তারাগঞ্জ প্রতিনিধি / রংপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ
দেশের যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রাখতে মাদকবিরোধী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে স্থানীয় প্রশাসন। এরই ধারাবাহিকতায় রংপুর জেলার তারাগঞ্জ উপজেলায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি বিশেষ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও গোপন খবরের ভিত্তিতে পরিচালিত এই মোবাইল কোর্ট অভিযানে মাদক সেবনের অপরাধে চার ব্যক্তিকে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। প্রশাসনের এই সময়োপযোগী ও কঠোর পদক্ষেপে স্থানীয় সচেতন মহলে স্বস্তি নেমে এসেছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে প্রাপ্ত বিস্তারিত তথ্যানুযায়ী, গত সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে তারাগঞ্জ উপজেলার কুর্শা ইউনিয়ন এলাকায় এই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। ওই দিন দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটের দিকে নির্ধারিত এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাদক সেবনরত অবস্থায় হাতেনাতে অভিযুক্তদের আটক করা হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, রংপুরের সার্বিক সহযোগিতায় এবং সুনির্দিষ্ট প্রসিকিউশনের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাৎক্ষণিকভাবে এই দণ্ডাদেশ প্রদান করা হয়, যা এলাকায় মাদকসেবীদের মাঝে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, দণ্ডপ্রাপ্ত চার ব্যক্তি হলেন তারাগঞ্জ উপজেলার অনন্তপুর দক্ষিণপাড়া এলাকার মৃত ফেরদৌসের ছেলে গোলাম রব্বানী (২৭), একই এলাকার মৃত মাহাতাব উদ্দিনের ছেলে রাজু আহম্মেদ (৪৮), কুর্শা ডাঙ্গাপাড়া এলাকার মৃত মাহাতাবের ছেলে আপেল (৩০) এবং জদ্দিপাড়া এলাকার মো. আমছার আলীর ছেলে লাল মিয়া (২৫)। আদালত আইন লঙ্ঘন করে মাদক সেবন করার অপরাধে তাদের প্রত্যেককে তিন মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। একই সঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে একশ টাকা করে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা হয়।
আরও পড়ুন: শাহজাদপুরে বিশ্ব কন্যাশিশু দিবস পালিত, শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ
এই মোবাইল কোর্ট সফলভাবে পরিচালনা করেন তারাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোনাব্বর হোসেন। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ও প্রসিকিউশন দাখিল করতে তাঁকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, রংপুরের সম্মানিত পরিদর্শক এস. এম. এলতাস উদ্দিন এবং উপপরিদর্শক মো. তাহমুদার রহমান। এছাড়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি বিশেষ টিম পুরো অভিযান পরিচালনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করে।
মাদকবিরোধী এই অভিযান ও রায়ের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তারাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোনাব্বর হোসেন গণমাধ্যমকে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "তারাগঞ্জে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। আমরা বরাবরই মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যাব।" তিনি আরও জোরালোভাবে উল্লেখ করেন যে, "মাদক নির্মূলে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদকের বিরুদ্ধে এ ধরনের কার্যক্রমের মাধ্যমে এলাকায় মাদক সেবন ও অপব্যবহার প্রতিরোধে কাজ করা হচ্ছে।"
স্থানীয় এলাকাবাসীর মতে, তারাগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কতিপয় অসাধু ব্যক্তি নিয়মিত মাদক সেবন ও কারবারে লিপ্ত থাকায় সামাজিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছিল। প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি ও এ ধরনের মোবাইল কোর্ট পরিচালনার ফলে অপরাধীরা কোণঠাসা হয়ে পড়বে। সাধারণ মানুষ প্রত্যাশা করছেন যে, প্রশাসনের এই ধারাবাহিক মাদকবিরোধী অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং এর মাধ্যমে যুবসমাজ একটি সুন্দর ও সুস্থ ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যেতে পারবে।
এস.এইচ
আরও পড়ুন: শাহজাদপুরে ১৫ পিস ইয়াবাসহ তালিকাভুক্ত মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।