জাতীয় ডেস্ক: শামীম হোসাইন / দিগন্ত বাংলা নিউজ
শাহজাদপুরে ৭ বছরের শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টা: অভিযুক্তের বাড়ি ঘেরাও ও গণপিটুন
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে একটি চরম অমানবিক ও নৃশংস ঘটনার খবর পাওয়া গেছে, যা পুরো এলাকাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। মাত্র সাত বছর বয়সী প্রথম শ্রেণির এক শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্তের বাড়ি ঘেরাও করে বিচারের দাবিতে উত্তাল হয়ে ওঠে। রবিবার (৩১ মে) সকালে শাহজাদপুর উপজেলার কৈজুরী ইউনিয়নের চর কৈজুরী গ্রামে এই উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্তকে আটক করে।
ঘটনার সূত্রপাত ও পাশবিক নির্যাতনের বিবরণ
ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবার এবং স্থানীয় এলাকাবাসীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই ঘৃণ্য ঘটনাটি ঘটেছিল পবিত্র ঈদুল আজহার কয়েক দিন আগে। অভিযুক্ত ব্যক্তি মো. আলম (মৃত দুলালের পুত্র) শিশুটিকে কৌশলে ‘শিয়াল দেখানোর’ প্রলোভন দেখিয়ে বাড়ি থেকে দূরে একটি পরিত্যক্ত ও ভাঙা ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে নির্জনতায় আলম শিশুটির সঙ্গে চরম অমানবিক আচরণ শুরু করে। স্থানীয়দের বর্ণনা ও প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, আলম শিশুটির শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে আপত্তিকরভাবে হাত বোলাতে থাকে এবং এক পর্যায়ে জোরপূর্বক শিশুটির পরনের পোশাক খুলে ফেলে।
আরও পড়ুন: ইউরোপের বৃহত্তম পারমাণবিক কেন্দ্রে ড্রোন হামলা: তীব্র উত্তেজনা
শিশুটির ওপর এমন পাশবিক নির্যাতনের সময় অভিযুক্ত আলম তার গালে সজোরে কামড় বসিয়ে দেয়। তবে সাহসী শিশুটি আলমের কব্জা থেকে নিজেকে মুক্ত করতে মরিয়া হয়ে ওঠে এবং সজোরে ধাক্কা ও হাত-পা ছুড়ে কোনোমতে নিজেকে ছাড়িয়ে নিতে সক্ষম হয়। শিশুটি পালিয়ে আসার সময় আলম তাকে চরম হুমকি দেয় যে, যদি এই ঘটনার কথা কাউকে জানানো হয়, তবে তাকে চাকু দিয়ে টুকরো টুকরো করে কেটে ফেলা হবে। এই ভয়াবহ হুমকির মুখে শিশুটি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে এবং পরবর্তী বেশ কয়েক দিন খাওয়া-দাওয়া ও স্বাভাবিক চলাফেরা বন্ধ করে দেয়।
বিচারহীনতার অভিযোগ ও এলাকাবাসীর ক্ষোভ
নির্যাতনের শিকার শিশুটি পরবর্তীতে তার পরিবারের কাছে কান্নায় ভেঙে পড়ে বিস্তারিত ঘটনার বর্ণনা দেয়। শিশুটির বর্ণনা শুনে তার পরিবার স্থানীয় মাতব্বর ও সমাজপ্রধানদের কাছে বিচারের প্রার্থনা নিয়ে যায়। তবে অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় প্রভাবশালী বোর্ডের কাছে বারবার ধরনা দেওয়া সত্ত্বেও তারা যথাযথ কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি এবং বিষয়টিকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। বিচার পাওয়ার আশায় থাকা পরিবারটি স্থানীয়ভাবে প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় এলাকাবাসীর মনে ক্ষোভের দানা বাঁধতে থাকে।
রবিবার সকালে যখন বিষয়টি গ্রামবাসীর মধ্যে জানাজানি হয়, তখন এলাকাবাসী ধৈর্য হারিয়ে ফেলে। কয়েকশ নারী-পুরুষ ও ক্ষুব্ধ জনতা সংঘবদ্ধ হয়ে অভিযুক্ত মো. আলমের বাড়ি ঘেরাও করে। অপরাধীর কঠোর শাস্তির দাবিতে তারা স্লোগান দিতে থাকে এবং এক পর্যায়ে উত্তেজিত জনতা অভিযুক্তকে গণপিটুনি দেয়। এ সময় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও আইনশৃঙ্খলার অবনতির আশঙ্কা দেখা দেয়।
পুলিশের ভূমিকা ও আইনি তৎপরতা
শাহজাদপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করার পর পুলিশ অভিযুক্ত মো. আলমকে উদ্ধার করে এবং আটক করে থানায় নিয়ে আসে। পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, অভিযুক্ত মো. আলম ওই গ্রামেরই বাসিন্দা। থানায় নিয়ে আসার পর তাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার নথিপত্র প্রস্তুত করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শাহজাদপুর থানায় তারা বাদী হয়ে একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। শিশুটির শারীরিক ও মানসিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।
দিগন্ত বাংলা নিউজের পর্যবেক্ষণ
নারীর প্রতি সহিংসতা এবং শিশু নির্যাতনের মতো ঘটনার ক্ষেত্রে আমাদের সমাজ এখনো এক ভয়াবহ সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় পর্যায়ে বিচারপ্রার্থী পরিবার কেন যথাযথ সহযোগিতা পায়নি, তাও একটি বড় প্রশ্ন। অপরাধী মো. আলমকে আইনের আওতায় আনা হলেও, সমাজের এই অন্ধকার দিকগুলোকে উন্মোচন করা অত্যন্ত জরুরি। শাহজাদপুরের এই ঘটনা শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এটি আমাদের সামাজিক নিরাপত্তার অভাবকেই প্রকটভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। ‘দিগন্ত বাংলা নিউজ’ এই মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া এবং বিচারিক অগ্রগতির প্রতিটি মুহূর্তের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছে। ভুক্তভোগী শিশু ও তার পরিবার যেন দ্রুততম সময়ের মধ্যে ন্যায়বিচার পায়, আমরা সেই প্রত্যাশা ব্যক্ত করছি।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।