নিজস্ব প্রতিবেদন / শাহজাদপুর, সিরাজগঞ্জ / দিগন্ত বাংলা নিউজ
সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি উপজেলায় সাংবাদিকতার আড়ালে চাঁদাবাজি ও নানা অপকর্ম চালিয়ে যাওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে একটি মহলের বিরুদ্ধে। সংবাদমাধ্যমের প্রভাব খাটিয়ে এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায়ের প্রতিবাদে এবং এর যথাযথ প্রতিকার চেয়ে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বেলকুচি উপজেলার বড়ধূল ইউনিয়ন পরিষদের সুযোগ্য ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যবৃন্দের সার্বিক আয়োজনে এবং স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে বেলকুচি প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এই সংবাদ সম্মেলনটি সম্পন্ন হয়। মঙ্গলবার দুপুরে অনুষ্ঠিত এই সংবাদ সম্মেলনে এলাকার রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বড়ধুল ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক ও ইউপি সদস্য আইনাল হক। তাঁর এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে কথিত কিছু ব্যক্তির অপতৎপরতা ও চাঁদাবাজির ভয়ংকর চিত্র প্রকাশ্যে এসেছে।
আরও পড়ুন: জুলাই হত্যা মামলা: ওবায়দুল কাদেরসহ অন্যদের মৃত্যুদণ্ড ট্রাইব্যুনালের
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আইনাল হক বিস্তারিত তুলে ধরে বলেন, গত রোববার বড়ধূল ইউনিয়ন পরিষদের আওতায় দুস্থ ও অসহায় মানুষের জন্য দূর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রানলয়ের বরাদ্দকৃত জিআর এর চাউল বিতরণ করছিলাম । এমন সময় কথিত সাংবাদিক রেজাউল করিম, সোহরাওয়ার্দী, মনজুরুল ইসলাম, রানা সহ কয় জন কথিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে আমার কাছে আসেন। তাদের সাথে কথা হলে রেজাউল নামে একজন আমাকে বলেন আপনি একজনকে চাউলের ডাবল স্লিপ দিয়েছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা সুকৌশলে তাঁর ওপর চাপ সৃষ্টি করতে শুরু করে এবং নানা ধরনের অপপ্রচারের ভয়ভীতি দেখাতে থাকে। ইউনিয়ন পরিষদের সরকারি ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখা সত্ত্বেও এই চক্রটি অসৎ উদ্দেশ্যে তাঁকে ব্ল্যাকমেইল করার পাঁয়তারা চালায় এবং নিজেদের পেশাগত পরিচয়কে ব্যবহার করে ব্যক্তিগত ফায়দা হাসিলের অপচেষ্টা করে।
চাঁদাবাজি ও হুমকির সুনির্দিষ্ট বিবরণ দিয়ে আইনাল হক তাঁর বক্তব্যে আরও জানান, আপনি যদি আমাদের ত্রিশ হাজার টাকা না দেন তাহলে আপনাকে নিউজের মাধ্যমে মানহানি করা হবে। তিনি বলেন, তখন তাদের আমি বলি আপনারা সাংবাদিক হলেও সমস্যা নেই। কেননা চাল বিতরণ হচ্ছে সরকারের নিযুক্ত ট্যাগ অফিসারের মাধ্যমে। তখন কথিত সাংবাদিক রেজাউল বিভিন্ন কথা বলে আমাকে নানা ভয় দেখায় ও তার দাবি করা টাকা না দিলে মানহানির হুমকি দামকি দিতে থাকে। আমি কথিত ওই সাংবাদিককে বলি ভাই আমি কোন অবৈধ কাজের সাথে জড়িত না। অহেতুক আমাকে বিভ্রান্তির মধ্যে ফেলেছেন। তখন সে বলে ত্রিশ হাজারের এক টাকা কম পেলে আপনাকে মানহানি করা হবে। তখন আমি আমার সামাজিক অবস্থানের দিকে তাকিয়ে রেজাউল ও তার সহযোগী সোহরাওয়ার্দী কে ডেকে নিয়ে মানুষের কাছে থেকে হাওলাত করে তাদেরকে দশ হাজার টাকা দেই। এই টাকা নিয়ে তারা তাৎক্ষনিক স্থান ত্যাগ করে চলে আসেন। প্রকাশ্য দিবালোকে এমন অনৈতিক অর্থ আদায়ের ঘটনায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিএনপি নেতার অসহায়ত্ব ফুটে ওঠে।
আরও পড়ুন: বেলকুচিতে রাস্তা নির্মাণে দুই লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, ইউএনও বরাবরে আবেদন
টাকা দেওয়ার পরও হয়রানি ও অপপ্রচার বন্ধ হয়নি উল্লেখ করে আইনাল হক বলেন, লোক মুখে আমি জানতে পারি, কথিত সাংবাদিক রেজাউল দশ হাজার টাকা নিয়ে গিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপ্রপ্রচার চালিয়েছে । আমি যখন জানতে পারি এই কথিত সাংবাদিক আমার বিষয়ে মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়েছে তখন আমি তাকে ফোন দিলে সে আমাকে বলেন, দাবিকৃত টাকা দিলে আমরা এটা করতাম না। এরপর ভুক্তভোগী ইউপি সদস্য ও বিএনপি নেতা আরও ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান যে, এই ধরনের কুচক্রী মহল সাংবাদিকদের মতো একটি পবিত্র পেশাকে কলুষিত করছে এবং সাধারণ মানুষের সরলতার সুযোগ নিয়ে অর্থনৈতিকভাবে ফায়দা লুটছে। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে ঘোষণা করেন যে, আমি এই চাঁদাবাজা কথিত সাংবাদিক রেজাউল গ্রুপের শাস্তি দাবি করছি। সেই সাথে বিএনপির নাম ভাঙিয়ে রেজাউল বিভিন্ন জায়গায় চাঁদাবাজি যেন না করতে পারে সে বিষয়ে আমি সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের কাছে সহযোগিতা কামনা করছি।
সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও রাজনৈতিক কর্মীরাও অভিযুক্তদের কঠোর সমালোচনা করেন। ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব সুমন তাঁর বক্তব্যে বলেন, কথিত সাংবাদিক এই রেজাউল বিগত আওয়ামীলিগের সময় মমিন মন্ডলের বাড়িতে সব সময় থাকতো তিন বেলা খাবার খেত, ২৪ জুলাই এর পরে এখন সে বিএনপির রাজনীতি করে এবং এই দলের নাম ভাঙ্গিয়ে বিভিন্ন যায়গার চাঁদাবাজি করে। এই কথিত সাংবাদিক রেজাউল গংদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু বিচার দাবি জানিয়েছেন বেলকুচির সংসদ সদস্য আমিরুল ইসলাম খাঁন আলীমের কাছে। বক্তারা আরও বলেন যে, সুবিধাবাদী এই চক্রটি রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর খোলস পাল্টে এখন দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। তাদের দ্রুত আইনের আওতায় না আনলে এলাকার সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক কর্মীরা আরও বেশি হেনস্তার শিকার হবেন বলে তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন এই সংবাদ সম্মেলনে এলাকার বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সন্মেলন, বড়ধুল ইউনিয়ন বিএনপি’র সাবেক সদস্য সচিব আবু তাহের লাবলু, বিএনপি নেতা মফিজ উদ্দিন, জেলহক, শাহান তালুকদার, সুমন শেখ সহ স্থানীয় বিএনপি ও তার অংগসহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে কথিত সাংবাদিক রেজাউল ও তাঁর সহযোগীদের চাঁদাবাজি ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান। অন্যথায় এলাকাবাসী ও দলীয় নেতাকর্মীরা বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হবেন বলে হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
সূত্র: বেলকুচি প্রেসক্লাব ও সংবাদ সম্মেলন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।