তাড়াশে গোয়ালঘরের তালা ভেঙে কৃষকের ৮ লাখ টাকার ৮টি গরু চুরি

তাড়াশে গোয়ালঘরের তালা ভেঙে কৃষকের ৮ লাখ টাকার ৮টি গরু চুরি
ছবি: সংগৃহীত

তারাশ প্রতিনিধি, সিরাজগঞ্জ / দিগন্ত বাংলা নিউজ

সিরাজগঞ্জ জেলার চলনবিল অধ্যুষিত তাড়াশ উপজেলায় গভীর রাতের আঁধারে গোয়ালঘরের তালা ভেঙে এক কৃষকের সারা জীবনের কষ্টার্জিত সর্বস্ব লুটে নেওয়ার এক দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার তাড়াশ পৌরসভার অন্তর্গত খুটিগাছা গ্রামে সংঘটিত এই বর্বরোচিত চুরির ঘটনায় এক অসহায় কৃষকের গোয়ালঘর থেকে একযোগে আটটি মূল্যবান গরু চুরি করে নিয়ে গেছে একটি সংঘবদ্ধ চোরচক্র। চুরি যাওয়া গবাদিপশুগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় আট লাখ টাকা বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক হায়দার আলী। গ্রামীণ জনপদে জীবিকা নির্বাহ ও পারিবারিক অর্থনৈতিক সচ্ছলতার প্রধান অবলম্বন হিসেবে বিবেচিত গবাদিপশুগুলো এভাবে এক রাতে চুরি হয়ে যাওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবারটি চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। এ ঘটনায় পুরো খুটিগাছা গ্রামসহ আশপাশের এলাকাগুলোর সাধারণ কৃষক ও খামারিদের মাঝে তীব্র আতঙ্ক ও গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

আরও পড়ুন: সিরাজগঞ্জে যমুনা নদী থেকে অজ্ঞাত কিশোরের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

স্থানীয় বাসিন্দা ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পরিবারের সূত্রে জানা যায়, তাড়াশ পৌরসভার খুটিগাছা গ্রামের বাসিন্দা কৃষক হায়দার আলীর গোয়ালঘরে রাখা ছিল গরুগুলো। প্রতিদিনের মতো ঘটনার রাতেও তিনি তাঁর লালন-পালন করা আটটি গরু গোয়ালঘরে সুনির্দিষ্ট নিয়মে খাবার দিয়ে বেঁধে রেখে দরজায় মজবুত তালা লাগিয়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নিজ বসতঘরে ঘুমাতে যান। গত রাতে দুর্বৃত্তরা গোয়ালঘরের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। চোরেরা কোনো প্রকার শব্দ না করে অত্যন্ত চতুরতার সাথে গোয়ালঘরের দরজার তালা কেটে ভেতরে অনধিকার প্রবেশ করে। পরে তারা আটটি গরু নিয়ে পালিয়ে যায়। রাতের নির্জনতার সুযোগ নিয়ে সংঘবদ্ধ চক্রটি মুহূর্তের মধ্যে গরুগুলো নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে নির্বিঘ্নে চম্পট দেয়।

পরদিন সকালে গোয়ালঘরে গিয়ে গরু না পেয়ে বিষয়টি টের পান হায়দার আলী। সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রাত্যহিক কাজের অংশ হিসেবে গরুর পরিচর্যা ও ঘাস-পানি দেওয়ার উদ্দেশ্যে গোয়ালঘরের সামনে যান তিনি। সেখানে পৌঁছে তিনি গোয়ালঘরের দরজা খোলা এবং তালা ভাঙা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে চরম শঙ্কার মুখে পড়েন। ভেতরে প্রবেশ করে দেখতে পান যে একটি গরুরও সেখানে কোনো অস্তিত্ব নেই, পুরো গোয়ালঘরটি সম্পূর্ণ ফাঁকা পড়ে রয়েছে। এই দৃশ্য প্রত্যক্ষ করার সাথে সাথে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং তাঁর বুকফাটা আর্তচিৎকারে পরিবারের সদস্যসহ আশপাশের প্রতিবেশীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে আশপাশের এলাকায় খোঁজ করেও গরুগুলোর সন্ধান পাওয়া যায়নি। তাৎক্ষণিকভাবে কৃষক হায়দার আলী ও তাঁর স্বজনেরা আশপাশের বিভিন্ন গ্রাম, মেঠোপথ এবং চরাঞ্চলের সম্ভাব্য স্থানগুলোতে গরুগুলোর সন্ধানে ব্যাপক খোঁজাখুঁজি শুরু করলেও কোনো সুনির্দিষ্ট সন্ধান মেলেনি।

আরও পড়ুন: নওগাঁয় যানজট নিরসন ও পার্কিং নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক পুলিশের এআই নজরদারি

নিজের জীবনের সমস্ত সঞ্চয় ও শ্রম দিয়ে গড়ে তোলা গবাদিপশুগুলো আকস্মিকভাবে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষক। হায়দার আলী জানান, গরুগুলো তার পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ ছিল। একসাথে আটটি গরু চুরি হয়ে যাওয়ায় তিনি আর্থিকভাবে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই গরুগুলোর দুধ বিক্রি এবং কৃষিকাজের মাধ্যমেই তাঁর পুরো সংসারের দৈনন্দিন খরচ, সন্তানদের লেখাপড়া এবং পারিবারিক দেনা পরিশোধ করা হতো। হঠাৎ করে এত বড় আর্থিক ক্ষতির ধাক্কা কীভাবে সামলে উঠবেন, তা ভেবে তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন এবং চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিনাতিপাত করছেন।

এদিকে খুটিগাছা গ্রামে এমন দুঃসাহসিক চুরির ঘটনায় তাড়াশ পৌরসভাসহ সমগ্র উপজেলার পল্লী অঞ্চলের গৃহস্থ ও খামারিদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা জানায়, রাতের আঁধারে সংঘবদ্ধ চোরের দল এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে। সচেতন এলাকাবাসীর ধারণা, এর নেপথ্যে কাজ করছে আন্তঃজেলা চোরচক্রের সক্রিয় সদস্যরা, যারা আগে থেকেই এলাকায় তথ্য সংগ্রহ করে গভীর রাতে দূরবর্তী নির্জন রাস্তা দিয়ে গাড়ি নিয়ে এসে গবাদিপশু তুলে নিয়ে যায়। এলাকায় গরু চুরির ঘটনা ঠেকাতে রাতের বেলায় পাহারা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। গ্রামীণ সড়কগুলোতে পুলিশের নিয়মিত রাত্রিকালীন টহল বৃদ্ধির দাবি তুলেছেন সাধারণ অধিবাসীরা।

ঘটনাটি তাড়াশ থানা পুলিশকে তাৎক্ষণিকভাবে অবহিত করা হলে পুলিশ প্রশাসন দ্রুত তৎপরতা শুরু করে। এ বিষয়ে থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি ) মো: ইমাম জাফর জানান, পুলিশ চুরি যাওয়া গরু উদ্ধার এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে চেষ্টা চালাচ্ছে। পুলিশ কর্মকর্তা জানান যে, ঘটনার তদন্তে পুলিশ কাজ করছে এবং চোরচক্রের ব্যবহৃত সম্ভাব্য পথ ও আশপাশের তথ্য পর্যালোচনা করা হচ্ছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে জড়িত অপরাধীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা এবং কৃষকের চুরি যাওয়া গরুগুলো উদ্ধারের জন্য থানা পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

সূত্র: তাড়াশ থানা পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী।

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন