নিজস্ব প্রতিবেদন / শাহজাদপুর, সিরাজগঞ্জ / দিগন্ত বাংলা নিউজ
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং এর সকল অঙ্গ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের যাবতীয় রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কর্মকাণ্ডের ওপর আরোপিত সরকারি নিষেধাজ্ঞার প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট আবেদনটি উত্থাপিত হয়নি মর্মে সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। আজ রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জে বি এম হাসান এবং বিচারপতি আজিজ আহমদ ভূঞার সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই তাৎপর্যপূর্ণ আদেশ প্রদান করেন। এর ফলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক বিগত সময়ে জারি করা আওয়ামী লীগের সামগ্রিক কর্মকাণ্ড স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত বিচারিক কোনো বাধা ছাড়াই বহাল রইল। দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতায় এই রিট আবেদনটিকে কেন্দ্র করে বিচারাঙ্গনসহ সর্বমহলে গভীর আগ্রহ ও আলোচনা সৃষ্টি হয়েছিল।
আরও পড়ুন: বেলকুচিতে জমি বিরোধে বসতবাড়িতে হামলা-ভাঙচুর: উভয় পক্ষের আহত ১০, আশঙ্কাজনক ১
নথি পর্যালোচনা করে জানা গেছে, গত ৭ সেপ্টেম্বর মুন্সীগঞ্জ জেলার বাসিন্দা মো. আল আমিন এই রিট আবেদনটি দায়ের করেছিলেন। আদালতে আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউনূস আলী। রিটে বিগত ২০২৫ সালের ১২ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে জারি করা নির্বাহী প্রজ্ঞাপনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। আবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, রাজনৈতিক দল ও সহযোগী সংগঠনগুলোর সব কার্যক্রম এভাবে নির্বাহী আদেশে নিষিদ্ধ করা সংবিধানসম্মত কি না, সে বিষয়ে রুল জারি করা আবশ্যক। একই সঙ্গে রিটটিতে প্রার্থনা জানানো হয়েছিল যে, হাইকোর্ট কর্তৃক রুল জারি করা হলে তা চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ১২ মের প্রজ্ঞাপনের কার্যকারিতা অন্তর্বর্তীকালীনভাবে স্থগিত রাখা হোক।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের মে মাসে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি ও গণদাবির প্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে আওয়ামী লীগের সব ধরনের সাংগঠনিক কার্যক্রমের ওপর বিশেষ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। উক্ত প্রজ্ঞাপনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছিল, “বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং এর সব অঙ্গসংগঠন, সহযোগী সংগঠন ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতা–কর্মীদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারকার্য সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাদের যেকোনো ধরনের প্রকাশনা, গণমাধ্যম, অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেকোনো ধরনের প্রচারণা, মিছিল, সভা-সমাবেশ, সম্মেলন আয়োজনসহ যাবতীয় কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলো।” এই আদেশের ফলে রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের মাঠপর্যায়ের মিছিল, সভা, সম্মেলন এবং অনলাইন প্রচারণাসহ সব ধরনের কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার আইনি বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়।
আরও পড়ুন: শাহজাদপুরে ডেঙ্গু ও মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও র্যালি
আজ রবিবার হাইকোর্ট বেঞ্চে রিট আবেদনটি শুনানির জন্য উপস্থাপিত হলে বিজ্ঞ আদালত সার্বিক আইনি দিক ও সারবত্তা বিবেচনা করেন। শুনানি শেষে বিচারকদ্বয় রিট আবেদনটি সরাসরি গ্রহণ না করে ‘উত্থাপিত হয়নি’ মর্মে খারিজের আনুষ্ঠানিক আদেশ দেন। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আদালত আবেদনটি শুনানির যোগ্য মনে না করায় বা আবেদনকারী পক্ষ অধিকতর শুনানিতে অগ্রসর না হওয়ায় এমন আদেশ এসেছে। এর ফলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের বিরুদ্ধে আনা আইনি চ্যালেঞ্জ এই দফায় পুরোপুরি অকার্যকর হয়ে পড়েছে এবং সরকারের নিষেধাজ্ঞা আগের মতোই পূর্ণ শক্তিতে কার্যকর থাকবে।
আইনজ্ঞরা অভিমত প্রকাশ করেছেন যে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জুলাই অভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের যে বিচার চলছে, তা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ রাখার স্বার্থে সরকার এই প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়েছিল। হাইকোর্ট রিটটি খারিজ করে দেওয়ায় রাজনৈতিক দল হিসেবে সংগঠনটির প্রকাশ্য কোনো তৎপরতা চালানোর আইনগত সুযোগ আপাতত নেই। বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত দলটি কোনো সাংগঠনিক কর্মসূচি কিংবা জনসম্মুখে কোনো বিবৃতি প্রকাশ করতে পারবে না। আইন ও সংবিধানের মর্যাদা সমুন্নত রাখতে বিচার বিভাগের এই অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক বার্তা প্রদান করেছে।
সূত্র: সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্ট নথি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।