ট্রাম্প চীনা প্রেসিডেন্টের সাথে বৈঠকটিকে ‘দারুণ’ বলে অভিহিত করেছেন।

ট্রাম্প চীনা প্রেসিডেন্টের সাথে বৈঠকটিকে ‘দারুণ’ বলে অভিহিত করেছেন।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, দিগন্ত বাংলা নিউজ:

​বিশ্ব রাজনীতির দুই প্রধান পরাশক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের মধ্যেকার দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ও ঐতিহাসিক এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যকার এই বৈঠকটি বর্তমানে বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বৈঠক শেষে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অত্যন্ত ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন এবং আলোচনাটিকে ‘গ্রেট’ বা ‘দারুণ’ বলে অভিহিত করেছেন।

​সফরের পটভূমি ও বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা:

গত বুধবার (১৩ মে) বিশেষ বিমানে করে বেইজিং পৌঁছান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ২০১৭ সালের পর এটিই ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম চীন সফর। স্বাভাবিকভাবেই এই সফরকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে জল্পনা-কল্পনা ছিল তুঙ্গে। বেইজিংয়ের বিমানবন্দরে ট্রাম্পকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন চীনের ভাইস প্রেসিডেন্টসহ দেশটির শীর্ষস্থানীয় সরকারি কর্মকর্তারা। অত্যন্ত রাজকীয় এবং সুশৃঙ্খল পরিবেশের মধ্য দিয়ে বিমানবন্দরে তাকে বরণ করে নেওয়া হয়। কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যকার শীতল সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করতে পারে।

​ঐতিহাসিক গ্রেট হল অব দ্য পিপলে বৈঠক:

আজ বৃহস্পতিবার সকালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বেইজিংয়ের তিয়ানআনমেন স্কয়ারের পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত ‘গ্রেট হল অব দ্য পিপল’-এ পৌঁছান। ১৯৫৯ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী চীন প্রতিষ্ঠার দশম বার্ষিকী উপলক্ষে এই বিশাল ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছিল। চীন সাধারণত বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান এবং বিদেশি গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অভ্যর্থনা জানানোর জন্য এই ভবনটি ব্যবহার করে।

​ভবনটিতে পৌঁছানোর পর ট্রাম্পকে এক রাজকীয় সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। তাকে স্বাগত জানাতে সেখানে ২১ বার তোপধ্বনি করা হয়। এরপর অনুষ্ঠানের সূচনা হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সংগীত ‘দ্য স্টার-স্প্যাংলড ব্যানার’-এর সুরের মূর্ছনায়। পুরো অনুষ্ঠান চলাকালীন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বেশ আত্মবিশ্বাসী দেখাচ্ছিল এবং তিনি স্যালুট দিয়ে সম্মান প্রদর্শন করেন। অন্যদিকে, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং একটি লাল ও সোনালি রঙের বিশাল মঞ্চে ট্রাম্পের পাশেই অবস্থান করছিলেন।

আরও পড়ুন: ফেজবুকে বড় পরিবর্তন: এআই ফিচারে বদলে যাচ্ছে ইউজার এক্সপেরিয়েন্স।

ফেজবুকে বড় পরিবর্তন: এআই ফিচারে বদলে যাচ্ছে ইউজার এক্সপেরিয়েন্স।

​বৈঠকের বিষয়বস্তু ও ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া:

বৈঠকের পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সংক্ষেপে আলোচনা করেন। তবে সেখানে বিস্তারিত কোনো ঘোষণা না এলেও তিনি বৈঠকটিকে অত্যন্ত ফলপ্রসূ বলে দাবি করেন। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে, ট্রাম্প আলোচনার পরিবেশ নিয়ে অত্যন্ত সন্তুষ্ট এবং তিনি একে ‘অসাধারণ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে দক্ষিণ চীন সাগর বা তাইওয়ান ইস্যুর মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প মৌনতা অবলম্বন করেন। কোনো বিতর্কিত বিষয়ে মন্তব্য না করে তিনি কেবল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়নের দিকেই ইঙ্গিত দিয়েছেন।

​মার্কিন-চীন সম্পর্কের ভবিষ্যৎ সমীকরণ:

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান বিশ্ব অর্থনীতি এবং ভূ-রাজনীতিতে মার্কিন-চীন সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে বাণিজ্যের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং অন্যদিকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা—এই দুটি বিষয়ই এই বৈঠকের নেপথ্যে প্রধান ভূমিকা পালন করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। চীন সফরকালে ট্রাম্পের এই ইতিবাচক মনোভাব বিশ্ব অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে প্রযুক্তি এবং উৎপাদন খাতের শেয়ার বাজারে এর প্রতিফলন দেখা যেতে পারে।

​কূটনৈতিক গুরুত্ব এবং বিশ্ববাসীর নজর:

২০১৭ সালের পর ট্রাম্পের এই প্রথম সফরটি কেবল একটি সৌজন্যমূলক সফর নয়, বরং এটি একটি গভীর রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে। চীনের ভাইস প্রেসিডেন্টের মাধ্যমে বিমানবন্দরে স্বাগত জানানো এবং গ্রেট হলে এমন বিশাল আয়োজন প্রমাণ করে যে, বেইজিং ওয়াশিংটনের সাথে সম্পর্কের একটি স্থিতিশীল পথ খুঁজে পেতে আগ্রহী। শি জিনপিংয়ের সাথে ট্রাম্পের এই ব্যক্তিগত রসায়ন ভবিষ্যতে জলবায়ু পরিবর্তন, বৈশ্বিক বাণিজ্য নীতি এবং সন্ত্রাসবাদ দমনে দুই দেশকে এক সুতোয় গাঁথতে পারে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

​উপসংহার:

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই চীন সফর এবং শি জিনপিংয়ের সাথে বৈঠকটি আধুনিক কূটনৈতিক ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায় হয়ে থাকবে। যদিও অনেক স্পর্শকাতর প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি, তবুও দুই নেতার ইতিবাচক অঙ্গভঙ্গি বিশ্বশান্তির জন্য একটি শুভ সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। সামনের দিনগুলোতে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে বেইজিংয়ের এই সফরের প্রভাব কতটা গভীর হয়, তার ওপরই নির্ভর করছে আগামী দশকের ভূ-রাজনীতি।

 

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন