কাজিপুরে পৃথক অভিযানে বিপুল গাঁজা ও ইয়াবাসহ নারীসহ গ্রেপ্তার ৩

কাজিপুরে পৃথক অভিযানে বিপুল গাঁজা ও ইয়াবাসহ নারীসহ গ্রেপ্তার ৩
ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদন / শাহজাদপুর, সিরাজগঞ্জ / দিগন্ত বাংলা নিউজ

সিরাজগঞ্জ জেলার যমুনা নদীবেষ্টিত কাজিপুর উপজেলাকে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা করতে এবং যুবসমাজকে সর্বনাশা নেশার অন্ধকার জগত থেকে বাঁচাতে বিশেষ সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে স্থানীয় থানা পুলিশ। উপজেলার প্রত্যন্ত জনপদে সামাজিক শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দিনব্যাপী পৃথক দুটি সফল মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়। কাজিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আব্দুর রাজ্জাকের প্রত্যক্ষ নেতৃত্ব ও নির্দেশনায় পরিচালিত পুলিশের চৌকস টিমের এই অভিযানে ২ কেজি ৭৫ গ্রাম গাঁজা ও ২১ পিস ক্ষতিকর উত্তেজক ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। একই সাথে নিষিদ্ধ মাদক মজুত, বিপণন ও কেনাবেচার অপরাধে এক নারীসহ সক্রিয় তিন মাদক ব্যবসায়ীকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের এমন সময়োপযোগী পদক্ষেপে স্থানীয় পর্যায়ে সক্রিয় মাদক সিন্ডিকেটের অপতৎপরতায় বড় ধরনের আঘাত হানা সম্ভব হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মনে গভীর স্বস্তি ফিরে এসেছে।

আরও পড়ুন: কামারখন্দে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত কারিগর, নিরাপত্তায় হটলাইন চালু পুলিশের

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রথম সুনির্দিষ্ট অভিযানটি পরিচালিত হয় কাজিপুর থানার পাঁচগাছি চরপাড়া এলাকায়। সেখানে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী এনামুল হকের বসতবাড়িতে নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্যের একটি বড় চালান মজুত রাখা হয়েছে—এমন বিশ্বস্ত তথ্যের ভিত্তিতে কাজিপুর থানা পুলিশের একটি আভিযানিক দল তাৎক্ষণিকভাবে বাড়িটি ঘিরে ফেলে। পুলিশের উপস্থিতি আঁচ করতে পেরে অপরাধীরা সতর্ক হওয়ার চেষ্টা করলেও অভিযানিক দল দ্রুত বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে তল্লাশি শুরু করে। এ সময় এনামুল হকের ছেলে মাদক ব্যবসায়ী মোঃ শাফিউল ইসলাম ও স্ত্রী মোসা. কল্পনা খাতুনের হেফাজত থেকে ২ কেজি ৭৫ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের দুজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক পরিমণ্ডলের আড়ালে নিজেদের বসতবাড়িকে মাদকের মজুতকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করে আসছিল চক্রটি।

অপর একটি অভিযানে উপজেলার সোনামুখী এলাকায় চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী মোঃ আব্দুর রাজ্জাকের বসতবাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ সদস্যরা সোনামুখী এলাকায় অভিযান চালিয়ে আব্দুর রাজ্জাকের বসতবাড়ি ঘেরাও করেন। এ সময় তার শয়নকক্ষ থেকে তার হেফাজতে থাকা ২১ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে গ্রেফতার করা হয়। স্থানীয় পর্যায়ে অনুসন্ধান করে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে চতুরতার সাথে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে আব্দুর রাজ্জাক বিভিন্ন স্থান থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে স্থানীয় যুবকদের কাছে বিক্রি করে আসছিলেন। তাঁর গ্রেফতারের খবরে এলাকার সাধারণ অধিবাসীদের মাঝে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফিরে এসেছে।

আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে ফেরার পথে কাভার্ডভ্যান-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে নিহত ৪

আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তা বিধানে পুলিশ জানায়, পৃথক দুটি ঘটনায় গ্রেফতার তিনজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার পর তাদের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। কাজিপুর থানা পুলিশ জানায়, মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং মাদক ব্যবসা ও মাদক সেবনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মাদকের সঙ্গে জড়িত যে কোনো ব্যক্তি যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসন কোনো প্রকার শৈথিল্য প্রদর্শন করবে না বলে পুলিশ কর্মকর্তারা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

নদীভাঙনকবলিত চরাঞ্চল অধ্যুষিত কাজিপুরে মাদক নির্মূলে পুলিশের এই জোরালো ভূমিকাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় শিক্ষক, অভিভাবক, সুশীল সমাজ ও তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিরা। স্থানীয় বিশিষ্টজনদের অভিমত, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নৈতিক অবক্ষয় থেকে রক্ষা করতে হলে মাদকের প্রবেশপথ সম্পূর্ণ রুদ্ধ করতে হবে। কাজিপুরের প্রত্যন্ত চরাঞ্চলের ভৌগোলিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে যাতে কোনো চক্র মাদকের নিরাপদ রুট গড়ে তুলতে না পারে, সেজন্য পুলিশি টহলের পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলাও জরুরি। একই সঙ্গে মাদকমুক্ত শান্তিপূর্ণ সমাজ বিনির্মাণে প্রতিটি নাগরিককে তথ্য দিয়ে পুলিশ প্রশাসনকে সহযোগিতা করার জোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

সূত্র: কাজিপুর থানা পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী বিবরণ।

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন