নিজস্ব প্রতিবেদন / শাহজাদপুর, সিরাজগঞ্জ / দিগন্ত বাংলা নিউজ
পাবনা জেলার সাঁথিয়া উপজেলায় কৃষি খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং প্রান্তিক কৃষকদের স্বার্থ সুরক্ষায় অবৈধ মজুতদার ও অনুমোদনহীন সার ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে এক জোরালো ও কঠোর অভিযান পরিচালনা করেছে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন। শনিবার বারোই সেপ্টেম্বর দুপুরের দিকে সাঁথিয়া পৌর সদরের বোয়ালমারি বাজারস্থ পেট্রোল পাম্পের সন্নিকটে অবস্থিত দুটি পৃথক রাসায়নিক সারের গুদামে আকস্মিক অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। সাঁথিয়া উপজেলার নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সেলিম আহমেদের সরাসরি তদারকি ও নেতৃত্বে এই বিশেষ তদারকিমূলক অভিযান পরিচালিত হয়। কৃষি মৌসুমে সারের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অপচেষ্টা নস্যাৎ করা এবং সরকারের নির্ধারিত ভর্তুকি মূল্যের রাসায়নিক সার সাধারণ চাষিদের মাঝে পৌঁছানো নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পরিচালিত এই প্রশাসনিক পদক্ষেপে পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
আরও পড়ুন: তাড়াশে গৃহবধূকে পথরোধ করে শ্লীলতাহানির চেষ্টা ও হুমকি: থানায় অভিযোগ
উপজেলা প্রশাসন ও ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, বোয়ালমারি বাজার ও সংলগ্ন বাণিজ্যিক এলাকায় নির্ধারিত বিধিনিষেধ অমান্য করে কিছু ব্যবসায়ী সার মজুত ও অনিয়মতান্ত্রিক উপায়ে বেচাকেনা করছেন—এমন সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে সেখানে দ্রুত উপস্থিত হয় ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিশেষ দল। অভিযানের শুরুতে একটি গুদাম তল্লাশি চালিয়ে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন বা বিএডিসির সরকার অনুমোদিত একজন ডিলারের হলেও সেখানে সার মজুত বা বিক্রির কোনো হালনাগাদ রেজিস্ট্রার খাতা সংরক্ষিত ছিল না। এছাড়া গুদামে সার যথাযথ উপায়ে সংরক্ষণ না করে চরম অব্যবস্থাপনা বজায় রাখা হয়েছিল। কোনো কার্যকর স্টক রেজিস্ট্রার ব্যতিরেকে সার মজুত রাখা সরকারি নীতিমালার সরাসরি লঙ্ঘন হওয়ায় সংশ্লিষ্ট ডিলারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তাৎক্ষণিকভাবে প্রমাণিত হয়।
একই অভিযানে পেট্রোল পাম্প সংলগ্ন অপর একটি সারের গুদামে তল্লাশি চালানো হলে সেখানে আরও মারাত্মক অনিয়ম ধরা পড়ে। ভ্রাম্যমাণ আদালত দেখতে পায় যে, ওই গুদামটি পরিচালনা করার জন্য কোনো প্রকার সরকারি লাইসেন্স বা ট্রেড অনুমোদন গ্রহণ করা হয়নি। সম্পূর্ণ অনুমোদনহীন ও অবৈধভাবে গুদাম পরিচালনা করার পাশাপাশি সেখানে অত্যন্ত গোপনে প্রায় চারশত বস্তা ডিএপি সার অবৈধভাবে মজুত করে রাখা হয়েছিল। লাইসেন্সবিহীন অবস্থায় বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক সার এভাবে কুক্ষিগত করে রাখা গুরুতর বেআইনি কর্মকাণ্ড হিসেবে সাব্যস্ত হয়। এই দুটি সুনির্দিষ্ট অপরাধের কারণে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি ধারায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়।
আরও পড়ুন: নয়ডা বিমানবন্দরে রাশিয়ার সামরিক বিমানের অবতরণ, ভারতে পুতিনের আগমনের প্রস্তুতি
অভিযোগের সত্যতা এবং আলামত প্রত্যক্ষ করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট সেলিম আহমেদ তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্তদের অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেন। বিএডিসির অনুমোদিত ডিলার হয়েও রেজিস্ট্রার সংরক্ষণ না করা এবং অব্যবস্থাপনার দায়ে ডিলার আবুল কালাম আজাদকে নগদ ত্রিশ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অপরদিকে কোনো প্রকার বৈধ লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা পরিচালনা ও বিপুল পরিমাণ সার মজুত রাখার দায়ে অপর ব্যবসায়ী নজরুল ইসলামকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এর মাধ্যমে পৃথক দুটি মামলায় ভ্রাম্যমাণ আদালত সর্বমোট এক লাখ ত্রিশ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য করে তা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা নিশ্চিত করেন।
অর্থদণ্ড প্রদানের পাশাপাশি উদ্ধারকৃত সারের অপব্যবহার রোধে এবং এলাকার কৃষকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় অত্যন্ত ইতিবাচক ও কল্যাণমুখী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট নির্দেশ প্রদান করেন যে, জব্দকৃত প্রায় চারশত বস্তা ডিএপি সার স্থানীয় কৃষি অফিসের সরাসরি সমন্বয়ে একজন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার উপস্থিতিতে খোলা বাজারে বিক্রি করা হবে। কোনো মধ্যস্বত্বভোগীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই সরাসরি সাধারণ ও প্রকৃত কৃষকদের মাঝে সরকারি ন্যায্যমূল্যে এসব সার বিতরণ করার কঠোর তাগিদ দেওয়া হয়। এর ফলে এলাকার কৃষকরা হয়রানিমুক্ত পরিবেশে ন্যায্যমূল্যে সার সংগ্রহের দারুণ সুযোগ লাভ করবেন।
কৃষিপ্রধান এই অঞ্চলে সারের কৃত্রিম সংকট ও কালোবাজারি রোধে প্রশাসনের এমন সাঁড়াশি তৎপরতায় স্থানীয় সাধারণ কৃষক মহলে স্বস্তি নেমে এসেছে। সাধারণ মানুষ মনে করছেন, অসাধু মজুতদারদের লাগাম টেনে ধরতে এ ধরণের আকস্মিক আইনি হস্তক্ষেপ নিয়মিত হওয়া জরুরি। সার ডিলার ও মজুতদারদের প্রতি স্পষ্ট বার্তা প্রদান করে ইউএনও সেলিম আহমেদ জানান,জনস্বার্থে অভিযান অব্যাহত থাকবে। নাগরিক কল্যাণে পরিচালিত এই ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানকে সাঁথিয়া পৌরবাসী ও কৃষক সমাজ সাধুবাদ জানিয়েছে।
নিউজ এর সূত্র: সাঁথিয়া উপজেলা প্রশাসন ও ভ্রাম্যমাণ আদালত।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।