রাজধানী ঢাকা: আষাঢ়-শ্রাবণের চিরচেনা রূপে সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রবল প্রভাবে রাজধানী ঢাকা জুড়ে রাতভর অবিরত ও মুষলধারে ভারী বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। শনিবার দিবাগত মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া এই অবিরাম বর্ষণের ফলে রোববার সকাল হতেই মেগাসিটি ঢাকার বিভিন্ন প্রধান সড়ক, গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়ক ও অলিগলিতে তীব্র জলাবদ্ধতা এবং কৃত্রিম বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। শুধু জলাবদ্ধতাই নয়, বৃষ্টির সাথে বয়ে যাওয়া দমকা ঝোড়ো হাওয়ার কারণে রাজধানীর বেশ কিছু ব্যস্ততম এলাকায় বিশাল বিশাল গাছ ও গাছের ডালপালা ভেঙে রাস্তার ওপর পড়ে রয়েছে, যার ফলে ভোর থেকেই যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলশ্রুতিতে, সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসের (রোববার) সকালেই কর্মস্থলে ছোটোছুটি করা অফিসগামী মানুষ, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, দিনমজুর ও সাধারণ পথচারীদের চরম ভোগান্তি ও অবর্ণনীয় দুর্ভোগের মুখোমুখি হতে হয়েছে।
জলাবদ্ধতায় জলমগ্ন ঢাকার চিত্র ও জনদুর্ভোগ
শনিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া এই অবিরাম বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় সকালের আলো ফুটতেই ঢাকার বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যায়। বিশেষ করে ঢাকার যে সমস্ত এলাকাগুলোতে জলাবদ্ধতার তীব্র রূপ দেখা গেছে, তার একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো:
আরও পড়ুন: কাতারের আধুনিক রূপকার ও সাবেক আমির শেখ হামাদের ইন্তেকাল
ধানমন্ডি ও মিরপুর এলাকা: ধানমন্ডির ভেতরের রাস্তা এবং মিরপুর ১০, ১১ ও ১৩ নম্বরের প্রধান সড়কগুলো ভোর হতেই বৃষ্টির পানিতে সয়লাব হয়ে যায়। কোথাও কোথাও ফুটপাত ছাড়িয়ে পানি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়ির নিচতলায় প্রবেশ করেছে।
মৌচাক, মালিবাগ ও কারওয়ান বাজার: এই ব্যস্ততম বাণিজ্যিক এলাকাগুলোর সড়কগুলোতে কোথাও হাঁটু সমান আবার কোথাও কোমর সমান পানি জমে থাকতে দেখা গেছে। রাস্তার খানাখন্দ পানির নিচে ঢাকা পড়ায় রিকশা ও মোটরসাইকেল চালকরা চরম ঝুঁকিতে পড়েন।
মতিঝিল ও পুরান ঢাকা: দেশের প্রধান বাণিজ্যিক এলাকা মতিঝিল এবং পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোড, চকবাজার ও বংশালের অলিগলিগুলো সকালের মধ্যেই পুরোপুরি জলমগ্ন হয়ে পড়ে।
রাস্তায় হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি জমে থাকায় সকালের দিকে প্রধান সড়কগুলোর ওপরই বহু সিএনজিচালিত অটোরিকশা, প্রাইভেটকার ও দূরপাল্লার বাস বিকল হয়ে অলস পড়ে থাকতে দেখা যায়। ইঞ্জিন বিকল হয়ে যানবাহনগুলো মাঝরাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকায় সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসের সকালেই রাজধানী জুড়ে তীব্র ও দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ সময় ধরে গণপরিবহন বা বাসের জন্য হাজার হাজার অফিসগামী মানুষকে ছাতা মাথায় দিয়ে রাস্তার মোড়ে মোড়ে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। এই তীব্র গণপরিবহন সংকটের সুযোগ নিয়ে রিকশাচালক এবং সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালকরা সাধারণ যাত্রীদের কাছ থেকে স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করছে বলে ভুক্তভোগী যাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
১৩ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের পূর্বাভাস ও ১ নম্বর সংকেত
রাজধানীর এই চরম অচলাবস্থার মাঝেই দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য অত্যন্ত জরুরি ও সতর্কবার্তা জারি করেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। আজ রোববার (১২ জুলাই, ২০২৬) ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরসমূহের জন্য দেওয়া বিশেষ আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে যে—সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের অভ্যন্তরীণ বেশ কিছু অঞ্চলের ওপর দিয়ে তীব্র ঝড়-বৃষ্টি বয়ে যেতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের বুলেটিন অনুযায়ী ঝড়ের কবলে পড়তে যাওয়া অঞ্চলগুলোর তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
১. রাজশাহী ও পাবনা
২. টাঙ্গাইল ও ঢাকা
৩. ফরিদপুর ও যশোর
৪. কুষ্টিয়া ও খুলনা
৫. বরিশাল ও পটুয়াখালী
৬. নোয়াখালী ও কুমিল্লা
৭. এবং চট্টগ্রাম অঞ্চল।
আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, উল্লিখিত অঞ্চলসমূহের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা
আরও পড়ুন: সাতকানিয়ায় বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনে ডা. শফিক: মাঠের কষ্ট কাগজে অনুধাবন অসম্ভব
ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে এসব অঞ্চলের আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকবে এবং কোথাও কোথাও তীব্র বজ্রপাতসহ ভারী থেকে অতি ভারী বা মুষলধারে বৃষ্টিপাত হতে পারে। এই বৈরী আবহাওয়ার কারণে দেশের এই অঞ্চলগুলোর নদী বন্দরগুলোকে সতর্কতাবশত ১ নম্বর (এক) নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত প্রদর্শন করতে নির্দেশ দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
আবহাওয়া অফিস আরও জানায় যে, মৌসুমি বায়ুর এই সক্রিয়তা আগামী আরও কয়েকদিন বজায় থাকতে পারে, যার ফলে দেশের বিভিন্ন অংশে বৃষ্টিপাতের এই প্রবণতা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে দ্রুত রাস্তার জমা পানি সরানোর জন্য বিশেষ ড্রেনেজ পাম্প চালু করা হলেও বৃষ্টির বেগ বেশি থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসতে কিছুটা সময় লাগছে।
সংক্ষিপ্ত সংবাদ সূত্র: বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর (BMD) দৈনিক বুলেটিন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।