সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: এক বুক ভরা রঙিন স্বপ্ন আর এক পৃথিবী আশা নিয়ে জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে এগিয়ে যেতে চেয়েছিল এক উদ্যমী ও প্রাণবন্ত তরুণ। আর দশটা সাধারণ ও সুস্থ যুবকের মতোই তার চোখেও ছিল এক সুন্দর ও স্বাবলম্বী জীবনের স্বপ্ন। পড়াশোনা শেষ করে নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে বৃদ্ধ বাবা-মায়ের মুখে আজীবনের জন্য এক চিলতে হাসি ফোটানোই ছিল তার জীবনের একমাত্র লক্ষ্য। কিন্তু মাত্র ২২ বছর বয়সের এক কাঁচা ও অপূর্ণাঙ্গ বয়সেই তার জীবনের সমস্ত গতিপথ থমকে গেছে এক নির্মম ও নিষ্ঠুর বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে।
সিরাজগঞ্জ জেলার কামারখন্দ থানার অধীনস্থ কোনাবাড়ী গ্রামের দরিদ্র বাসিন্দা লিটন মিয়ার একমাত্র আদরের ছেলে মো. শাকিল এখন মরণব্যাধি ক্যান্সারের সাথে লড়াই করে বিছানায় শয্যাশায়ী। জীবন-মৃত্যুর এক চরম ও নিষ্ঠুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে প্রতি মুহূর্তে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে এই স্বপ্নবাজ তরুণ।
ক্যান্সারের করাল গ্রাসে থমকে গেছে স্বপ্ন
এক সময় যে তরুণটি পুরো এলাকা মাতিয়ে রাখত নিজের প্রাণখোলা হাসি আর চঞ্চলতায়, সেই শাকিল এখন কেবল বিছানায় শুয়ে শুয়ে নির্বাক চোখে তাকিয়ে থাকে আর মনে মনে ঈশ্বরের কাছে একটিমাত্র প্রার্থনা করছে—"আমি আরও কিছুদিন বেঁচে থাকতে চাই।" কিন্তু তার এই বেঁচে থাকার তীব্র আকুতির সামনে এখন এক বিশাল ও দুর্ভেদ্য প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছে অর্থের অভাব।
আরও পড়ুন: ফেসবুকে প্রেমের টান: ২ সন্তানের মা পাবনা থেকে ঝিনাইদহের ১৮ বছরের তরুণের বাড়িতে
মরণব্যাধি ক্যান্সারের মতো অত্যন্ত জটিল ও মারাত্মক ব্যয়বহুল চিকিৎসার বিশাল খরচ বহন করার মতো বিন্দুমাত্র আর্থিক সামর্থ্য বা সচ্ছলতা নেই তার এই অতি সাধারণ ও নিম্নবিত্ত পরিবারের। শাকিলের হঠাৎ এই মরণব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার খবরে পুরো কোনাবাড়ী গ্রাম জুড়ে এক শোকের ছায়া ও মানবিক হাহাকার নেমে এসেছে।
চিকিৎসার খরচে নিঃস্ব পরিবার ও অসহায় পিতার আকুতি
শাকিলের পারিবারিক ও স্থানীয় নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, ২২ বছর বয়সী এই তরুণের প্রাথমিক রোগ নির্ণয় এবং এ পর্যন্ত হওয়া চিকিৎসা ও কেমোথেরাপির পেছনে তার পরিবারের যা কিছু সামান্য সঞ্চয় ছিল, তা ইতিমধ্যেই সম্পূর্ণ শেষ হয়ে গেছে। বর্তমানে তারা একবারে নিঃস্ব ও ঋণের সাগরে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে।
শাকিলের চিকিৎসার পেছনে পরিবারের শেষ সম্বল বলতে এখন অবশিষ্ট রয়েছে কেবল তাদের মাথা গোঁজার সামান্য ভিটাবাড়িটুকু। কিন্তু বর্তমানের এই চরম ও উচ্চমূল্যের বাজার পরিস্থিতিতে সেই সামান্য জমি বা ভিটেমাটি বিক্রি করেও এই দীর্ঘমেয়াদী ও অত্যন্ত ব্যয়বহুল ক্যানসার চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া কোনোভাবেই আর সম্ভব হচ্ছে না। চিকিৎসকেরা শাকিলের সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে জানিয়েছেন যে—সঠিক সময়ে উন্নত, আধুনিক এবং নিয়মিত চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে শাকিলকে আবারও সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা শতভাগ সম্ভব। তবে এই সুদীর্ঘ ও উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন এক বিশাল অঙ্কের অর্থ, যা জোগাড় করা এই পরিবারের পক্ষে আকাশকুসুম কল্পনার শামিল।
আরও পড়ুন: শাহজাদপুরের অবহেলিত উন্নয়নে ২৫ দফা দাবি: নাগরিক কমিটির স্মারকলিপি ও বিশাল মানববন্ধন
সন্তানকে চোখের সামনে ধুকে ধুকে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যেতে দেখে দিশেহারা ও নিরুপায় হয়ে পড়েছেন অসহায় পিতা লিটন মিয়া। কান্নাজড়িত কণ্ঠে এবং অশ্রুভেজা চোখে তিনি সমাজের বিত্তবান শ্রেণী, মানবতাবাদী সমাজসেবক, প্রবাসী ভাই-বোন এবং সাধারণ মানুষের কাছে নিজের সন্তানের জীবন ভিক্ষা চেয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছেন।
অসহায় এই পরিবারের আকুল আবেদন:
"আমাদের ২২ বছরের তরুণ ছেলে শাকিলকে অকালে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়া থেকে বাঁচাতে আপনারা দয়া করে একটু মানবিক ও সহানুভূতির হাত বাড়িয়ে এগিয়ে আসুন। আপনাদের সামর্থ্য অনুযায়ী সামান্য একটু আর্থিক সহযোগিতা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার এই অসহায়ত্বের কথা জানিয়ে একটি শেয়ার কিংবা প্রাণখুলে করা আপনাদের একটি মাত্র দোয়াই হতে পারে শাকিলের নতুন জীবনের আশার আলো এবং বেঁচে থাকার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।"
একটি তরুণের তাজা প্রাণ বাঁচাতে আমাদের সবার যার যার সাধ্য অনুযায়ী একটু একটু করে মানবিক প্রচেষ্টা ও ক্ষুদ্র অবদান হয়তো ফিরিয়ে দিতে পারে শাকিলের অমূল্য জীবন, এবং আবারও মুখে ফোটাতে পারে এক অসহায় ও দরিদ্র পিতা-মাতার হারিয়ে যাওয়া অমলিন হাসি।
সংক্ষিপ্ত সংবাদ সূত্র: কোনাবাড়ী গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা ও শাকিলের পরিবার।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।