নিজস্ব প্রতিবেদন / শাহজাদপুর, সিরাজগঞ্জ / দিগন্ত বাংলা নিউজ
সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি পৌর এলাকার দেলুয়া গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণকে কেন্দ্র করে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, বসতবাড়িতে হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুরের বর্বরোচিত ঘটনা ঘটেছে। দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত পারিবারিক শত্রুতা ও জায়গা দখলের পাল্টাপাল্টি বিরোধের জেরে সংঘটিত এই সংঘাতের ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত দশ জন রক্তাক্ত জখম হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বেলকুচি পৌরসভার দেলুয়া গ্রামে চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে এই তাণ্ডব চালানো হয়। সংঘর্ষে দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে আহতদের মধ্যে আঃ মমিন (৩৫) নামের এক ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে জরুরিভিত্তিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এই মর্মান্তিক সংঘাতের পর থেকে পুরো দেলুয়া গ্রামে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে এবং যেকোনো সময় পুনরায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কায় সাধারণ গ্রামবাসীর মধ্যে চরম ভীতি কাজ করছে।
আরও পড়ুন: সাঁথিয়ায় সারের গুদামে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান: ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা ও সার জব্দ
এলাকাবাসী ও স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী জানা যায়, বেলকুচি পৌর এলাকার অন্তর্গত দেলুয়া গ্রামের একটি নির্দিষ্ট সীমানা নিয়ে দুই প্রতিবেশী পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন যাবৎ অসন্তোষ বিরাজ করছিল। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে এক পক্ষ নিজেদের সীমানা সুরক্ষিত করার লক্ষ্যে প্রাচীর নির্মাণের প্রস্তুতি গ্রহণ করলে প্রতিপক্ষ সেখানে গিয়ে সরাসরি বাধা প্রদান করে। এর ফলশ্রুতিতে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রথমে তীব্র বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয় এবং মুহূর্তের মধ্যেই তা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় উভয় পক্ষের লোকজন লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর আক্রমণ চালায় এবং বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে আসবাবপত্রের ক্ষতিসাধন করে।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে গুরুতর আহত মমিনের ভাই মান্নান জানান, "আমার ভাই বাড়ীর সিমানায় প্রাচীর দেওয়ার সময় বাঁধাদিলে আমরা প্রতিহত করি। তখন তারা থানায় অভিযোগ দিয়ে এসে আসামিরা দেশীয় অস্ত্রে সঞ্জিত হয়ে মমিনের ঘর-বাড়ীতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে ও স্বর্নের চেইন ছিনিয়ে নেয়। এসময় মমিন বাঁধা দিলে তার উপর হামলা চালালে সে গুরতর আহত হয়। এখন সে ঢাকা মেডিকেল কলেজে চিকিৎসা নিচ্ছে।"
আরও পড়ুন: শাহজাদপুরে ডেঙ্গু ও মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও র্যালি
এদিকে প্রতিপক্ষের শফিকুল ইসলাম শফি জানান, "মমিন ও তার সহযোগীরা জোর করে আমার আত্মীয়ের জায়গা দখল করে সিমানা প্রাচীর তৈরি করতে গেলে পুরুষ মানুষ না থাকায় মহিলারা এগিয়ে যায়। তখন তাদের সিমানা প্রাচীর তৈরিতে বাঁধা দিলে মমিন ও তার সহযোগীরা এলোপাথাড়ি মারপিট করেন। এতে মহিলারা আহত হলে স্থানীয়রা তাদের মুমুর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য বেলকুচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এসময় তাদের গায়ে পরিহিত স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেয় তারা। ব্যবসায়ীক কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে আমি ওই সময় উপস্থিত ছিলাম না। তবে ঘটনাটি আহতদের কাছে থেকে জানতে পেরেছি।"
সংঘর্ষের ঘটনার পর আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় বেলকুচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর আঃ মমিনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। মারামারির খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা জানান, সীমানা বিরোধের মতো ঘটনায় আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে এমন রক্তক্ষয়ী সংঘাত কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
এ বিষয়ে শনিবার (১২ আক্টোবর) দুপুরে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে বেলকুচি থানা অফিসার ইনচার্জ মোক্তারুজ্জামান। বেলকুচি থানা অফিসার ইনচার্জ মোক্তারুজ্জামান জানান, "দেলুয়া গ্রামে মারামারির ঘটনায় আমরা উভয় পক্ষের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি।" বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের কথাও জানান তিনি।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তৎপর রয়েছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। এলাকায় যেকোনো ধরণের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি প্রতিরোধে নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, উভয় পক্ষের দাখিলকৃত অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নিউজ এর সূত্র: বেলকুচি থানা পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।