প্রতিবেদন: আব্দুস ছাত্তার (শামীম) / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় ও বর্ষীয়ান অভিনয়শিল্পী বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী বর্তমানে পেশাগত কাজের বিশেষ অংশ হিসেবে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। নতুন একটি নাটক ও শুটিংয়ের কাজে ওপার বাংলা থেকে এপারে এসে তিনি এদেশের নান্দনিক পরিবেশ, এদেশীয় অধিবাসীদের অকৃত্রিম আতিথেয়তা এবং বৈচিত্র্যময় খাদ্যাভ্যাসের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তবে সাম্প্রতিক এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী ও সুস্বাদু খাবারের বর্ণনা প্রদানকালে নিজের অন্যতম পছন্দের পদ হিসেবে গরুর মাংসের কথা অকপটে উল্লেখ করে হঠাৎ করেই এক বিষম সামাজিক মাধ্যম বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন এই জ্যেষ্ঠ টলিউড অভিনেতা। তাঁর এই অকপট বক্তব্য কেন্দ্র করে নেটিজেনদের একাংশের মাঝে তৈরি হয়েছে তীব্র ক্ষোভ ও চরম সামাজিক প্রতিক্রিয়া, যার জের ধরে সাইবার অঙ্গনে রীতিমতো সমালোচনার ঝড় বইতে শুরু করেছে।
আরও পড়ুন: শাহজাদপুরের স্কুলে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ: প্রধান শিক্ষককে ঘিরে উঠেছে নানা প্রশ্ন
ঘটনার সুনির্দিষ্ট সূত্রপাত ঘটে মূলত সম্প্রতি এক সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হওয়াকে কেন্দ্র করে। সেখানে বাংলাদেশে নিজের আগমন, শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা ও অনুভূতির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী অত্যন্ত আবেগভরে এখানকার মানুষের আন্তরিকতা, ভ্রাতৃত্ববোধ এবং মেহমানদারির ভূয়সী স্তুতি জ্ঞাপন করেন। রসংকরের এই কথোপকথনের এক পর্যায়ে যখন তাঁর ব্যক্তিগত খাদ্যাভ্যাস ও পছন্দের বাংলা খাবার সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়, তখন তিনি অত্যন্ত সহজ-সরল ও সাবলীল ভঙ্গিতে জানান যে এদেশের বিখ্যাত ইলিশ মাছের পাশাপাশি সুস্বাদু গরুর মাংসের বিভিন্ন পদ তাঁর অত্যন্ত প্রিয়। নিজের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতার কথা বিস্তারিত শেয়ার করে তিনি আরও যোগ করেন যে, বাংলাদেশে পৌঁছানোর পর দিন দুপুরবেলাতেই তিনি তৃপ্তি সহকারে মাংস-ভাত খেয়েছেন এবং একই দিনে রাত্রিকালীন আহারে আবারও বাইরে গরুর মাংসের রেসিপি আস্বাদন করতে যাওয়ার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে।
বর্ষীয়ান এই টলিউড অভিনেতার দেওয়া উক্ত মুখরোচক বয়ানের একটি বিশেষ ভিডিও ক্লিপ মুহূর্তের মধ্যে ইউটিউব, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামসহ নানা ডিজিটাল যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়ে এবং ভাইরাল হয়ে যায়। ভিডিওটি বিপুলসংখ্যক নেটিজেনের নজরে আসার পরপরই ইন্টারনেটের একটি অংশের ব্যবহারকারীরা তাঁর উক্ত পছন্দের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনায় মুখর হয়ে ওঠেন। অভিনেতার হিন্দু ধর্মীয় পরিচয় এবং ব্যক্তিগত খাদ্যাভ্যাসের বৈপরীত্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে অনেকে সামাজিক পাতায় নানা কটূক্তি, ট্রোল ও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করতে শুরু করেন। তীব্র ক্ষোভের বশে কোনো কোনো চরমপন্থী ব্যবহারকারী তাঁকে প্রকাশ্যে ডিম ছোড়ার মতো চরম অপমানজনক হুমকির বার্তা পর্যন্ত সামাজিক মাধ্যমে লিখে ছড়িয়ে দিয়েছেন, যা নিয়ে ডিজিটাল বিনোদন অঙ্গনে বেশ বড় ধরনের আলোড়ন ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুন: সিরাজগঞ্জে আসবাবপত্রের নামে অভিনব প্রতারণা: সাংবাদিকসহ বহু মানুষের লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ
তবে এই তীব্র সমালোচনা ও সাইবার আক্রমণের মুখেও এক বৃহৎ অংশের নেটিজেন ও পরম সংস্কৃতিপ্রেমী সাধারণ মানুষ অভিনেতা বিশ্বজিৎ চক্রবর্তীর পক্ষে অত্যন্ত জোরালো অবস্থান গ্রহণ করেছেন। তাঁর সমর্থনে এগিয়ে আসা উদার দৃষ্টিভঙ্গির নেটিজেনদের স্পষ্ট অভিমত হলো, একজন মানুষের দৈনন্দিন আহারের ধরণ ও খাদ্য তালিকা সম্পূর্ণভাবে তাঁর ব্যক্তিগত রুচি, স্বাধীনতা ও একান্ত পছন্দের বিষয়। ধর্ম, জাত কিংবা ভৌগোলিক পরিচয়ের দোহাই দিয়ে কারও পছন্দনীয় খাদ্যাভ্যাসকে নিয়ন্ত্রণ করার অপচেষ্টা কিংবা কাউকে ব্যক্তিক্রমী আক্রমণ করা কোনো সুস্থ ও সভ্য সমাজের লক্ষণ হতে পারে না। ফলে সামাজিক মাধ্যমে একদল লোক যখন এই অভিনেতাকে তোপ দাগছেন, তখন অন্য আরেকটি চিন্তাশীল অংশ তাঁর এই স্বাধীন মতামত প্রকাশকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করে বাকস্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত রুচির অধিকারের পক্ষে জোরালো মন্তব্য প্রকাশ করছেন।
উল্লেখ্য যে, ওপার বাংলার বিনোদন জগতের নামীদামী তারকাদের নিয়ে খাদ্য সম্পর্কিত বিতর্কের এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এবারই প্রথম নয়। এর পূর্বেও ভারতের জনপ্রিয় পরিচিত টেলিভিশন উপস্থাপিকা ও প্রখ্যাত রন্ধনশিল্পী সুদীপা চট্টোপাধ্যায়ের বাংলাদেশের রান্না ও স্থানীয় খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কিত একটি ভিডিও সাক্ষাৎকার ঘিরে একই ধরনের তীব্র বিতর্ক, সমালোচনা ও বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। সেই সময়কার ঘটনাতেও দুই বাংলার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দীর্ঘকাল ধরে নানা তাত্ত্বিক বাকযুদ্ধ ও চরম প্রতিবাদ প্রত্যক্ষ করা গিয়েছিল। এবার বর্ষীয়ান ও সম্মানিত অভিনেতা বিশ্বজিৎ চক্রবর্তীর গরুর মাংস প্রীতির এই খোলামেলা স্বীকারোক্তি সেই পুরোনো খাদ্যকেন্দ্রিক সংবেদনশীল বিতর্ককে আবার নতুন করে নেটিজেনদের মাঝে উসকে দিল।
বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে তারকাদের যে কোনো সাধারণ বক্তব্য কিংবা ব্যক্তিগত অভিমত অতি দ্রুত জনসমক্ষে ছড়িয়ে পড়ে বড় ধরনের সামাজিক প্রতিক্রিয়া তৈরি করার সুযোগ সৃষ্টি করে। তবে এই চলমান অনলাইন বিতর্ক ও চরম সমালোচনা প্রসঙ্গে অভিনেতা বিশ্বজিৎ চক্রবর্তীর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত নতুন করে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া কিংবা স্পষ্টীকরণ বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশে তাঁর নির্ধারিত শুটিংয়ের কাজে কোনো প্রকার ব্যাঘাত না ঘটিয়ে তিনি নিজের পেশাগত ব্যস্ততার দিকেই মনোনিবেশ করছেন বলে সংশ্লিষ্ট প্রযোজনা সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। সীমানার প্রাচীর পেরিয়ে শিল্পী ও সংস্কৃতির এই মেলবন্ধনে আহার কেন্দ্রিক তর্ক-বিতর্ক বিনোদন অঙ্গনে এক নতুন সামাজিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সূত্র: বিনোদন সংবাদ ও সামাজিক মাধ্যম।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।