আন্তর্জাতিক ডেস্ক: শামীম হোসাইন / দিগন্ত বাংলা নিউজ
দিল্লিতে ভয়াবহ ভবন ধস: ধ্বংসস্তূপের নিচে শতাধিক মানুষের আটকা পড়ার আশঙ্কা
ভারতের রাজধানী দিল্লির দক্ষিণ অঞ্চলে এক ভয়াবহ ভবন ধসের ঘটনায় পুরো দেশজুড়ে শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সন্ধ্যা ৭টা ৩৫ মিনিটের দিকে হঠাৎ করেই একটি পাঁচতলা ভবন ধসে পড়ে পাশের একটি কাঠামোর ওপর আছড়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শী এবং স্থানীয় প্রশাসনের প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় অন্তত শতাধিক মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভবনটি মূলত মেডিকেল শিক্ষার্থীদের একটি ক্যান্টিন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল বলে জানা গেছে, যার ফলে হতাহতের সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
উদ্ধার অভিযানের তীব্র গতি ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার
ঘটনার মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের টিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে পরবর্তীতে অতিরিক্ত ফায়ার ইঞ্জিন এবং আলোকসজ্জা সংবলিত বিশেষ যান মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ), দিল্লি পুলিশ এবং স্থানীয় দমকল কর্মীরা একযোগে এক বিশাল উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছেন।
ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে আধুনিক সব প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটানো হচ্ছে। ঘটনাস্থলে জেসিবি খননযন্ত্রের সাহায্যে কংক্রিট সরানোর কাজ চলছে। এছাড়া স্টিলের বিম ও কংক্রিটের ভারী অংশ কাটতে হাইড্রোলিক কাটার ও বিশেষ ধরনের জ্যাক ব্যবহার করা হচ্ছে। উদ্ধারকারীরা আটকে পড়াদের অবস্থান শনাক্ত করতে 'ভিকটিম লোকেশন ক্যামেরা' (VLC) এবং প্রশিক্ষিত অনুসন্ধানী কুকুরের সহায়তা নিচ্ছেন। প্রতিটি ইঞ্চিতে মাটি খুঁড়ে জীবন উদ্ধারের এই নিরলস লড়াই চলছে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে, যাতে ধ্বংস্তূপের নিচে থাকা ব্যক্তিরা আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত না হন।
আরও প ড়ুন: রামিসা হত্যা মামলা: সর্বোচ্চ শাস্তি আশা আইনমন্ত্রীর
পুলিশ প্রশাসনের বক্তব্য ও প্রাথমিক তদন্ত
দক্ষিণ দিল্লির উপ-পুলিশ কমিশনার অনন্ত মিত্তল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, এটি একটি অত্যন্ত পুরোনো ভবন ছিল। ভবন ধসের পরপরই পাশের কেবিনসদৃশ কাঠামোর ওপর এটি আছড়ে পড়ে। তিনি বলেন, “আমরা সন্ধ্যা ৭টা ৩৫ মিনিটে খবর পাওয়ার সাথে সাথেই সেখানে ছুটে যাই। মূলত মেডিকেল শিক্ষার্থীদের ক্যান্টিন থাকার কারণে সেখানে সবসময় প্রচুর মানুষের সমাগম থাকে। আমরা এখন পর্যন্ত হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা নিশ্চিত করতে পারছি না, তবে উদ্ধার অভিযান শেষ হলেই পরিস্থিতি স্পষ্ট হবে।”
পুলিশ প্রশাসন ভবনটির মালিকানা এবং নির্মাণের বৈধতা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। নির্মাণকাজের কোনো অনুমোদন ছিল কি না, কিংবা ভবনের রক্ষণাবেক্ষণে কোনো গাফিলতি ছিল কি না—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দোষীদের খুঁজে বের করে শাস্তির আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
শহরজুড়ে আতঙ্ক ও স্বজনদের আহাজারি
ভবন ধসের খবর পাওয়ার সাথে সাথেই দুর্ঘটনাস্থলের চারপাশে ভিড় জমিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা এবং নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের স্বজনরা। চারদিকে কান্নার আওয়াজ এবং ধুলোবালিমিশ্রিত ধোঁয়া পুরো পরিবেশকে ভারী করে তুলেছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে উদ্ধারকারীদের সহযোগিতা করছেন। প্রশাসন এলাকাটি চারপাশ থেকে ঘিরে রেখেছে যাতে উদ্ধার কাজে কোনো ধরনের বিঘ্ন না ঘটে।
দিগন্ত বাংলা নিউজের পর্যবেক্ষণ
ভারতের বিভিন্ন শহরে পুরোনো ভবনের জরাজীর্ণ অবস্থা এবং নিয়মবহির্ভূত নির্মাণকাজ প্রতিনিয়ত বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। দিল্লির এই ভবন ধস আরও একবার মনে করিয়ে দিল যে, নগরায়নের ক্ষেত্রে ভবনগুলোর স্বাস্থ্যঝুঁকি ও আইনি কাঠামো মেনে চলা কতটা অপরিহার্য। এই ঘটনার পর দিল্লির প্রতিটি পুরোনো ভবনকে নতুন করে জরিপ করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
‘দিগন্ত বাংলা নিউজ’ এই দুর্ঘটনার সর্বশেষ আপডেট নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। উদ্ধার অভিযানে আর কতজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গাফিলতি বা ত্রুটি উদ্ঘাটনে আমাদের প্রতিবেদন অব্যাহত থাকবে। আমাদের ওয়েবসাইটের সঙ্গেই থাকুন এবং এই হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির প্রতিটি সত্য তথ্য সবার আগে জেনে নিন। আমরা আশা করি, উদ্ধারকারী দলের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টায় আটকে পড়াদের দ্রুত সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হবে।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।