ইরাক-ইরান যুদ্ধ: ভুল স্বীকার করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইরাক-ইরান যুদ্ধ: ভুল স্বীকার করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: শামীম হোসাইন / দিগন্ত বাংলা নিউজ


ইরাক ও ইরান যুদ্ধ: যুক্তরাষ্ট্রের ভুল স্বীকারোক্তি ডোনাল্ড ট্রাম্পের


​মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার খোরাক জুগিয়েছে। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প সরাসরি ইরাক যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণের তীব্র সমালোচনা করেছেন এবং একে মার্কিন ইতিহাসের অন্যতম ‘বোকামি’ ও ‘ভুল সিদ্ধান্ত’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। দশকের পর দশক ধরে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের যে সামরিক নীতি অনুসৃত হয়েছে, সেই নীতির কঠোর সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেছেন, “ইরাকে কী ঘটেছে তা দেখুন। আমরা খুব খারাপ করেছি। আমরা বোকামি করেছি। সেখানে আমাদের যাওয়া উচিত ছিল না।”


ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের নতুন ভাষ্য


ইরাকের পাশাপাশি ইরান প্রসঙ্গেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার অকপট মতামত তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, “আমাদের ইরানেও যাওয়া উচিত হয়নি, তবে ইরানের সক্ষমতা আছে।” ট্রাম্পের এই বক্তব্য ইঙ্গিত দেয় যে, তিনি মধ্যপ্রাচ্যে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের পরিবর্তে কিছুটা সংযত কিন্তু শক্ত অবস্থান নেওয়ার পক্ষে। তিনি দাবি করেন, গত ৯ মাস আগে যুক্তরাষ্ট্রের বি-২ বোমারু বিমান দিয়ে ইরানের ওপর যে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল, তা অত্যন্ত কৌশলগত ছিল। ট্রাম্পের ভাষ্যমতে, সেই সময়ে যদি ওই হামলা না চালানো হতো, তবে ইরান হয়তো বর্তমানে পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতো। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, যদি ইরান পারমাণবিক শক্তির অধিকারী হতো, তবে ইসরায়েলের অস্তিত্ব সংকটে পড়ার সম্ভাবনা ছিল এবং সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তার সমীকরণই বদলে যেত।


আরও পড়ুন: অপারেশন সিঁদুর ২.০-এর জন্য প্রস্তুত ভারত: সেনাপ্রধান জেনারেল দ্বিবেদী


অপারেশন সিঁদুর ২.০-এর জন্য প্রস্তুত ভারত: সেনাপ্রধান জেনারেল দ্বিবেদী


ইরানের সামরিক বাহিনী নিয়ে ট্রাম্পের অদ্ভুত পর্যবেক্ষণ


সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এক চাঞ্চল্যকর দাবি করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ইচ্ছাকৃতভাবে ইরানের সামরিক বাহিনীকে বড় ধরনের ধ্বংসযজ্ঞ থেকে রক্ষা করেছে। ট্রাম্পের মতে, ইরানের সেনাবাহিনীতে কিছুটা ‘মধ্যপন্থী’ মানসিকতার উপস্থিতি রয়েছে, যে কারণে তাদের পূর্ণ শক্তি ধ্বংস করা থেকে যুক্তরাষ্ট্র বিরত থেকেছে। তিনি বলেন, “আমরা তাদের সামরিক বাহিনীকে কিছুটা আলাদা রেখেছি, কারণ আমরা মনে করি তাদের সেনাবাহিনী কিছুটা মধ্যপন্থী। তবে তাদের ভেতরে আরও কিছু গোষ্ঠী আছে। আমরা কেবল তাদেরই লক্ষ্য করেছি এবং বিভিন্ন নেতৃত্বকে সরিয়ে দিয়েছি। কিন্তু তাদের সামরিক বাহিনীকে আমরা সত্যিই আঘাত করিনি।”

​ট্রাম্পের এই মন্তব্য শুনে অনেকের মনেই বিস্ময় তৈরি হতে পারে। যুদ্ধের ইতিহাসে সাধারণত একটি দেশ তার শত্রুপক্ষকে পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দিতে চায়, কিন্তু ট্রাম্প কেন ইরানের সামরিক বাহিনীকে রক্ষা করার দাবি করলেন, তা নিয়ে ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা নানা মত দিচ্ছেন। তিনি যোগ করেন, “মানুষ এটা শুনে অবাক হতে পারে, কারণ যুদ্ধে অনেক সময় ভুল হয় যেখানে সবাইকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়। আর তখন একটি দেশ ৪০ বছরেও পুনর্গঠিত হতে পারে না। আমরা সেই ধ্বংসাত্মক পথ এড়িয়ে চলেছি।”


দিগন্ত বাংলা নিউজের পর্যবেক্ষণ


প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই স্বীকারোক্তি কি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে কোনো বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত? অনেকে মনে করছেন, ট্রাম্পের এই মন্তব্য কেবল অতীতের ভুল সংশোধনের চেষ্টা নয়, বরং তার ভবিষ্যৎ পররাষ্ট্রনীতির একটি প্রতিচ্ছবি। ট্রাম্প সরাসরি যুদ্ধের পরিবর্তে অর্থনৈতিক চাপ এবং লক্ষ্যভেদী হামলার (Surgical Strike) মাধ্যমে লক্ষ্য অর্জনে বেশি আগ্রহী। ইরাক ও ইরান যুদ্ধ নিয়ে তার এই দৃষ্টিভঙ্গি বর্তমান বিশ্বের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নতুন মেরুকরণ তৈরি করতে পারে।


​‘দিগন্ত বাংলা নিউজ’ এই সংবেদনশীল বিষয়টি নিয়ে নিরবচ্ছিন্ন নজর রাখছে। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ভূমিকা এবং ইরানের প্রতিক্রিয়া আগামী দিনগুলোতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে আমাদের বিশেষ টিম বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন প্রকাশ করবে। বিশ্ব রাজনীতির প্রতিটি খুঁটিনাটি জানতে আমাদের ওয়েবসাইটের সাথেই থাকুন।

 

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন