ফেসবুকে প্রেমের টান: ২ সন্তানের মা পাবনা থেকে ঝিনাইদহের ১৮ বছরের তরুণের বাড়িতে

ফেসবুকে প্রেমের টান: ২ সন্তানের মা পাবনা থেকে ঝিনাইদহের ১৮ বছরের তরুণের বাড়িতে
ছবি: সংগৃহীত
 প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / দিগন্ত বাংলা নিউজ

​ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: বর্তমান যুগে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা মোবাইল ফোনের অতি ব্যবহারের ফলে প্রতিনিয়তই আমাদের সমাজে নানা ধরণের নাটকীয় ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে চলেছে। তেমনি এক অবিশ্বাস্য ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে ঝিনাইদহ জেলায়। ভার্চুয়াল জগতের তথা ফেসবুকের মোহের টানে পড়ে নিজের সাজানো গোছানো সংসার এবং দুই দুটি ফুটফুটে সন্তানকে পেছনে ফেলে এক গৃহবধূ দূরবর্তী পাবনা জেলা থেকে সরাসরি ছুটে এসেছেন ১৮ বছর বয়সী এক তরুণের পৈতৃক বাড়িতে।

​গত কয়েকদিন ধরে চলা সম্পর্কের এই চরম পরিণতিটি প্রকাশ পাওয়ার পর ঝিনাইদহ জেলার হরিণাকুণ্ডু উপজেলার হরিশপুর গ্রামে এখন তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে ব্যাপক কৌতূহল, গুঞ্জন এবং নানামুখী মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

আরও পড়ুন: রাতভর মুষলধারে বৃষ্টিতে ডুবল ঢাকা, দুপুরের মধ্যে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা

​ফেসবুক থেকে যেভাবে প্রেমের শুরু

​স্থানীয় এলাকাবাসী এবং বিশ্বস্ত পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, এই নাটকীয় ঘটনার সূত্রপাত মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে। পাবনা জেলার বাসিন্দা এবং দুই সন্তানের জননী ওই গৃহবধূর সাথে কিছুদিন আগে ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার হরিশপুর গ্রামের এক তরুণের ভার্চুয়াল পরিচয় হয়। সময়ের সাথে সাথে তাদের মধ্যকার সাধারণ সেই সাধারণ পরিচয় একপর্যায়ে গভীর ও নিবিড় বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে রূপ নেয়।

​১৮ বছর বয়সী ওই তরুণের মিষ্টভাষী কথা ও প্রেমের মোহে অন্ধ হয়ে ওই নারী নিজের দীর্ঘদিনের বৈবাহিক সম্পর্ক ও সামাজিক মর্যাদার কথা সম্পূর্ণ ভুলে যান। একপর্যায়ে প্রেমিক তরুণের দেওয়া আশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে তিনি গত শনিবার নিজের পরিবার ও সন্তানদের ফেলে সম্পূর্ণ একাকী পাবনা থেকে দূরপাল্লার বাসে চড়ে ঝিনাইদহের উদ্দেশ্যে রওনা হন। এরপর বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজখবর নিয়ে তিনি সরাসরি হরিণাকুণ্ডু উপজেলার হরিশপুর গ্রামে ওই তরুণের পৈতৃক বাসভবনে গিয়ে উপস্থিত হন এবং বিয়ের দাবিতে সেখানে অবস্থান নেন।

​এলাকাবাসীর ভিড় ও সামাজিক অস্থিরতা

​দুই সন্তানের জননী একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারীর এভাবে আকস্মিক ও নাটকীয়ভাবে হরিশপুর গ্রামের এক ১৮ বছর বয়সী তরুণের বাড়িতে এসে ওঠার খবরটি মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকায় বাতাসের বেগে ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর থেকেই ওই তরুণের বাড়ির সামনে এলাকার শত শত উৎসুক সাধারণ মানুষ, যুবক ও নারীরা ভিড় জমাতে শুরু করেছেন।

​একটি ভিন্ন জেলা থেকে এসে এভাবে এক তরুণের বাড়িতে নারীর অবস্থান নেওয়ার ঘটনাটি গ্রামীণ সমাজে এক ধরণের সামাজিক অস্বস্তি ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। ঘটনার আকস্মিকতায় ওই তরুণের পরিবারও চরম বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয় মাতবর ও জনপ্রতিনিধিরা বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে।

​এই ঘটনার সামাজিক প্রভাব ও বিশেষজ্ঞদের মতামত

​সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহারের ফলে ঐতিহ্যবাহী পারিবারিক কাঠামোগুলো কীভাবে ভেঙে পড়ছে, এই ঘটনাটি তারই একটি বড় প্রমাণ বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন সমাজ। এই ধরণের ঘটনার পেছনে মূলত কয়েকটি প্রধান কারণ কাজ করে থাকে:

​ভার্চুয়াল মোহের অন্ধত্ব: বাস্তব জীবনের দায়িত্ব ও কর্তব্য এড়িয়ে ফেসবুকের কাল্পনিক দুনিয়াকে সত্য মনে করে অনেকেই এই ধরণের ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে বসেন।

আরও পড়ুন: শাহজাদপুরে নিখোঁজের ২ দিন পর সবুজের মরদেহ উদ্ধার: শরীরে আঘাতের চিহ্ন, নেপথ্যে অপরাধ চক্রের দ্বন্দ্ব?

​পারিবারিক দূরত্বের সুযোগ: অনেক সময় দাম্পত্য জীবনে পারস্পরিক বোঝাপড়ার অভাব বা দূরত্বের সুযোগ নিয়ে সাইবার অপরাধী বা অল্পবয়সী তরুণরা নারীদের ফাঁদে ফেলে।

​সন্তানদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারের মুখে: এই ধরণের অনাকাঙ্ক্ষিত সম্পর্কের চরম খেসারত দিতে হয় অবুঝ সন্তানদের, যারা মায়ের স্নেহ থেকে বঞ্চিত হয়ে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ধাবিত হয়।

​হরিশপুর গ্রামের বয়োবৃদ্ধ ও স্থানীয় সমাজসেবকরা বলছেন, ১৮ বছরের একটি ছেলের অর্থনৈতিক বা সামাজিকভাবে কোনো স্থায়িত্ব থাকে না। এমন পরিস্থিতিতে দুই সন্তানের জননী এক নারীর নিজের পূর্বের সংসার ভেঙে এখানে চলে আসা কোনোভাবেই বুদ্ধিমানের কাজ হয়নি। ইতিমধ্যেই নারীর পাবনার পরিবার ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। তারা ঝিনাইদহের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন বলে জানা গেছে। দুই পরিবারের অভিভাবকরা বসে আইনগতভাবে এবং সামাজিকভাবে বিষয়টির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করবেন। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশকেও বিষয়টি মৌখিকভাবে অবগত করে রাখা হয়েছে।

​সংক্ষিপ্ত সংবাদ সূত্র: ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী।

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন