বেলকুচিতে রাস্তা নির্মাণে দুই লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, ইউএনও বরাবরে আবেদন

বেলকুচিতে রাস্তা নির্মাণে দুই লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, ইউএনও বরাবরে আবেদন
ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদন / শাহজাদপুর, সিরাজগঞ্জ / দিগন্ত বাংলা নিউজ

সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলায় গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও সরকারি তহবিল আত্মসাতের অভিযোগ তুলে প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন গ্রামবাসী। উপজেলার ধুকুরিয়া বেড়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের তালুকদার মেটুয়ানি গ্রামে গ্রামীণ মাটির সড়ক সংস্কারে বরাদ্দকৃত তহবিলের সিংহভাগ কাজ না করেই তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচির (টি-আর) আওতায় এই সড়কটির জন্য বরাদ্দ ছিল দুই লাখ টাকা। কিন্তু বাস্তবে সামান্য কাজ দেখিয়ে বাকি অর্থ লোপাট করা হয়েছে বলে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর দাবি। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও শাস্তিমূলক পদক্ষেপের দাবি জানিয়ে বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, তালুকদার মেটুয়ানি গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নে টি-আর প্রকল্পের আওতায় মাটির রাস্তাটি সংস্কারের জন্য দুই লাখ টাকা বরাদ্দ দেয় সরকার। কাজের তদারকি ও বাস্তবায়নের দায়িত্ব পান সংশ্লিষ্ট ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য এরশাদ আলম। সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক নিচু স্থানে নতুন মাটি ও বালু ফেলে রাস্তাটি টেকসই করার কথা ছিল। তবে সরেজমিনে দেখা যায়, রাস্তায় কোনো বালু বা নতুন মাটি ফেলা হয়নি। বরং সড়কের আগাছা ও সামান্য মাটি কেটে হালকা সমান করেই প্রকল্পের সমাপ্তি টানা হয়েছে। গ্রামবাসীদের দাবি, বাস্তবে মাত্র তেরো হাজার টাকার লোকদেখানো কাজ করে বাকি অর্থ সংশ্লিষ্টরা আত্মসাৎ করেছেন।

আরও পড়ুন: কামারখন্দে একতা এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে অজ্ঞাত ব্যক্তির মৃত্যু

প্রকল্পের এমন বেহাল দশা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপি’র সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম জানান, “ভেবেছিলাম এই প্রকল্পে আওতায় রাস্তা ভালো হবে। কিন্তু কাজের কাজ তো কিছুই হয়নি। দেখে মনে হয় রাস্তা নির্মাণ শুধু নামেই হয়েছে। রাস্তার শুরুতে আগের মাটি একটু টেনে সমান করেছে। নতুন বালু-মাটি কিছুই দেয়নি। আমরা এই রাস্তার জন্য খুব ভোগান্তিতে আছি।” অন্যদিকে ক্ষোভ প্রকাশ করে ধুকুরিয়া বেড়া ৪ নং ওয়ার্ড বিএনপি সিনিয়র সহ সভাপতি হাজী মোঃ ফজলুল হক মন্ডল জানান, “আমরা দেখেছি বালু বা নতুন মাটি কিছুই আনা হয়নি। রাস্তার মাটি কেটে হালকা সমান করে দিয়েছে। এটা স্পষ্ট টাকা আত্মসাৎ। আমরা আমাদের বরাদ্দকৃত অর্থ দিয়ে রাস্তা চাই। এজন্য আমরা এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। আমরা গ্রামবাসীরা তার পদক্ষেপ গ্রহনের আশায় রয়েছি। তিনি বিষয়টি যদি ক্ষতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন।

আরও পড়ুন: আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট হাইকোর্টে খারিজ

অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে বড় ধরনের গরমিল দেখা গেছে। এ বিষয়ে ইউপি সদস্য এরশাদ আলম মুঠোফোনে বলেন, “বেলকুচি উপজেলা কৃষক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি হাজী রইচ উদ্দিন সরদার এমপির ডিও লেটারে দুই লাখ টাকার মাটির কাজ নেয়। আমি ইউপি সদস্য হিসেবে কাজের সভাপতি। কাজ শুরু করার পরেই বন্যা চলে আসে এর জন্য কাজ শেষ হয়নি। তবে বাকি কাজ করা হবে।” তবে কৃষক দল নেতার দাবি কাজ শেষ হয়েছে। বেলকুচি উপজেলা কৃষক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও ধুকুরিয়াবেড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রত্যাশী হাজী রইচ উদ্দিন সরদার বলেন, “এমপি সাহেব দুই লাখ টাকার মাটি রাস্তার কাজ দিয়েছিলো। দুই কিস্তিতে টাকা তুলে কাজ শেষ করেছি।” একজনের অসম্পূর্ণ কাজ এবং অন্যজনের সম্পূর্ণ টাকা তুলে নেওয়ার পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি আরও জোরালো রূপ নিয়েছে।

লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরিন জাহান। তিনি বলেন, “আমরা তালুকদার মেটুয়ানী গ্রামের একটি রাস্তা নির্মাণ প্রকল্পের কাজের জন্য এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখছি। তদন্ত করে এলাকাবাসীর দেওয়া অভিযোগের সত্যতা মিললে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।” সরকারি উন্নয়ন তহবিলের অপব্যবহার রোধে দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের চিহ্নিত করে বরাদ্দকৃত অর্থ দিয়ে রাস্তাটি যথাযথভাবে নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।

সূত্র: বেলকুচি উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় এলাকাবাসী।

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন