ভারত-ইসরায়েল অনন্য সম্পর্ক: কি বললেন নেতানিয়াহু?

ভারত-ইসরায়েল অনন্য সম্পর্ক: কি বললেন নেতানিয়াহু?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: শামীম হোসাইন / দিগন্ত বাংলা নিউজ

ভারত ও ইসরায়েল: এক অটুট কূটনৈতিক ও কৌশলগত বন্ধন

​বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে কোনো দেশই বিচ্ছিন্নভাবে তার জাতীয় লক্ষ্য অর্জন করতে পারে না। প্রয়োজন হয় শক্তিশালী মিত্রতা এবং কৌশলগত অংশীদারিত্ব। এই প্রেক্ষাপটে ভারত ও ইসরায়েলের মধ্যকার সম্পর্ক বিশ্বরাজনীতিতে এক অনন্য উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ভারত ও ইসরায়েলের এই গভীর বন্ধুত্বের কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন। তিনি ভারতের জনগণের সমর্থনের প্রশংসা করে এটিকে ‘বিশেষ গুরুত্বের’ অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

নেতানিয়াহুর দৃষ্টিতে ভারতীয়দের ভালোবাসা

​গত বৃহস্পতিবার (২৮ মে) পশ্চিম তীরে আয়োজিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ভারতের সঙ্গে তাদের দেশের সম্পর্কের গভীরতা তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, বর্তমান বিশ্বের অনেক রাষ্ট্রেই ইসরায়েলের বৈধতা নিয়ে নানা মহলে বিতর্ক থাকলেও, ভারত একটি ব্যতিক্রমধর্মী দেশ। সেখানে ইসরায়েলের গ্রহণযোগ্যতা এবং জনসমর্থন অত্যন্ত ব্যাপক।

​নেতানিয়াহুর কথায়, "ভারতে ইসরায়েলের প্রতি যে ভালোবাসা ও সমর্থন আমি লক্ষ্য করি, তা বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক বেশি।" তিনি এই সমর্থনকে কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং একটি 'পাগলামির পর্যায়' বা অকৃত্রিম আবেগ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি জানান, সোশ্যাল মিডিয়ায় তার ব্যক্তিগত অনুসরণকারীদের তালিকায় ভারত থেকে আসা সমর্থকদের সংখ্যা আকাশচুম্বী।

আরও পড়ুন: মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ দল ঘোষণা: তরুণ ও অভিজ্ঞতার মিশেলে ২৬ সদস্যের স্কোয়াড

ঐতিহাসিক সফরের স্মৃতি এবং ‘ভালোবাসার উৎসব’

​নেতানিয়াহু তার বক্তব্যে ২০১৮ সালে ভারত সফরের স্মৃতিচারণ করেন। তিনি সেই সফরকে ‘ভালোবাসার উৎসব’ বা 'Festival of Love' হিসেবে অভিহিত করেন। সেই সফরে তিনি এবং তার স্ত্রী সারা নেতানিয়াহু ভারতীয় জনগণের কাছ থেকে যে অভূতপূর্ব অভ্যর্থনা পেয়েছিলেন, তা এখনো তার স্মৃতির পাতায় উজ্জ্বল। এছাড়া ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ইসরায়েল সফর এবং সেখানে তার ঐতিহাসিক অভ্যর্থনার বিষয়টিও নেতানিয়াহু শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। এই সফরগুলো দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

কেন ভারত-ইসরায়েল সম্পর্ক অনন্য?

​বিশ্লেষকদের মতে, ভারত ও ইসরায়েলের এই সম্পর্কের ভিত্তি অনেক মজবুত। উভয় দেশই গণতন্ত্র, সার্বভৌমত্ব এবং সন্ত্রাসবাদ দমনে দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রতিরক্ষা, কৃষি, পানি প্রযুক্তি, মহাকাশ গবেষণা এবং ডিজিটাল উদ্ভাবনের মতো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে দুই দেশ এখন একে অপরের পরম মিত্র।

​১. প্রতিরক্ষা সহযোগিতা: ভারত ও ইসরায়েল বর্তমানে প্রতিরক্ষা খাতের অন্যতম প্রধান অংশীদার। অত্যাধুনিক সামরিক প্রযুক্তি থেকে শুরু করে যৌথ গবেষণা—প্রতিটি ক্ষেত্রেই দুই দেশের সম্পৃক্ততা স্পষ্ট।

২. কৃষি ও প্রযুক্তি: ইসরায়েলের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ভারতের কৃষকদের জীবনমান উন্নত করতে এবং ফসলের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে অসামান্য ভূমিকা রাখছে।

৩. সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধন: দুই দেশের মানুষের মধ্যে যে সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান লক্ষ্য করা যায়, তা সম্পর্ককে আরও গভীর করেছে।

বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ভারতের অবস্থান

​বিশ্বের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে ভারত তার নিজস্ব পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে অত্যন্ত সতর্ক এবং দূরদর্শী। কোনো নির্দিষ্ট চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে, ভারতের জাতীয় স্বার্থ এবং কৌশলগত স্থিতিশীলতাকে বজায় রেখে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করছে ভারত। নেতানিয়াহুর মন্তব্য থেকে এটি পরিষ্কার যে, ভারত বিশ্বের একটি 'বিশাল শক্তি' (Great Power) হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে এবং তার এই সক্ষমতাকে ইসরায়েল গভীরভাবে মূল্যায়ন করে।

ভবিষ্যৎ সম্পর্কের নতুন দিগন্ত

​যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের অনেক দেশেই ইসরায়েলবিরোধী জনমত তৈরির চেষ্টা চলছে। এমতাবস্থায়, ভারতের সঙ্গে এই দৃঢ় সম্পর্ক ইসরায়েলের জন্য একটি শক্তিশালী কূটনৈতিক অবলম্বন হিসেবে কাজ করছে। নেতানিয়াহু বিশ্বাস করেন, আগামীর বিশ্ব রাজনীতিতে ভারত-ইসরায়েল সম্পর্ক স্থিতিশীলতার এক নতুন মডেল তৈরি করবে।

​পরিশেষে বলা যায়, দুই দেশের এই বন্ধুত্ব কেবল রাষ্ট্রপ্রধানদের আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা দুই দেশের জনগণের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে। পারস্পরিক সম্মান এবং সহযোগিতার মাধ্যমে ভারত ও ইসরায়েল যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, তা বিশ্ব শান্তি ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

 

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন