প্রতিবেদন: আব্দুস ছাত্তার (শামীম) / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ
রাজধানীর দক্ষিণ উপকণ্ঠ কদমতলী থানাধীন শনিরআখড়া নূরপুর এলাকায় জমিজমা সংক্রান্ত পুঞ্জীভূত শত্রুতার জের ধরে এক অত্যন্ত ভয়াবহ ও রোমহর্ষক সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। পাঁচই সেপ্টেম্বর শনিবার রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তদের একটি সংঘবদ্ধ দল আকস্মিকভাবে স্থানীয় এক ব্যবসায়ীর প্রতিষ্ঠানে চড়াও হয়ে অহেতুক ও অনবরত গুলিবর্ষণ করে। আকস্মিক এই সশস্র হামলায় মেসার্স লাকি ক্রোকারিজ নামের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মো. আসলাম খান নামের এক ব্যবসায়ী মারাত্মকভাবে গুলিবিদ্ধ ও রক্তাক্ত হন। ব্যস্ততম এই বাণিজ্যিক এলাকায় হঠাৎ আগ্নেয়াস্ত্রের বিকট গর্জন ও ক্রমাগত গুলিবর্ষণের ঘটনায় পুরো নূরপুর ও আশপাশের এলাকা জুড়ে চরম আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে। তবে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীরা নিজেদের জীবন বাজি রেখে সাহসিকতার পরিচয় দিলে ঘটনাস্থল থেকে এক হামলাকারীকে হাতেনাতে আটক করা সম্ভব হয়।
অনুসন্ধান ও মামলার নথি সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আসলাম খানের সাথে সম্পত্তি ও জমিজমা সংক্রান্ত সীমানা বিরোধ নিয়ে একটি চক্রের দীর্ঘদিন ধরে চরম অস্থিতিশীলতা ও শত্রুতা চলে আসছিল। উক্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষ আসলাম খানকে নানাভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও কোণঠাসা করার পরিকল্পনা করে। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার রাতে ঘটনার সময় চার থেকে পাঁচজনের একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী পূর্বপরিকল্পিতভাবে মারাত্মক আগ্নেয়াস্ত্রে সজ্জিত হয়ে শনিরআখড়ার নূরপুরস্থ মেসার্স লাকি ক্রোকারিজ দোকানে চড়াও হয়। সন্ত্রাসীরা দোকানে প্রবেশ করা মাত্রই কোনো প্রকার বাকবিতণ্ডা ছাড়াই আসলাম খানকে উদ্দেশ্য করে সাথে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র থেকে একের পর এক গুলিবর্ষণ শুরু করে।
খুব কাছ থেকে চালানো এই গুলিবর্ষণে একটি গুলি আসলাম খানের ডান চোয়ালে এবং অপর একটি গুলি তার বাম হাতের বাহুতে সশব্দে বিদ্ধ হয়। তীব্র আঘাত ও গুলির টানে মুহূর্তের মধ্যে রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি মাটিতে ঢলে পড়েন। গুলির বিকট শব্দে আশপাশের কেনাকাটা করতে আসা সাধারণ মানুষ ও অন্যান্য দোকানদারদের মধ্যে চরম হুড়োহুড়ি লেগে যায়। তবে আসলাম খানের জীবন বাঁচাতে স্থানীয় কতিপয় সাহসী অধিবাসী দ্রুত এগিয়ে আসেন এবং তাকে রক্তাপ্লুত অবস্থায় উদ্ধার করে অবিলম্বে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আরও পড়ুন: মসজিদে জমি না দেওয়ায় মুক্তাগাছায় কৃষক পরিবারকে একঘরে রাখার অভিযোগ
অন্যদিকে প্রকাশ্যে এই গোলাগুলির ঘটনায় স্থানীয় অধিবাসীরা প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং একযোগে ধাওয়া করে সন্ত্রাসীদের অবরুদ্ধ করার চেষ্টা চালান। জনরোষের মুখে পড়ে সন্ত্রাসীরা ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও স্থানীয় জনতা সাহসিকতার সাথে ধাওয়া করে এক সন্ত্রাসীকে অস্ত্রসহ ধরে ফেলেন। তার সাথে থাকা বাকি সহযোগীরা দ্রুত সটকে পড়ে অন্ধকার গলির ভেতরে আত্মগোপন করে। ক্রুদ্ধ জনতা আটককৃত ব্যক্তিকে ঘেরাও করে রাখে এবং অপরাধের গুরুত্ব অনুধাবন করে অনতিবিলম্বে পুলিশি সহায়তার জন্য জরুরি সেবা সংস্থাকে অবহিত করে।
ঘটনাস্থলে অবস্থানরত এক সচেতন নাগরিক কালবিলম্ব না করে সরকারি 'জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯' নম্বরে ফোন করে শনিরআখড়া নূরপুর এলাকায় ঘটে যাওয়া তাণ্ডব ও জনতা কর্তৃক এক সন্ত্রাসীকে আটকে রাখার খবর জানান। ফোনকল পাওয়ার সাথে সাথে ৯৯৯-এর কলটেকার কনস্টেবল পিয়াস চন্দ্র পাল অত্যন্ত পেশাদারিত্ব ও বিচক্ষণতার সাথে প্রাথমিক সকল তথ্য সংগ্রহ করেন। একই সাথে ঘটনার সংবেদনশীলতা বিবেচনা করে ৯৯৯ পুলিশ ডিসপাচার এএসআই কাজল ভূঁইয়া দ্রুত কদমতলী থানায় বিষয়টি জানান এবং ফিল্ড লেভেলের উদ্ধারকারী পুলিশ টিমের সাথে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ও তদারকি বজায় রাখেন।
জাতীয় জরুরি সেবার বার্তা পাওয়ার সাথে সাথেই কদমতলী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অশেষ কুমার সরকার সঙ্গীয় চৌকস পুলিশ ফোর্স নিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নূরপুরস্থ দুর্ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। সেখানে পৌঁছে পুলিশ সদস্যরা জনতাকে শান্ত করেন এবং অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে অস্ত্রধারী ওই সন্ত্রাসীকে নিজেদের আইনি হেফাজতে গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে পুলিশ উক্ত ব্যক্তির দেহে তল্লাশি চালিয়ে একটি বিদেশী পিস্তল, একটি রিভলবার, ৯ রাউন্ড তাজা গুলি এবং অপরাধস্থলে ব্যবহৃত ৩ রাউন্ড গুলির খোসা উদ্ধার ও জব্দ করে।
গ্রেফতারকৃত এই দুর্ধর্ষ ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ। আটককৃত আসামির নাম মো. মনজুরুল ইসলাম। তিনি শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া থানার ইছাপাশা গ্রামের মৃত শুক্কুর আলী বেপারীর ছেলে। বর্তমানে তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন মৌচাক সানারপাড় এলাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করছিলেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি স্বীকার করেছে যে জমি সংক্রান্ত শত্রুতার জেরেই তারা অস্ত্রসহ এই প্রাণঘাতী আক্রমণ চালিয়েছিল। এই ঘটনায় কদমতলী থানায় অস্ত্র আইন ও মারামারির সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে এবং পলাতক আসামিদের গ্রেফতার করতে পুলিশের চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নিউজ এর সূত্র: কদমতলী থানা পুলিশ ও জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।