নিজস্ব প্রতিবেদন / শাহজাদপুর, সিরাজগঞ্জ / দিগন্ত বাংলা নিউজ
কৃষি খাতে বহুমুখী চাষাবাদ ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে প্রতিনিয়ত নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হচ্ছে। রাসায়নিক সারের পরিবর্তে জৈব পদ্ধতির ওপর নির্ভর করে এবং একই জমিতে একাধিক ফসল ফলিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার অনন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার এক উদীয়মান কৃষক। কম খরচে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে চাষাবাদ পরিচালনা করে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছেন তিনি। তাঁর এই অনুকরণীয় উদ্যোগ এখন এলাকার অন্যান্য কৃষকদের মধ্যেও উৎসাহ ও উদ্দীপনার সঞ্চার করেছে, যা স্থানীয় কৃষিসমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
আরও পড়ুন: রংপুরের তারাগঞ্জে মাদক সেবনের দায়ে চারজনকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ধুকুড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা কৃষক লিটন মণ্ডল ৪০ শতক বিস্তীর্ণ জমিতে সুস্বাদু ও উচ্চ ফলনশীল ‘নয়ন কাজল’ জাতের বেগুন চাষ করেছেন। একই সঙ্গে মূল ফসলের পাশাপাশি জমির আইল ও সীমানায় সাথি ফসল হিসেবে লাউ চাষ করে জমির সর্বোচ্চ ও সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করেছেন। ক্ষতিকর রাসায়নিক কীটনাশক কিংবা অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহারের পরিবর্তে তিনি সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব ভার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সারসহ বিভিন্ন উন্নতমানের জৈব সার প্রয়োগ করেছেন। বীজ বপন, মাচা নির্মাণ, চারা পরিচর্যা এবং আনুষঙ্গিক সমস্ত কাজ মিলিয়ে এ পর্যন্ত তাঁর মোট ব্যয় হয়েছে প্রায় দেড় লক্ষ টাকা।
নিজের সফলতার বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে কৃষক লিটন মণ্ডল জানান, ‘নয়ন কাজল’ বেগুনের বাজারে ভালো চাহিদা রয়েছে। প্রতি সপ্তাহে খেত থেকে ৮ থেকে ১০ মণ বেগুন তুলে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে প্রায় ১৫ হাজার টাকা আয় করছেন তিনি। উৎপাদন ও বিক্রি স্বাভাবিক থাকলে মৌসুম শেষে ভালো লাভের আশা করছেন। তাঁর এই আশাবাদ অনুযায়ী সব খরচ বাদ দিয়ে মৌসুম শেষে চার থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত শুদ্ধ লভ্যাংশ অর্জনের সুদৃঢ় প্রত্যাশা করছেন এই পরিশ্রমী কৃষক।
আরও পড়ুন: ব্রাহ্মণপাড়ায় চার হাজার পিস ইয়াবাসহ নারী মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
মূল ফসলের পাশাপাশি অতিরিক্ত কোনো উল্লেখযোগ্য খরচ ছাড়াই জমির সীমানায় ‘হাজারি লাউ’ চাষ করায় অতিরিক্ত আয়ের এক দারুণ সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই ভূখণ্ডে ভিন্নধর্মী দুটি ফসলের সফল উৎপাদন কৃষিক্ষেত্রে আধুনিক ব্যবস্থাপনা ও লাভজনক কৃষির এক উৎকৃষ্ট উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। লিটনের এই অসাধারণ সাফল্য দেখে ধুকুড়িয়া গ্রামসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার কৃষকরাও ভীষণভাবে অনুপ্রাণিত হচ্ছেন এবং আগামী মৌসুমে একই পদ্ধতিতে চাষাবাদ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করছেন।
স্থানীয় কৃষকরা মনে করছেন, কৃষি বিভাগের নিয়মিত পরামর্শ, সঠিক দিকনির্দেশনা ও সার্বিক প্রশিক্ষণ পেলে এ ধরনের বহুমুখী ও লাভজনক চাষাবাদ পদ্ধতি আরও ব্যাপক বিস্তার লাভ করবে। এতে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের জন্য নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে প্রান্তিক কৃষকদের অর্থনৈতিক সচ্ছলতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। এলাকার কৃষকদের এই ক্রমবর্ধমান আগ্রহ কৃষি খাতের সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সচেতন মহল বিশ্বাস করেন।
এই বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে গিয়ে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এস এম নাসিম হোসেন বলেন, জৈব পদ্ধতিতে ‘নয়ন কাজল’ বেগুন চাষের পাশাপাশি সাথি ফসল হিসেবে লাউ উৎপাদন একটি ভালো উদ্যোগ। নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও কৃষিকে বাণিজ্যিকভাবে এগিয়ে নিতে লিটনকে প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে মাঠপর্যায়ে এ ধরনের উদ্ভাবনী উদ্যোগকে সবসময় উৎসাহিত ও সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করা হয় বলেও তিনি জানান।
এস.এইচ
আরও পড়ুন: মোদি সরকারের পতন অনিবার্য, দাবি রাহুল গান্ধীর: উত্তাল ভারতের রাজনীতি

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।