গোস্তহাটি প্রতিনিধি / নওগা / দিগন্ত বাংলা নিউজ
উত্তরাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও প্রশাসনিক কেন্দ্র নওগাঁ জেলা শহরের রাজপথে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং দীর্ঘদিনের নাগরিক ভোগান্তির কারণ যানজট নিরসনে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে জেলা পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ। বিশেষ করে শহরের ব্যস্ততম ও প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত গোস্তহাটির মোড় এলাকাসহ গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়কগুলোতে নির্বিঘ্ন যানবাহন চলাচল নিশ্চিত করতে বিশেষ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় এবং ট্রাফিক বিভাগের নিবিড় তত্ত্বাবধানে শহরের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ও মোড়ে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ঢেলে সাজানো হয়েছে। সনাতন ট্রাফিক ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক পদ্ধতি প্রয়োগের মাধ্যমে সড়ক ব্যবস্থাপনায় গতিশীলতা আনতে এই উদ্যোগ বিশেষ ভূমিকা রাখছে।
আরও পড়ুন: বেলকুচিতে রাস্তা নির্মাণে দুই লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, ইউএনও বরাবরে আবেদন
সরেজমিনে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকালে গোস্তহাটির মোড় এলাকায় ট্রাফিক পুলিশের সদস্যদের অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়। কর্মব্যস্ত সকালের শুরুতেই সাধারণ পথচারী, শিক্ষার্থী ও শ্রমজীবী মানুষের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে পুলিশ সদস্যরা সড়কজুড়ে অবস্থান নেন। এ সময় সড়কে চলাচলরত বাস, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ইজিবাইকের মতো গণপরিবহনগুলোর চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং অনিয়ন্ত্রিত পার্কিংয়ের কারণে যেন জনদুর্ভোগ সৃষ্টিকারী কোনো যানজটের উৎপত্তি না হয়, সে বিষয়ে সার্বক্ষণিক নজরদারি বজায় রাখা হয়। সড়কের সংযোগস্থলগুলোতে যানবাহনের অযথা জটলা প্রতিহত করার পাশাপাশি ফুটপাত দিয়ে সাধারণ পথচারীদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতেও নজরদারি জোরদার করা হয়।
সড়ক ব্যবস্থাপনায় প্রচলিত ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকে কাজে লাগানোর ওপর বিশেষ জোর দিয়েছে জেলা পুলিশ প্রশাসন। নওগাঁ জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এআই কানেক্টেড ডিজিটাল সারভিলেন্সের মাধ্যমে শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে যান চলাচল ও পার্কিং ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনার চেষ্টা চলছে। এর মাধ্যমে যানজটের কারণ চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সড়ক ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত এই আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থার সাহায্যে প্রধান সড়ক ও সংযোগ মোড়গুলোর ভিডিও ফুটেজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ফলে কোন সময়ে কোন সড়কে যানবাহনের চাপ বাড়ছে কিংবা কোথায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে, তা দ্রুত শনাক্ত করে মাঠপর্যায়ের ট্রাফিক সদস্যদের তাৎক্ষণিক বার্তা পাঠানো সম্ভব হচ্ছে, যা যানজট নিরসনে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনছে।
আরও পড়ুন: ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশের পরিচ্ছন্নতা অভিযান
যানজটের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত যত্রতত্র বেপরোয়া পার্কিং বন্ধে কঠোর বার্তা প্রদান করেছে পুলিশ প্রশাসন। পুলিশের পক্ষ থেকে চালক ও পথচারীদেরও ট্রাফিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষ করে যেখানে-সেখানে গাড়ি পার্কিং না করে নির্ধারিত স্থানে পার্কিং করার অনুরোধ করা হয়েছে। ব্যস্ততম সড়কের ওপর অসচেতনভাবে মোটরযান কিংবা পণ্যবাহী গাড়ি থামিয়ে রাখার ফলে সড়কের কার্যকারিতা কমে গিয়ে তীব্র জনভোগান্তির সৃষ্টি হয়। ট্রাফিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নির্দিষ্ট পার্কিং স্থান ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য নিয়মিত মাইকিং ও প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে এবং নিয়ম লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়াও চালু রয়েছে।
ট্রাফিক বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করেছেন যে, জনদুর্ভোগ লাঘবে শুধু পুলিশের উদ্যোগ নয়, সবার সচেতনতা ও সহযোগিতাই পারে নওগাঁ শহরের যানজট কমাতে। তাই আসুন, আমরা সবাই মিলে ট্রাফিক শৃঙ্খলা বজায় রাখি এবং পুলিশকে সহযোগিতা করি। নাগরিক সমাজ, পরিবহন চালক এবং ব্যবসায়ী মহল যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে ট্রাফিক বিধিনিষেধ মেনে চলেন, তবে খুব দ্রুতই গোস্তহাটির মোড়সহ পুরো শহরকে যানজটমুক্ত রাখা সম্ভব হবে। আধুনিক এআই প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ট্রাফিক পুলিশের এই নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টাকে নওগাঁর সর্বস্তরের সচেতন নাগরিক সমাজ আন্তরিকভাবে সাধুবাদ জানিয়েছেন।
সূত্র: নওগাঁ জেলা পুলিশ ও ট্রাফিক বিভাগ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।