তাড়াশে গৃহবধূকে পথরোধ করে শ্লীলতাহানির চেষ্টা ও হুমকি: থানায় অভিযোগ

তাড়াশে গৃহবধূকে পথরোধ করে শ্লীলতাহানির চেষ্টা ও হুমকি: থানায় অভিযোগ
ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদন / শাহজাদপুর, সিরাজগঞ্জ / দিগন্ত বাংলা নিউজ

সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ উপজেলায় এক সাধারণ গৃহবধূর ওপর প্রকাশ্যে দিবালোকে পথরোধ করে অনৈতিক কুপ্রস্তাব প্রদান, টানা-হেঁচড়া করে শ্লীলতাহানির অপচেষ্টা এবং পরবর্তীতে প্রাণনাশের চরম হুমকি প্রদানের মতো গুরুতর এক সামাজিক অপরাধের অভিযোগ প্রকাশ্যে এসেছে। গ্রামীণ জনপদে শান্তিপ্রিয় নারীদের চলাফেরার স্বাভাবিক নিরাপত্তা বিঘ্নিতকারী এই সংবেদনশীল ও ন্যক্কারজনক ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও চরম অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী গৃহবধূ নিজের সম্মান ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে আইনের আশ্রয় গ্রহণ করেছেন এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট তাড়াশ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।

অভিযোগপত্র ও সংশ্লিষ্ট এলাকা সূত্রে জানা গেছে, সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ উপজেলার অন্তর্গত বারুহাস ইউনিয়নের পলাশী গ্রামের বাসিন্দা এবং মো. দুলালের স্ত্রী ফাতেমা খাতুন (৩৩) তার স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে একটি সাধারণ পরিবারে দীর্ঘকাল যাবৎ সুশৃঙ্খলভাবে বসবাস করে আসছেন। একজন নিরিবিলি গৃহিনী হিসেবে পরিবার পরিচালনাই তার প্রাত্যহিক দায়িত্ব। তবে অভিযোগ উঠেছে, একই গ্রামের বাসিন্দা মৃত হারান আলীর ছেলে মো. মোকলেছ (৫০) দীর্ঘদিন ধরে ওই গৃহবধূকে নানাভাবে কুদৃষ্টি দিয়ে আসছিলেন। অভিযুক্ত ব্যক্তি বিভিন্ন সময়ে সুযোগ বুঝে তাকে অনৈতিক ও অসৎ সম্পর্কের কুপ্রস্তাব দিয়ে প্রচণ্ড মানসিক চাপ ও সামাজিক বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলেছিলেন। ফাতেমা খাতুন একজন আত্মমর্যাদাশীল নারী হিসেবে মোকলেছের এমন অশালীন প্রস্তাব বারবার ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেন এবং বিষয়টি নিয়ে কঠোর আপত্তি জানান।

আরও পড়ুন: ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশের পরিচ্ছন্নতা অভিযান

পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন অভিযুক্ত ব্যক্তির অনাকাঙ্ক্ষিত উত্ত্যক্তকরণ চরম পর্যায়ে পৌঁছায়। ভুক্তভোগী ফাতেমা খাতুন নিজের পারিবারিক সম্মান ও নিরাপত্তা রক্ষার্থে মোকলেছের এই জঘন্য আচরণের কথা নিজের স্বামীসহ নিকটাত্মীয়দের বিস্তারিত অবহিত করেন। স্বজনদের কাছে বিষয়টি প্রকাশ করায় অভিযুক্ত মোকলেছ প্রচণ্ডভাবে ক্ষিপ্ত ও প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে ওঠে। সে গৃহবধূ ও তার পরিবারকে বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং মুখ বন্ধ না রাখলে বড় ধরণের ক্ষতির মুখে ফেলার হুমকি দিয়ে আসছিল। এতে গৃহবধূর দৈনন্দিন স্বাভাবিক চলাফেরা ও পারিবারিক পরিবেশের মধ্যে চরম ভীতির সঞ্চার হয়।

এই বিরোধের চূড়ান্ত প্রকাশ ঘটে গত ২৫শে আগস্ট। প্রাপ্ত বিবরণ অনুযায়ী, ওই দিন দুপুর আনুমানিক সাড়ে বারোটার দিকে (১২:৩০ মিনিট) ফাতেমা খাতুন বাড়ি থেকে রান্না করা খাবার নিয়ে মাঠে কর্মরত স্বামীর উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। পথে তিনি উপজেলার ব্যস্ততম বস্তুল বাজারের পাকা রাস্তায় পৌঁছালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওত পেতে থাকা মোকলেছ তার গতিরোধ করে পথ আটকে দাঁড়ায়। প্রকাশ্য রাস্তায় কোনো প্রকার তোয়াক্কা না করে অভিযুক্ত ব্যক্তি গৃহবধূকে টানা-হেঁচড়া শুরু করে এবং তার শ্লীলতাহানি ঘটানোর এক চরম অপচেষ্টা চালায়। আকস্মিক এই হামলায় ভীতিগ্রস্ত হয়ে গৃহবধূ আত্মরক্ষার্থে চিৎকার শুরু করলে আশেপাশের পথচারী ও স্থানীয় বাজারের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।

আরও পড়ুন: কারাগার হোক উৎপাদন ও সংশোধনের কেন্দ্র, বন্দীদের সম্পদে রূপান্তরের আহ্বান

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সাধারণ জনতা দ্রুত এগিয়ে আসতে দেখে পরিস্থিতি প্রতিকূল বুঝে অভিযুক্ত মোকলেছ তৎক্ষণাৎ গৃহবধূকে ছেড়ে দেয়। তবে ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পূর্বে সে উপস্থিত স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ ও ভুক্তভোগীকে উদ্দেশ্য করে চরম আক্রমণাত্মক ভাষায় অকথ্য হুমকি প্রদান করে এবং পরবর্তীতে এর পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ হবে বলে শাসিয়ে সদর্পে স্থান ত্যাগ করে। প্রকাশ্য রাস্তায় একজন সম্মানিত গৃহবধূর ওপর এমন বর্বরোচিত আচরণের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা হতবাক ও তীব্র ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।

অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনার পর ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি স্থানীয় মাতব্বর ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে পারিবারিকভাবে মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তির একগুঁয়েমি, ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ এবং কোনো প্রকার ভুল স্বীকার না করার কারণে গ্রামীণ সালিশি ও সামাজিক সমঝোতার চেষ্টা সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। কোনো কার্যকর সামাজিক প্রতিকার না পেয়ে এবং ক্রমাগত হুমকির মুখে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে অবশেষে ফাতেমা খাতুন তাড়াশ থানায় উপস্থিত হয়ে মোকলেছের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থার আবেদন জানিয়ে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।

নারীর প্রতি এমন অমানবিক আচরণ ও শ্লীলতাহানির চেষ্টার ঘটনায় বারুহাস ইউনিয়নজুড়ে তীব্র নিন্দার ঝড় বইছে। এ বিষয়ে তাড়াশ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইমাম জাফর বলেন, “এ বিষয়ে একটা অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্তের আশ্বাস পাওয়ার পর স্থানীয় সচেতন মহল আশা প্রকাশ করছেন যে, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উন্মোচিত হবে এবং দোষী ব্যক্তিকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা হবে। নিরাপদ সমাজ বিনির্মাণে নারীর মর্যাদা ও নিরাপত্তা অক্ষুণ্ন রাখাই সকলের প্রত্যাশা।

নিউজ এর সূত্র: তাড়াশ থানা পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবারের লিখিত অভিযোগ।

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন