথ শাস্তির মুখোমুখি হবে—এমনটাই প্রত্যাশা করছেন নিহত মডেলের স্বজন ও সাধারণ মানুষ।

এস.এইচ

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন