কাজিপুর প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জ / দিগন্ত বাংলা নিউজ
দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জনসাধারণের সাংবিধানিক গণতান্ত্রিক অধিকার সুরক্ষা এবং গণমানুষের বিভিন্ন ন্যায্য দাবি আদায়ের ধারাবাহিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে এক বিশেষ ও তাৎপর্যপূর্ণ প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর শনিবার দলটির ঘোষিত ঐতিহাসিক ‘ঢাকা টু রংপুর লংমার্চ’ কর্মসূচি সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক, সুশৃঙ্খল ও কার্যকরভাবে সফল করার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যকে সামনে রেখে স্থানীয় পর্যায়ে এই সুপরিকল্পিত আয়োজন করা হয়। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকাল ৭টায় সিরাজগঞ্জ পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্র দরগাহ রোডস্থ জেলা জামায়াতের নিজস্ব কার্যালয়ে অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ ও দায়িত্বশীল পরিবেশে এই বিশেষ প্রস্তুতি সভার সূচনা হয়। উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার ও প্রধান ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে পরিচিত সিরাজগঞ্জ জেলার ওপর দিয়ে এই বিশাল লংমার্চের মূল বহর অতিক্রম করবে বিধায় সিরাজগঞ্জ জেলা জামায়াতের সাংগঠনিক প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্ববহ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: কাজিপুরে পৃথক অভিযানে বিপুল গাঁজা ও ইয়াবাসহ নারীসহ গ্রেপ্তার ৩
উক্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও সিরাজগঞ্জ জেলা আমীর আলহাজ্ব মাওলানা শাহিনুর আলম। পুরো সভার সার্বিক সঞ্চালনা ও কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করেন জেলা সেক্রেটারি জননেতা মুহাম্মাদ জাহিদুল ইসলাম। সভায় লংমার্চ কর্মসূচির রুট ব্যবস্থাপনা, কাফেলাগুলোর সুশৃঙ্খল চলাচল, ট্রাফিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা, জরুরি প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা এবং সড়কপথে সার্বিক নিরাপত্তা তদারকির জন্য দায়িত্বশীল স্বেচ্ছাসেবক দল গঠনের বিষয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনা করা হয়। লংমার্চের দিন জাতীয় মহাসড়কগুলোতে যাতে সাধারণ যাত্রী ও পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচলে কোনো প্রকার অনাকাঙ্ক্ষিত অচলাবস্থা তৈরি না হয় এবং অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে গণতান্ত্রিক দাবি-দাওয়া তুলে ধরা যায়, সে বিষয়ে জেলা নেতৃবৃন্দ বিস্তারিত কর্মপন্থা নির্ধারণ করেন।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও সিরাজগঞ্জ জেলা আমীর মাওলানা শাহিনুর আলম বলেন, জনগণের ন্যায্য দাবি আদায়ে জেলাবাসী ও সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের প্রতি এই লংমার্চ সফল করতে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন। সকল রাজনৈতিক দল, সরকার, সিভিল প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, ট্রাফিক বিভাগ, সড়ক বিভাগসহ সকল মহলের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। তিনি তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করে তুলে ধরেন যে, এই লংমার্চ কোনো বিশেষ দল বা গোষ্ঠীর সংকীর্ণ স্বার্থে নয়, বরং দেশের আপামর মেহনতি মানুষের মৌলিক অধিকার ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার একটি শান্তিপূর্ণ আন্দোলন। তাই রাজনৈতিক মতভিন্নতা অতিক্রম করে দেশের সামগ্রিক স্বার্থে প্রতিটি সচেতন নাগরিককে এই নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচির প্রতি নৈতিক সমর্থন ও সহযোগিতা প্রদানের আহ্বান জানান তিনি। একই সাথে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা পরিহার করে জাতীয় সম্পদ সুরক্ষায় সকলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের তাগিদ দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: সিরাজগঞ্জে যমুনা নদী থেকে অজ্ঞাত কিশোরের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার
প্রস্তুতি সভায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দের সক্রিয় অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও সিরাজগঞ্জ জেলা নায়েবে আমীর আলহাজ্ব অধ্যক্ষ আলী আলম, মাওলানা আব্দুস সালাম, জেলা সহকারী সেক্রেটারি শহিদুল ইসলাম, অধ্যাপক মাওলানা নাসির উদ্দীন,জেলা কর্মপরিষদ সদস্যবৃন্দ ও জেলার সকল উপজেলা/থানা আমীর-সেক্রেটারিবৃন্দ। সভায় উপস্থিত প্রতিটি উপজেলা ও থানার আমীর-সেক্রেটারিগণ লংমার্চ বাস্তবায়নে স্ব স্ব এলাকার তৃণমূল পর্যায়ের সাংগঠনিক প্রস্তুতি সম্পর্কে জেলা নেতৃত্বকে অবহিত করেন এবং প্রতিটি জনপদ থেকে সুশৃঙ্খলভাবে গণমানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা জানান যে, এই কর্মসূচিকে ঘিরে ইতিমধ্যে সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক কৌতূহল ও ইতিবাচক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
ভৌগোলিক বাস্তবতায় সিরাজগঞ্জ জেলা রাজধানী ঢাকার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের ১৬টি জেলার যোগাযোগের মূল সেতুবন্ধন হিসেবে দায়িত্ব পালন করে। যমুনা সেতু অতিক্রম করে লংমার্চের মূল কাফেলা সিরাজগঞ্জের মহাসড়ক হয়ে বগুড়া ও রংপুরের দিকে অগ্রসর হবে। ফলে এই দীর্ঘ মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর কাজের সুবিধার্থে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক কার্যকর যোগাযোগ রক্ষার ওপর সভায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন যে, উসকানি এড়িয়ে সম্পূর্ণ অহিংস ও নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় জনগণের ন্যায্য দাবি জাতীয় পরিমণ্ডলে তুলে ধরাই এই লংমার্চের প্রধানতম উদ্দেশ্য।
সভা শেষে দেশ, জাতি এবং মুসলিম উম্মাহর সার্বিক কল্যাণ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। সিরাজগঞ্জ জেলা জামায়াতের এই সমন্বিত প্রস্তুতি সভার মধ্য দিয়ে লংমার্চ সফলের মাঠপর্যায়ের গণসংযোগ ও প্রচারণায় নতুন গতি সঞ্চারিত হয়েছে। আগামী ১৯ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে জেলার প্রতিটি স্তরে শান্তিপূর্ণ প্রচার অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে দলীয় সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।
সূত্র: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সিরাজগঞ্জ জেলা শাখা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।