রবিবার (৭ জুন) গভীর রাতে রাজধানী ঢাকাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। রাত ১১টা ৩৬ মিনিটের দিকে এই ভূকম্পন অনুভূত হয়। হঠাৎ মাটি কেঁপে ওঠায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গভীর ঘুমের মাঝেই অনেককে প্রাণ বাঁচাতে ঘরবাড়ি ও উঁচু দালান থেকে দ্রুত রাস্তায় বেরিয়ে আসতে দেখা যায়।
ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ও মাত্রা:
অ্যানড্রয়েড আর্থকোয়েক অ্যালার্ট সিস্টেম এবং আন্তর্জাতিক ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল ভুটানের পুনাখা থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫.৩। ভূ-বিজ্ঞানীদের মতে, ভূপৃষ্ঠের বেশ গভীরে এর কেন্দ্রস্থল থাকায় এর প্রভাব বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে অনুভূত হয়েছে। বাংলাদেশ ছাড়াও ভুটান, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলো এবং চীনের সীমান্ত এলাকায় এই কম্পন অনুভূত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক:
রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলার বাসিন্দারা ভূকম্পনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়া এবং বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সাধারণ মানুষ তাদের অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেছেন। অনেকে জানিয়েছেন, কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী এই কম্পনে তাদের ঘরের আসবাবপত্র কেঁপে উঠেছিল। বহুতল ভবনের বাসিন্দারা বেশি আতঙ্কিত ছিলেন, কারণ কম্পনের তীব্রতা ওপরের তলাগুলোতে বেশি অনুভূত হয়। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
ভূমিকম্পের কারণ ও বাংলাদেশ:
বাংলাদেশ ভৌগোলিকভাবে ভূমিকম্পের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে অবস্থিত। ইন্ডিয়ান, ইউরেশিয়ান ও বার্মিজ টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থানের কারণে এ অঞ্চলে মাঝেমধ্যেই ছোট থেকে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প হয়ে থাকে। বিশেষ করে ‘ডাউকি ফল্ট’ এবং ‘মধুপুর ফল্ট’ জোনগুলো নিয়ে ভূ-তাত্ত্বিকরা দীর্ঘ দিন ধরেই সতর্কবার্তা দিয়ে আসছেন।
সতর্কতা ও করণীয়:
ভূমিকম্প একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যা আগে থেকে পূর্বাভাস দেওয়া অসম্ভব। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞরা কিছু সাধারণ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন: ১. শান্ত থাকা: আতঙ্কিত না হয়ে শান্ত থাকার চেষ্টা করুন। ২. নিরাপদ স্থানে অবস্থান: বহুতল ভবনে থাকলে লিফট ব্যবহার করবেন না। সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামার চেষ্টা করুন অথবা শক্তিশালী টেবিল বা মজবুত আসবাবপত্রের নিচে আশ্রয় নিন। ৩. খোলা জায়গা: দালানের বাইরে থাকলে খোলা জায়গায় বা মাঠে অবস্থান নিন। বিদ্যুৎ লাইন, বড় গাছ বা বিলবোর্ড থেকে দূরে থাকুন। ৪. জরুরি সরঞ্জাম: ঘরে সবসময় ফাস্ট এইড বক্স, টর্চলাইট এবং শুকনো খাবার রাখুন।
আরও পড়ুন: দেশে বিদ্যুতের ঘাটতি নেই, তবে সাময়িক বিভ্রাট হতে পারে: জ্বালানিমন্ত্রী
প্রশাসনের নজরদারি:
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তাদের কাছে খবর নেওয়া হচ্ছে। বড় কোনো বিপদ বা ভবন ধসের খবর এখনো পাওয়া যায়নি। তবে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতির জন্য তাদের সব ইউনিট প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সিটি কর্পোরেশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ভবনগুলোর নিরাপত্তা যাচাইয়ের জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
আমরা আশা করছি, এই ভূকম্পনের ফলে কোনো প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তবে আমাদের সবাইকে ব্যক্তিগত ও সামাজিক পর্যায়ে ভূমিকম্প সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে বিএনবিসি (BNBC) কোড বা বিল্ডিং কোড যথাযথভাবে অনুসরণ করা অত্যন্ত জরুরি।




একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।